কার্তিকচন্দ্র দাস
কার্তিকচন্দ্র দাস

মাস্টার্স পাস প্রতিবন্ধী কার্তিক দাস এখন ডিজিটাল উদ্যোক্তা

মনিরামপুর (যশোর) সংবাদদাতা

মাস্টার্স পাস করার চার বছর পর ডিজিটাল সেন্টারে উদ্যোক্তা পদে চাকরি পেলেন মণিরামপুরের শারীরিক প্রতিবন্ধী কার্তিকচন্দ্র দাস। তিনি উপজেলার দহকুলা গ্রামের রামপদ দাসের ছেলে।

সমাজের অনগ্রসর নৃগোষ্ঠীর সন্তান হয়েও লেখাপড়ার প্রতি ছিল তার প্রবল আগ্রহ। তাই সংসারের অভাব-অনটন, শারীরিক প্রতিবন্ধিতাসহ নানা প্রতিকূলতাকে মোকাবেলা করে লেখাপড়া শিখে চাকরির জন্য একাধিক সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে আবেদন করেন তিনি। সরকারি প্রতিষ্ঠানে লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে মৌখিক পরীক্ষা দিয়েও এত দিন তার চাকরি মেলেনি। এর কারণ তার শারীরিক প্রতিবন্ধিতা বলেই মনে করেন তিনি। তবে সম্প্রতি কার্তিক দাস মনিরামপুর উপজেলা পরিষদের ডিজিটাল সেন্টারের উদ্যোক্তা হিসেবে কাজ পেয়েছেন।


গত বৃহস্পতিবার তার কর্মস্থলে গিয়ে দেখা যায়, উচ্চতায় মাত্র ৩৬ ইঞ্চি কার্তিক তার কর্মস্থলে কম্পিউটার নিয়ে কাজ করছেন। কথা হয় তার সাথে। তিনি বলেন, গত জুলাই মাসের ৫ তারিখে এখানে যোগদান করেছেন। শারীরিক প্রতিবন্ধিতার কারণে বেশি দূর হাঁটাচলা করতে পারেন না।

হুইল চেয়ারে বসেই তিনি নানা প্রতিকূলতাকে উপেক্ষা করে ২০০৩ সালে নিজ গ্রামের মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাস করেন। পরে ভর্তি হন মণিরামপুর ডিগ্রি কলেজে। সেখান থেকে এইচএসসি পাস করে একই কলেজে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে আনার্স পাস করেন। এরপর যশোর এমএম কলেজ থেকে একই বিষয়ে মাস্টার্স পাস করেন। 


অনার্স পড়াকালীন সংসারের অভাব ঘোচাতে বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানে কম্পিউটার অপারেটর পদে চাকরির আবেদন করে লিখিত পরীক্ষায় পাস করেও চাকরি হয়নি কার্তিকের। এরপর মাস্টার্স পাসের পর চাকরির জন্য সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে একাধিকবার আবেদন করে চাকরির জন্য। কিন্তু মেলেনি। ডিজিটাল সেন্টারে উদ্যোক্তা হিসেবে চাকরি পেলেও মাসিক কোনো বেতনভাতা তিনি পাবেন না। এখানে কাজ করেই তাকে রোজগার করতে হবে। মনে কষ্ট থাকলেও তার সান্ত্বনা একটা চাকরি তো পেয়েছেন!

তার এখন একটাই চাওয়া দ্রুত যদি তাদের মতো উদ্যোক্তাদের রাজস্ব খাতে নেয়া হয় তাহলে পরিবারে কিছুটা হলেও সচ্ছলতা আনতে পারবেন।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.