ঢাকা, বুধবার,১৩ ডিসেম্বর ২০১৭

ময়মনসিংহ

নেত্রকোনার ৫ আসন

আ’লীগে ঘুরেফিরে পুরনো মুখ বিএনপিতে নতুনের চমক

ফজলুল হক রোমান নেত্রকোনা

১২ আগস্ট ২০১৭,শনিবার, ০৭:০৩ | আপডেট: ১২ আগস্ট ২০১৭,শনিবার, ০৭:০৮


প্রিন্ট
সম্ভাব্য প্রার্থীরা

সম্ভাব্য প্রার্থীরা

১১তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নেত্রকোনায় ঝিমিয়ে পড়া রাজনৈতিক অঙ্গনে আবারো প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে। দীর্ঘ দিন ধরে কোণঠাসা হয়ে পড়া নেতাকর্মীরাও এখন সরব হয়ে উঠছেন। আর সম্ভাব্য প্রার্থীরা মনোনয়ন লাভে লবিং, গ্রুপিং, জনসংযোগ এবং কেন্দ্রে হাইকমান্ডদের কাছে ধরনা দিতে শুরু করেছেন। এ ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগ কিংবা বিএনপি কেউ পিছিয়ে নেই। আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থীরা মনে করছেন একবার দলীয় মনোনয়ন লাভ করতে পারলেই নিশ্চিত জয়। অন্য দিকে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীরা ভাবছেন আগামী নির্বাচনে বিএনপি অংশ নিলে চলমান পরিস্থিতিতে আওয়ামী লীগের প্রতি ক্ষুব্ধ ভোটাররা বিএনপি প্রার্থীদেরই বেছে নেবেন। দুই মেরুর দুই রকম ভাবনা থেকে জয়ের আশায় সবাই এখন উজ্জীবিত হয়ে নির্বাচনী মাঠ সরগরম করে তুুলছেন। মনোনয়নপ্রত্যাশীদের মধ্যে আওয়ামী লীগে ঘুরে ফিরে পুরনোদের আধিক্য আর বিএনপিতে নতুনের চমক পরিলক্ষিত হচ্ছে।


এতদিন যে সাধারণ ভোটাররা ছিলেন উপেক্ষিত, অবহেলিত, নেতা, এমপিদের দ্বারে দ্বারে ধরনা দিয়েও সাড়া না পেয়ে বিমুখ হয়ে ফিরে আসতে হয়েছে তাদের। ওই সব নেতারাই এখন হঠাৎ জনদরদি সেজে দ্বারে দ্বারে গিয়ে তাদের খোঁজখবর ও সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিচ্ছেন।

জনসংযোগ, বাড়ি বাড়ি উঠান বৈঠক, হ্যান্ডসেক, কোলাকুলি এমনকি বয়স্ক লোকদের কদমবুচি করতেও দ্বিধা করছেন না। গত ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের সময় ভোটাররা ছিলেন উপেক্ষিত। কেউ তাদের খোঁজখবর নেননি। কিন্তুসেই দৃশ্যপট এবার একেবারেই পাল্টে গেছে। এ রকম পরিস্থিতিতে ভোটাররাও পুলকিত। অনেকে এমন দিনের অপেক্ষায় ছিলেন। অনেকে এমন পরিস্থিতি দারুণ উপভোগ করছেন আবার অনেকে সুযোগ হাতছাড়া করতেও ভুলছেন না। যদিও এখন পর্যন্ত নির্বাচনের দিন তারিখ কিংবা তফশিলও ঘোষণা করা হয়নি। তাই বলে সম্ভাব্য প্রার্থীরা এখন আর থেমে নেই। ভোটারদের মন জয় ও কাছে টানতে যে যার মতো জনসংযোগ চালিয়ে মাঠ গোছাতে ব্যস্ত হয়ে উঠেছেন। মনোনয়ন নিশ্চিত করতে অনেকে কেন্দ্রে অবস্থান করে হাইকমান্ডের মন জয়ে সব ধরনের চেষ্টা, তদবির চালিয়ে যাচ্ছেন। আবার উভয় দলের কিছু নেতা রয়েছেন যারা নির্বাচন এলেই অকারণে নিজেদের সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা দিয়ে মিডিয়ায় কভারেজ পাবার আশায় সাংবাদিকদের কাছে ধরনা দেন। এবারো এর ব্যত্যয় ঘটেনি। কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ আর ভোটারদের দৃষ্টি আকর্ষণই তাদের লক্ষ্য। ওই সব মওসুমি নেতাদের কারণে অনেকে বিভ্রান্ত হয়ে পড়েন।


১৯৯১ সাল থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত জাতীয় সংসদে নেত্রকোনার পাঁচটি আসনের অবস্থান : সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের পতনের পর পুনঃগণতন্ত্রের যাত্রার প্রাক্কালে ’৯১ সালে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পাঁচটি আসনের মধ্যে বিএনপি ৩, আওয়ামী লীগ ২, ’৯৬ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ৩, বিএনপি ২, ২০০১ সালের নির্বাচনে বিএনপি ৪, আওয়ামী লীগ ১। ২০০৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ৫, বিএনপি ০ এবং ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির ভোটারবিহীন একতরফা নির্বাচনে পাঁচটির ৫টিই আওয়ামী লীগ।


আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীরা :
নেত্রকোনা-১ (দুর্গাপুর-কলমাকান্দা) আসনে আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়নপ্রত্যাশীদের মধ্যে রয়েছেন, সাবেক কমিউনিস্ট নেতা আওয়ামী লীগের এমপি ছবি বিশ্বাস, ২০০৮ সালের সাবেক এমপি যুবলীগ নেতা মুশতাক আহমেদ রুহী, বহুল আলোচিত সাবেক এমপি মরহুম জালাল উদ্দিন তালুকদারের ছেলে ও মেয়ে শাহ কুতুব উদ্দিন তালুকদার রুয়েল, ঝুমা তালুকদার, যুবলীগের কেন্দ্রীয় সদস্য এরশাদুর রহমান মিন্টুসহ আরো অনেকের নাম শোনা যাচ্ছে।

অন্য দিকে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশীদের মধ্যে আইনবিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, ছাত্রদলের সাবেক ত্যাগী নেতা জাহাঙ্গীর আলম খান মাসুদ। গোলাম রব্বানী ও সেলিম রেজা খান। এদের মধ্যে ব্যারিস্টার কায়সার কামাল প্রচার-প্রচারণায় এগিয়ে থাকায় মনোনয়ন লাভের সম্ভাবনা অনেকটা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে বলে ধারণা করা যাচ্ছে। তিনি ২০০৮ সালে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে আশানুরূপ ভোট পেয়েও জয়ের মুখ দেখতে পাননি। তিনি দাবি করেন, আগামী নির্বাচনে দল তাকে আবারো মনোনয়ন দিলে আর সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে ভোটাররা তাকেই নির্বাচিত করবেন। জাহাঙ্গীর আলম খান মাসুদ নিজেকে একজন যোগ্য প্রার্থী মনে করেন, কেননা দলের দুর্দিনে আন্দোলন, সংগ্রামে অংশ নিয়ে অঙ্গহানিসহ চড়া মূল্য দিতে হয়েছে তাকে। এবার হয়তো দল তাকে মূল্যায়ন করবে বলে তিনি আশা করছেন।

আওয়ামী লীগ, বিএনপির বাইরে বয়সের ভারে ন্যুব্জ হয়ে পড়া দলছুট সাবেক হুইপ আবদুল করিম ২০ দলীয় ঐক্যজোটের মনোনয়ন লাভের প্রহর গুনছেন।


নেত্রকোনা-২ (নেত্রকোনা-বারহাট্টা) আসনটি জেলার রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু হওয়ার কারণে জেলার পাঁচটি আসনের মধ্যে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অন্য চারটি আসন থেকে এই আসনে সাধারণত আওয়ামী লীগ ও বিএনপি উভয় দলই নানান হিসাব-নিকাশ ও ভেবেচিন্তে মনোনয়ন দিয়ে থাকে। জেলার রাজনীতির চালিকা শক্তির কারণে এই আসনে উভয় দলেরই মনোনয়নপ্রত্যাশীদের আধিক্য পরিলক্ষিত হয়ে থাকে।

আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশীদের তালিকায় বহুল আলোচিত-সমালোচিত সাবেক ফুটবলার যুব ও ক্রীড়া উপমন্ত্রী এমপি আরিফ খান জয়ের কোনো তৎপরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। নির্বাচনী ডামাডোল বাজতে শুরু করলেও এখন পর্যন্ত নিজ এলাকায় তাকে দেখা যাচ্ছে না। তিনি মনোনয়ন চাইবেন কি না তাও স্পষ্ট নয়। জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মতিয়র রহমান খান মনে করেন দল তাকে মনোনয়ন দিলে তিনি নির্বাচন করবেন। দলের সিদ্ধান্তের বাইরে তিনি কিছু করবেন না। শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে কটূক্তি করার দায়ে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতির পদ থেকে বহিষ্কৃত তারই ঘনিষ্ঠ বন্ধু শামছুজ্জোহাই বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছেন। তিনি মনে করেন মতিয়র রহমানের কারণে তাকে সভাপতির পদ হারানোর পর থেকে তার রাজনৈতিক ক্যারিয়ার নষ্ট হয়ে গেছে। এই আক্রোশে গত বছর মতিয়র রহমানকে বেকায়দায় ফেলে দিয়ে শামছুজ্জোহা হইচই ফেলে দেন। আর এরই সুযোগে দলের সাধারণ সম্পাদক সাবেক জাসদ নেতা ব্যবসায়ী সাবেক এমপি আশরাফ আলী খান খসরু মনোনয়ন পেতে কেন্দ্রে জোর লবিং চালিয়ে যাচ্ছেন। ২০০৮ সালে এমপি নির্বাচিত হওয়ার পর তার নানান নেতিবাচক কর্মকাণ্ডে দলীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম অসন্তোষ বিরাজ করতে থাকে। তার এপিএস জেলা ছাত্রলীগের সাবেক এক নেতা তারই মতো বিপুল বিত্তবৈভবের মালিক হয়ে ওঠার কথা কারো অজানা নেই।

এমপিত্ব হারানোর পর আশরাফ আলী খান খসরু ৬ আগস্ট/১৪ তারিখে আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে আয়োজিত এক সভায় বিগত দিনের কর্মকাণ্ডের জন্য নিজ দলীয় ক্ষুব্ধ নেতাকর্মীদের দ্বারা চরমভাবে অপদস্থ হন। তখন একজন কর্মীকেও তার পক্ষাবলম্বন করতে দেখা যায়নি। যা গণমাধ্যমে গুরুত্বসহ প্রকাশিত হয়। অন্য সম্ভাব্যপ্রার্থী আওয়ামী লীগ নেতা লে. কর্নেল (অব:) আবদুন নূর খান ২০০৮ ও ২০১৪ সালে দলের মনোনয়ন লাভ করার পরেও নিজ দলীয় প্রতিপক্ষের ষড়যন্ত্রের কারণে প্রতিবারই বাধাগ্রস্ত হওয়ার কারণে মনোনয়ন হারাতে হয়। তিনি নিজেকে একজন যোগ্য প্রার্থী দাবি করে বলেন, মনোনয়ন দেয়া হলে ভোটাররা নিজেদের একজন হিসেবে আমাকেই নির্বাচিত করবেন। আর নির্বাচিত হতে পারলে বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সৈনিক হিসেবে এলাকার সার্বিক উন্নয়নসহ মানুষের সুখে, দুঃখে নিরলসভাবে কাজ করে যাবো। এ ছাড়া মনোনয়নপ্রত্যাশীদের মধ্যে আরো রয়েছেন ময়মনসিংহ জেলা জজ কোর্টের আইনজীবী আনোয়ারুল ইসলাম, সাবেক ছাত্র নেতা শামছুর রহমান ওরফে ভিপি লিটন, জেলা যুবলীগের সাবেক আহ্বায়ক ওমর ফারুক, চলচ্চিত্রকার রানা হামিদের নামও শোনা যাচ্ছে। 


আর বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশীদের মধ্যে প্রচার-প্রচারণা ও গণসংযোগে এগিয়ে রয়েছেন, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বিশিষ্ট অর্থোপেডিক ও স্পাইন সার্জন অধ্যাপক ডা: আনোয়ারুল হক। তিনি নির্বাচনী মাঠ উপযোগী করে গড়ে তুলতে দীর্ঘ দিন ধরে নিরলসভাবে পরিশ্রম করে ভোটারদের মন জয়ে অনেকটাই এগিয়ে গেছেন। তবে নিজ দলে কিছু বিরোধিতা থাকা সত্ত্বেও সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে তিনি সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন বলে অনেকে ধারণা করছেন। তিনি বলেন, মামলার খড়গ মাথায় নিয়ে প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যেতে হচ্ছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, তাকে মনোনয়ন দেয়া হলে এই হারানো আসনটি দলকে উপহার দিতে পারবেন। জেলা মহিলা দলের আহ্বায়িকা কেন্দ্রীয় নেত্রী অ্যাডভোকেট আরিফা জেসমিন নাহিন মনে করেন দুর্দিনে চেয়ার পারসনের পাশে থেকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে আন্দোলন, সংগ্রামে অংশ নিয়েছেন বিধায় মনোনয়ন প্রদানে দল হয়তো বিবেচনা করবে বলেই তার বিশ্বাস। অন্য মনোনয়নপ্রত্যাশী জেলা বিএনপির সভাপতি আশরাফ উদ্দিন খান যিনি হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের আস্থাভাজন হিসেবে প্রথম জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও দ্বিতীয়বার এমপি হওয়ার গৌরব অর্জন করেন। তার আগে জিয়াউর রহমান নিজে তাকে মনোনয়ন দিলে প্রথমবারের মতো বিএনপি থেকে এমপি নির্বাচিত হয়ে একজন সাধারণ ফুটবলার থেকে রাতারাতি রাজনীতিক বনে যান।। গুণধরপুত্র ও আত্মীয়স্বজনদের নেতিবাচক কর্মকাণ্ডে এই সৌভাগ্যবানের ব্যক্তি ইমেজে চির ধরায় ও বয়সের ভারে ঝিমিয়ে পড়ায় হালে পানি পাচ্ছেন না। তাই তিনি এখন কেন্দ্রের দয়ার ওপর ভরসা করে হাত, পা গুটিয়ে বসে আছেন। জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মাহফুজুল হকও মনোনয়নপ্রত্যাশী।

এ ছাড়া নির্বাচন এলেই মনোনয়ন পেতে আর যাদের নাম শোনা যায়, তাদের মধ্যে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির ধর্মবিষয়ক সম্পাদক আবদুল বারী ড্যানি ও অপর কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য খোরশেদ আলম অন্যতম। যাদের এলাকার সাথে ন্যূনতম সম্পর্ক নেই। তবুও মনোনয়নপ্রত্যাশীদের নামের তালিকায় থাকতে ভালোবাসেন। এর বাইরেও আওয়ামী লীগ ও বিএনপিতে কিছু পাতি নেতা রয়েছেন যারা নির্বাচনের নামে সাংবাদিকদের ম্যানেজ করে পত্রিকায় শিরোনাম হয়ে এক ধরনের খেলায় মেতে উঠেন। এদিকে জাসদের খণ্ডিত অংশের জনবিচ্ছিন্ন কেন্দ্রীয় নেতা মোখলেছুর রহমান মুক্তাদির ১৪ সালের বিতর্কিত নির্বাচনের মতো ১৪ দলের ব্যানারে আওয়ামী লীগের নৌকায় চড়ে পুলসিরাত পার হওয়ার লক্ষ্যে ঢাকায় বসে তিনি এখন দিবাস্বপ্ন দেখছেন।


নেত্রকোনা-৩ (কেন্দুয়া-আটপাড়া) আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশীদের মধ্যে যাদের নাম শোনা যাচ্ছে তারা হলেন, এমপি ইফতেখার উদ্দিন তালুকাদার পিন্টু, কেন্দ্রীয় কমিটির সংস্কৃতিবিষয়ক সম্পাদক অসীম কুমার উকিল, বিতর্কিত আওয়ামী লীগ নেতা সাবেক এমপি মঞ্জুর কাদের কোরাইশী, অ্যাডভোকেট আবদুল মতিন, শিল্পপতি শামছুল কবীর খান ও প্রতিবাদী কণ্ঠ জেলা কৃষক লীগের সভাপতি কেশব রঞ্জন সরকার। আর বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশীদের মধ্যে এখন পর্যন্ত প্রচার-প্রচারণায় এগিয়ে রয়েছেন, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক উপজেলা চেয়ারম্যান মো: দেলোয়ার হোসেন ভূঁইয়া দুলাল। কেন্দ্রীয় নেতা রফিক উদ্দিন হিলালী, চেয়ার পারসনের উপদেষ্টা সৈয়দ আলমগীর হোসেন খসরু। 


নেত্রকোনা-৪ (মোহনগঞ্জ-মদন-খালিয়াজুরী) আসনে আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়নপ্রত্যাশীদের মধ্যে রয়েছেন এমপি রেবেকা মমিন, বিজয় কি-বোর্ডের জনক বিশিষ্ট আইটি বিশেষজ্ঞ মোস্তফা জব্বার, সাবেক ছাত্রনেতা শফী আহমেদ, ক্যাপ্টেন (অব:) মঞ্জুরুল আলম। দলীয় মনোনয়ন সম্পর্কে অভিব্যক্তি জানিয়ে মোস্তফা জব্বার বলেন, ‘মনোনয়ন পেতে আমি ইঁদুর দৌড়ে বিশ্বাসী নই। প্রধানমন্ত্রী যদি আমাকে যোগ্য মনে করে মনোনয়ন দেন তবেই আমি নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করব অন্যথায় নয়।’ বিএনপি থেকে মনোনয়ন চাইতে পারেন সাবেক স্বরাষ্ট্রপ্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরের স্ত্রী তাহমিনা জামান, চেয়ারপারসনের উপচেষ্টা লে. কর্নেল (অব:) সৈয়দ আতিকুল হক ও বিএনপি’র কেন্দ্রীয় কৃষিবিষয়ক সহ-সম্পাদক চৌধুরী আব্দুল্লাহ ফারুক।

এই আসনে ২০০১ সালের নির্বাচনে সাবেক খাদ্যমন্ত্রী আওয়ামী লীগ নেতা মরহুম আবদুল মমিনকে পরাজিত করে বিপুল ভোটের ব্যবধানে জয়লাভ করেন লুৎফুজ্জামান বাবর। বেগম খালেদা জিয়া সরকার আমলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালনকালে রাতারাতি তিনি আলোচিত-সমালোচিত হয়ে উঠেন। কিন্তু ক্ষমতা হারানোর পর ১০ ট্রাক অস্ত্র মামলার সাজাপ্রাপ্ত আসামি হয়ে তিনি কারাবন্দী রয়েছেন। 


নেত্রকোনা-৫ (পূর্বধলা) আসনে আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন, এমপি ওয়ারেসাত হোসেন বেলাল, কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক আহম্মদ হোসেন, আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রধান তদন্ত কর্মকর্তা সাবেক ডিআইজি আবদুল হান্নান খান। এলাকায় আদিপত্য বিস্তার ও মনোনয়ন নিয়ে দীর্ঘ দিন ধরে বেলাল ও আহম্মদ হোসেনের মধ্যে বিরোধ চলে আসছে। এরই আগে তাদের কর্মী-সমর্থকদের মাঝে একাধিক সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেছে। আধিপত্য বিস্তার নিয়ে গত ৩০ জুলাই আবারো দুই গ্রুপের মধ্যে হামলা, ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। বেলালকে ল্যাং মেরে মনোনয়ন বাগিয়ে নিতে এবার আহম্মদ হোসেন মরিয়া হয়ে উঠেছেন। কিন্তু বেলালের প্রভাব বলয়ের বেড়াজালে আটকে প্রতিবারই তাকে হার মেনে পিছু হটতে হয়েছে। সম্ভবত এবারো তাকে হার মানতে হতে পারে। আধিপত্য বিস্তার নিয়ে তাদের মধ্যে যেকোনো সময় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশঙ্কা করছেন অনেকে। এ ছাড়া আবদুল হান্নান খানও জনসংযোগ, উঠান বৈঠকসহ নানান কর্মসূচি নিয়ে মাঠে, ময়দানে জোর তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন। এই তিন হেভিওয়েট মনোনয়নপ্রত্যাশীর মধ্যে শেষ পর্যন্ত কে হবেন নৌকার কাণ্ডারি তা নিয়ে নির্বাচনী এলাকায় ব্যাপক গুঞ্জন চলছে। 


আর বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশীদের মধ্যে রয়েছেন, সাবেক ছাত্র নেতা আবু তাহের তালুকদার, তরুণ বিএনপি নেতা শহীদুল্লাহ ইমরান ও বিএনপি দলীয় সাবেক এমপি মরহুম ডা: মোহাম্মদ আলীর বিধবা স্ত্রী রাবেয়া আলী। এ ছাড়া সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী আবদুল জলিল ও সাবেক উপজেলা বিএনপি সভাপতি সাইদুর রহমানের নামও শোনা যাচ্ছে। এ ছাড়া এই আসন থেকে ২০ দলীয় ঐক্যজোটের মনোনয়ন চেয়ে পারেন জামায়াত নেতা পূর্বধলা উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান মাছুম মোস্তফা। এই আসনটি ১৯৯১ সাল থেকে একাধারে তিনটার্ম পর্যন্ত বিএনপির দখলে থাকলেও ২০০৮ সাল থেকে হাতছাড়া হয়ে আওয়ামী লীগের কবজায় চলে যায়।

এই আসনটি ধরে রাখা আওয়ামী লীগের জন্য যতটা সহজ বিএনপির জন্য ফিরে পাওয়া তার চেয়েও কঠিন বলে পরিলক্ষিত হচ্ছে। আওয়ামী লীগের এই তিন হেভিওয়েট প্রার্থীর যে কেউ মনোনয়ন পান না কেন টেক্কা দিয়ে হারানো আসনটি ফিরে পাওয়া বিএনপির সামনে এখন বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫