ঢাকা, বুধবার,১৩ ডিসেম্বর ২০১৭

বিবিধ

উত্তর কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের বাগযুদ্ধ : উদ্বিগ্ন বিশ্বনেতারা

নয়া দিগন্ত অনলাইন

১২ আগস্ট ২০১৭,শনিবার, ১০:৩৯ | আপডেট: ১২ আগস্ট ২০১৭,শনিবার, ১০:৫০


প্রিন্ট
উত্তর কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের কথার লড়াই পরিস্থিতিকে আরো অশান্ত করে তুলবে

উত্তর কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের কথার লড়াই পরিস্থিতিকে আরো অশান্ত করে তুলবে

অত্যন্ত তপ্ত হয়ে আছে যুক্তরাষ্ট্র ও উত্তর কোরিয়া পরিস্থিতি। দুই দেশের মধ্যে এখন যে কথার লড়াই চলছে, তাতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিশ্বনেতারা।

তারা আশঙ্কা করছেন এই কথার লড়াই পরিস্থিতিকে আরো অশান্ত করে তুলবে।

কিন্তু তাতে কোনো তরফেরই থামবার লক্ষণ নেই।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প উত্তর কোরিয়ার উদ্দেশ্যে বাক্যবাণ অব্যাহত রেখেছেন এবং যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের উপর সামরিক হামলা চালানোর ব্যাপারে আবারো পিয়ংইয়ংকে সতর্ক করে দিয়েছেন।

এর আগে, যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী "গুলি ভরা বন্দুকের মতই সতর্ক আছে" এমন বক্তব্য দিয়ে বেশ একটা শোরগোল ফেলে দেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প, যে বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় উত্তর কোরিয়া অভিযোগ করে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প পরিস্থিতিকে একটি পারমাণবিক যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যাচ্ছেন।

এবার নিউইজার্সিতে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, তিনি তার আগের ওই বক্তব্যে অটল রয়েছেন।

তিনি বলেন, "আমরা খুব সতর্কতার সাথে পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছি। আমি আশা করছি তারা (উত্তর কোরিয়া) আমার কথার মাধ্যমে পরিস্থিতির গুরুত্ব সম্পূর্ণ রূপে অনুধাবন করতে পেরেছে। আমাকে বিশ্বাস করুন, এই লোক যা করছে, তাতে সে পার পাবে না।"

দুই দেশের এই কথার লড়াইয়ে এরই মধ্যে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিশ্বের শক্তিশালী দেশগুলোর নেতারা।

রাশিয়া মনে করছে, এর ফলে পরিস্থিতি আরো খারাপের দিকে যাওয়ার মারাত্মক ঝুঁকি তৈয়ার হয়েছে।

রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ বলেন, "পরিস্থিতি যখন এমন দাঁড়ায় যে যেকোনো সময় বিস্ফোরণ ঘটবে, তখন, আমি মনে করি তখন পরিস্থিতি শান্ত করার প্রথম উদ্যোগটা নিতে হয় তাকে যিনি শক্তিশালী এবং চটপটে।"

ল্যাভরভ স্পষ্টতই এখানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি ইঙ্গিত করছেন শান্তি স্থাপনের প্রথম পদক্ষেপ নেয়ার জন্য।

জার্মান চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মেরকেল বলছেন, তিনি মনে করেন যে তীব্র কথার লড়াই চলছে সেটি তার দৃষ্টিতে ভুল জবাব।

উভয় পক্ষকেই শব্দ এবং বাক্য চয়নের ব্যাপারে সতর্ক হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে চীনও।

উত্তর কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার উত্তেজনা কমাতে পারে যোগাযোগ

উত্তর কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার উত্তেজনা প্রশমনের উপায় নিয়ে ভাবছেন বিশ্লেষকরা৷ কারণ যুক্তরাষ্ট্র ও উত্তর কোরিয়ার মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক না থাকায় কোনো এক পক্ষের নেয়া পদক্ষেপ যদি অন্যপক্ষ সঠিকভাবে বুঝতে না পেরে পাল্টা প্রতিক্রিয়া জানায় তাহলে ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা৷

বিশ্লেষকরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার কাছে অনেক পরমাণু অস্ত্র থাকলেও পরিস্থিতি যেন নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে না যায় সেজন্য ওয়াশিংটন ও মস্কোর মধ্যে হটলাইন, স্যাটেলাইট সহ নানান ব্যবস্থা চালু আছে৷ এমনকি ভারত ও পাকিস্তানও প্রতিবছর জানুয়ারিতে যার যার পরমাণু অস্ত্রের সংখ্যা এবং সেগুলো কোথায় আছে তা একে অন্যকে জানিয়ে থাকে৷ এর মাধ্যমে কোনো পক্ষ যেন ভুল করে কোনো পরমাণু স্থাপনায় হামলা না চালায় সেটি নিশ্চিত করা হয়েছে৷

কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র ও উত্তর কোরিয়ার মধ্যে এ ধরনের কোনো ব্যবস্থা না থাকায় চিন্তিত বিশ্লেষকরা৷ সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার একজন উপদেষ্টা জন ওল্ফসথাল রয়টার্সকে বলেছেন, ‘‘আমাদের মধ্যে (দুই দেশের মধ্যে) কিছু অ্যাডহক ও অ্যানালগ উপায়ে যোগাযোগের ব্যবস্থা আছে৷ কিন্তু সঙ্কট সমাধানে কার্যকর হতে পারে এমন পরীক্ষিত কোনো মাধ্যম নেই৷’’

জাতিসঙ্ঘে থাকা যুক্তরাষ্ট্র ও উত্তর কোরিয়ার মিশনের মাধ্যমে অনেক সময় দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগ হয়ে থাকে৷ এছাড়া বেইজিংয়ে দুই দেশের দূতাবাসের মাধ্যমেও যোগাযোগ হয়৷ আর দুই দেশের সামরিক কর্মকর্তাদের মধ্যে আলোচনা হয় পানমুনজমে৷ কোরীয় উপত্যকায় অবস্থিত এই স্থানেই ১৯৫০-৫৩ কোরীয় যুদ্ধের সময় যুদ্ধবিরতি চুক্তি সই হয়েছিল৷
এছাড়া চীন কিংবা সুইডেনের মাধ্যমেও কখনও কখনও যুক্তরাষ্ট্র উত্তর কোরিয়ার কাছে বার্তা পাঠিয়ে থাকে৷

উল্লেখ্য, ১৮৯৮ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্রের অংশ গুয়াম৷ তবে যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ড থেকে এটি অনেক দূরে অবস্থিত৷ তবে জাপান, কোরিয়া, ফিলিপাইন্স থেকে এটি কাছে৷ পিয়ংইয়ং থেকে গুয়ামের দূরত্ব প্রায় সাড়ে তিন হাজার কিলোমিটার৷ জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার পর্যটকরা গুয়ামে বেড়াতে যান৷

গুয়ামে জন্ম নেয়া শিশুরা মার্কিন নাগরিক হলেও তাদের ভোটাধিকার নেই৷

গুয়ামে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ ও বিমানঘাঁটি রয়েছে৷ প্রায় ছয় হাজার মেরিন সেনা সেখানে মোতায়েন রয়েছে৷ পঞ্চাশের দশকে কোরীয় যুদ্ধের সময় যুক্তরাষ্ট্র গুয়াম ঘাঁটি ব্যবহার করেছে৷ এছাড়া ভিয়েতনাম যুদ্ধের সময়ও গুয়ামের বিমানঘাঁটি বহুল ব্যবহৃত হয়েছে৷

 

 

অন্যান্য সংবাদ

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫