ঢাকা, সোমবার,১৮ ডিসেম্বর ২০১৭

চট্টগ্রাম

ভারী বর্ষণে বান্দরবানে পাহাড় ধসের আশঙ্কা

বাসস

১২ আগস্ট ২০১৭,শনিবার, ১৪:৩২ | আপডেট: ১২ আগস্ট ২০১৭,শনিবার, ১৪:৪২


প্রিন্ট
ভারী বর্ষণের কারণে বান্দরবান-রুমা সড়কে পাহাড় ধসে মাটিতে সয়লাব

ভারী বর্ষণের কারণে বান্দরবান-রুমা সড়কে পাহাড় ধসে মাটিতে সয়লাব

বান্দরবানে গত ২৪ ঘণ্টার ভারী বর্ষণে পাহাড়ি ঢলে আবারো ভয়াবহ বন্যা ও পাহাড় ধসের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। জেলা ও উপজেলা সদরে পৌর কর্তৃপক্ষ এবং প্রশাসনের উদ্যোগে শুক্রবার রাত থেকে দফায় দফায় মাইকিং করে পাহাড়ের পাদদেশে বা উঁচু-নিচু এলাকায় বসবাসরত পরিবারগুলোকে সতর্ক থাকার এবং দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যেতে নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে।

ভারী বর্ষণের কারণে বান্দরবান-রুমা সড়কের দৌলিয়ান পাড়া এলাকায় আবারো পাহাড় ধসে মাটিতে সয়লাব হয়ে পড়েছে সড়কপথ। ফলে শনিবার ভোর থেকে নিরাপত্তা জনিত কারণে রুমা উপজেলার সাথে বান্দরবান জেলা সদরের মধ্যে যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।

ভারী বর্ষণে পাহাড়ি ঢলের পানিতে জেলার নিচু এলাকাসমুহ প্লবিত হয়েছে। সাংগু ও মাতামুহুরী নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে।

কৃষিক্ষেত্রে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন জুমচাষি ও স্থানীয় কৃষকরা।

শনিবার রাত পর্যন্ত ভারী বর্ষণ অব্যাহত থাকলে জেলায় সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে বলে জনপ্রতিনিধি এবং প্রশাসন কর্মকর্তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।

বান্দরবান পৌর মেয়র ইসলাম বেবী ও লামা পৌর মেয়র জহিরুল ইসলাম জানিয়েছেন, সম্ভাব্য বন্যা পরিস্থিতি সামাল দিতে সবরকমের প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। বান্দরবান ও লামা শহরে ১৫টি অস্থায়ী বন্যা আশ্রয় কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা বলেন, বন্যাদুর্গত বা দুর্যোগকালীন সময়ে প্রয়োজনীয় ত্রাণ সহায়তা প্রদানে প্রশাসন প্রস্তুতি নিয়েছে।

বৃষ্টি ঝরবে কতদিন?
বাংলাদেশের আকাশে মওসুমি বায়ু বেশ সক্রিয়। বৃষ্টির পরিমাণও বেড়েছে আগের চেয়ে বেশি। নদীতে পানির স্তরও ওপরের দিকে। পানি উন্নয়ন বোর্ড পর্যবেক্ষণ করে এমন নদীর ৮০টি পয়েন্টে গতকাল পানি বেড়েছে এবং পানি কমেছে মাত্র ১০ পয়েন্টে।

পানি বৃদ্ধির এ প্রবণতা ইঙ্গিত দিচ্ছে সামনের কয়েক দিন পানি বাড়বে। এ ছাড়া সারা দেশের বড় নদীর মধ্যে যমুনা, ব্রহ্মপুত্র, পদ্মা, সুরমা নদীর পানি বেড়েছে। এসব নদীর পানি এ সপ্তাহের পুরো সময় ধরেই বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যার পূর্বাভাস ও সতর্ক কেন্দ্রের প্রকৌশলীরা জানিয়েছেন, অভ্যন্তরীণ বর্ষণ এবং সীমান্তের ওপারের ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলের বর্ষণের পানি নামছে ধীরে ধীরে। সীমান্তের ওপারের পানি বাংলাদেশের উল্লেখিত নদীগুলো দিয়ে নেমে আসছে এবং তা অব্যাহত থাকতে পারে। ফলে নদীর পানি বৃদ্ধির পাশাপাশি এসব নদীর তীরবর্তী এলাকায় বন্যারও আশঙ্কা রয়েছে।

আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, বাংলাদেশের আকাশে মৌসুমি বায়ু বেশ সক্রিয় অবস্থায় রয়েছে। ফলে দেশের বিভিন্ন স্থানে গত সপ্তাহজুড়েই মাঝারি ধরনের বর্ষণ হয়েছে। কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে ভারী বর্ষণও হয়েছে।

চলতি সপ্তাহজুড়ে বাংলাদেশের আবহাওয়া এরকমই থাকতে পারে। হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বর্ষণ থাকবে। তবে কোথাও কোথাও ভারী বর্ষণও হতে পারে।

আবহাওয়া অফিসের রিপোর্ট অনুযায়ী গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যা ৬ট পর্যন্ত পূর্ববর্তী ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রাম ও রংপুর বিভাগে প্রচুর বৃষ্টি হয়েছে। সবচেয়ে বেশি বৃষ্টি হয়েছে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড এলাকায়। এখানে রেকর্ড করা বৃষ্টির পরিমাণ ২২৮ মিলিমিটার। চট্টগ্রামের ১৩০ মিলিমিটার, রাঙ্গামাটিতে ২২৫ মিলিমিটার, হাতিয়ায় ৮৩ মিলিমিটার, কুমিল্লায় ৮১ মিলিমিটার।

গতকাল রংপুর বিভাগের সর্বত্র ভারী বর্ষণ হয়েছে।

আবহাওয়া দফতরের রেকর্ড অনুযায়ী সবচেয়ে বেশি বৃষ্টি হয়েছে ডিমলায় ১৮৯ মিলিমিটার। এরপর তেঁতুলিয়ায় ১৬৯ মিলিমিটার, রংপুরে ১২২ মিলিমিটার, সৈয়দপুরে ১০৭ মিলিমিটার, রাজারহাটে ৮২ মিলিমিটার এবং দিনাজপুরে ৬০ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। এ ছাড়া দেশের অন্যত্র ৫০ থেকে ১০০ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে।

 

 

অন্যান্য সংবাদ

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫