ঢাকা, সোমবার,২৩ অক্টোবর ২০১৭

চট্টগ্রাম

কাপ্তাই হ্রদের ঝুলন্ত ব্রিজ পানির নিচে

রাঙ্গামাটি সংবাদদাতা

১২ আগস্ট ২০১৭,শনিবার, ১৬:৫৩


প্রিন্ট
কাপ্তাই ঝুলন্ত ব্রিজ। আজ শনিবার সকালে তোলা ছবি।

কাপ্তাই ঝুলন্ত ব্রিজ। আজ শনিবার সকালে তোলা ছবি।

গত দুই দিনের ভারী বর্ষণে রাঙ্গামাটির কাপ্তাই হ্রদের পানির উচ্চতা বেড়ে যাওয়ায় পর্যটনের ঝুলন্ত ব্রিজটি পানিতে তলিয়ে গেছে।

রাঙ্গামাটি পর্যটন কর্পোরেশন ব্যবস্থাপক আলোকময় চাকমা জানান, কাপ্তাই হ্রদের পানি বেড়ে ঝুলন্ত ব্রিজ ডুবে ঝুকিপূর্ণ হয়ে গেছে। ফলে পর্যটকদের জন্য ব্রিজ পারাপার বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।

এদিকে বাঘাইছড়ি উপজেলার কাচালং নদীর পানি প্রবাহ বেড়ে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। পৌর এলাকাসহ বাঘাইছড়ির পাঁচটি গ্রাম প্লাবিত হওয়ায় প্রায় দেড় হাজার লোককে আটটি আশ্রয় কেন্দ্রে সরিয়ে নিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। কাপ্তাই হ্রদের পানির উচ্চতা কমায় কাপ্তাই বাঁধের ১৬টি স্পিলওয়ে খুলে দিয়ে ৩৬ হাজার কিউসেক পানি ছেড়ে দেয়া হচ্ছে।

গত দুই দিনের টানা বর্ষণে ও পাহাড়ি ঢলে কাচালং নদীর পানি বেড়ে বাঘাইছড়ির নিম্নাঞ্চল ব্যাপকভাবে প্লাবিত হয়েছে। এতে পাঁচটি গ্রামের ঘরবাড়ি পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে। প্রায় দেড় হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। তাদের আশ্রয় কেন্দ্র সরিয়ে নিয়ে শুকনো খাবার সরবরাহ করছে উপজেল প্রশাসন।

রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মানজারুল মান্নান জানান, বাঘাইছড়ির দুর্গত লোকদের জন্য তাৎক্ষণিকভাবে ১৫ মেট্টিক চাল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এছাড়া উপজেলা প্রশাসন শুকনো খাবার বিতরণ করছে।

তিনি জানান, কাপ্তাই হ্রদের তলদেশ ভরাট হয়ে যাওয়ায় এবার পানির উচ্চতা অন্যান্য বারের চেয়ে বেশি। পরিস্থিতি সামাল দিতে কাপ্তাই বাঁধ দিয়ে পানি ছেড়ে দেয়া হচ্ছে।

এদিকে অতিবর্ষণের ফলে পাহাড় ধসের আশংকায় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সতকর্তা জারি করা হয়েছে। পাহাড়ের ঝুকিপূর্ণ এলাকা থেকে মানুষ সরে আসছে।

জেলা প্রশাসনের নির্দিশনা জারির পর পৌরসভার কাউন্সিলারগণ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে লোকজনকে সরিয়ে স্থানীয় আশ্রয়কেন্দ্রে জড়ো করেছেন।

কাপ্তাই পাওয়ার হাউজের ব্যবস্থাপক শফিউদ্দিন জানান, গত দুই দিনের ভারী বর্ষণে কাপ্তাই হ্রদের পানি উচ্চতা বৃদ্ধি পেয়েছে। হ্রদের পানির উচ্চতা স্বাভাবিক রাখতে কাপ্তাই বাঁধের ১৬টি স্পিলওয়ের দুই ফুট উচ্চতা খুলে দিয়ে ৩৬ হাজার কিউসেক পানি ছেড়ে দেয়া হচ্ছে। বর্তমানে কাপ্তাই হ্রদের পানির উচ্চতা রয়েছে ১০৭ এসএসএল-এ। এ সময়ে হ্রদের পানির উচ্চতা থাকার কথা ছিলো ৯২ দশমিক পাঁচ এমএসএল-এ।

ভারী বর্ষণ অব্যাহত থাকায় রাঙ্গামাটি-চট্টগ্রাম সড়কের বিভিন্ন স্থানে পাহাড় ধসে রাস্তায় মাটি নামায় যানবাহনে স্বাভাবিক চলাচল বিঘ্নিত হচ্ছে।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫