ঢাকা, সোমবার,১১ ডিসেম্বর ২০১৭

বিবিধ

হকি নির্বাচনী ম্যাচে পাপন আম্পায়ার

জসিম উদ্দিন রানা

১১ আগস্ট ২০১৭,শুক্রবার, ২১:৫৮ | আপডেট: ১১ আগস্ট ২০১৭,শুক্রবার, ২২:০৮


প্রিন্ট
নাজমুল হাসান পাপন (ফাইল ফটো)

নাজমুল হাসান পাপন (ফাইল ফটো)

নীল টার্ফ ছেড়ে হকির বিষয় এখন বিভিন্ন সভা ও গোপন বৈঠকে। সব কিছুই ২৭ আগস্ট হতে যাওয়া নির্বাচনকে ঘিরে। আবদুর রশিদ শিকদার চান সবার অংশগ্রহণে সুষ্ঠু নির্বাচন। খাজা রহমতউল্লাহ নিজেকে সাধারণ সম্পাদক পদে রেখে দাবি করেন ঐক্যমতের প্যানেলের। ঢাকার ৩১টি ক্লাবের মাঝে বেশির ভাগ রশিদের পক্ষে। জেলা দলগুলোর অর্থাৎ ফোরামের ৪১ জন কাউন্সিলরের বেশির ভাগ খাজা রহমতউল্লাহর পক্ষে। অভিভাবক হিসেবে আছেন বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন। ক্লাব ও ফোরামের নির্বাচনী ম্যাচে আম্পায়ারের ভূমিকায় পাপন।

হকির অভিজ্ঞ ও জাতীয় দলের সাবেক অনেক খেলোয়াড়ই মনে করেন, ম্যাচের সুষ্ঠু পরিসমাপ্তি তখনই হবে যখন আম্পায়ার নিরপেক্ষ থাকবেন। তিনি যদি কোনো একটি বিশেষ দলের পক্ষে কথা বলেন তখনই লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড হবে না। তাতেই বাধাগ্রস্ত হতে পারে দেশের হকি। এর আগে পাঁচটি ক্লাবের আন্দোলনে প্রায় তিন বছর হকি মুখ থুবড়ে পড়েছিল। এবার তো আরো বেশি ক্লাবের অংশগ্রহণ। রশিদ সমর্থিত ২২টি ক্লাবের মাঝে কয়েকটি ক্লাব বিশ্বাসঘাতকতা করলেও ১৫টি ক্লাব যদি না খেলার পক্ষে থাকে। তাহলেও হিমাগারে যাবে দেশের হকি। তখন কি পাপন পারবেন হকিকে শেষ রক্ষা করতে।

নির্বাচনে অনেক কিছুই হয়। মিত্রকে দূরে ঠেলে শক্রকে আপন করে নেয়ার অনেক উদাহরণ রয়েছে। বর্তমানে বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনে বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপনকে শক্তিশালী ক্রীড়াব্যক্তিত্ব হিসেবে ধরা হয়। সর্বশেষ সরকারি সংস্থা জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি) থেকে নিজেদের আলাদা করে নিয়েছে বিসিবি। অর্থাৎ বিসিবির ওপর কোনো কর্তৃত্ব থাকবে না এনএসসির। বিসিবিকে স্বয়ংসম্পূর্ণ করেছেন নাজমুল হাসান পাপন। গত নির্বাচনের পর সৃষ্ট জটিলতায় ক্রিকেটের লোক হয়েও খাদের কিনারে থাকা হকিকে মাঠে ফিরিয়েছেন তিনি। যেখানে সমস্যা সমাধানে ব্যর্থ হয়েছেন জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত খেলোয়াড় কর্মকর্তা থেকে শুরু করে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী, উপমন্ত্রী পর্যন্ত। বিসিবি নির্বাচন থেকে বিতাড়িত করেছেন ফোরামকে। সরিয়ে দিয়েছেন যোজন যোজন দূরে। ফোরামের হুমকি-ধমকি কোনো কাজে আসেনি। অথচ হকির আসন্ন নির্বাচনে এই ফোরামই আবার পাপনের কাছে ঘেঁষতে চাইছে। পাপনও অবলীলায় অতীত ভুলে গিয়ে তাদের সাহায্য নিচ্ছেন।

বাহফে কার্যনির্বাহী কমিটির নির্বাচনে একটি সমঝোতার প্যানেল চান বিসিবি সভাপতি। গত কয়েক দিনে তিনি নির্বাচন নিয়ে অলাদাভাবে আলোচনায় বসেছিলেন দুই সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী আবদুর রশিদ শিকদার ও খাজা রহমতউল্লাহর সঙ্গে। ঢাকা ক্লাবে রহমতউল্লাহ ও তার অনুসারীদের নিয়ে প্রথম অলোচনা করেন পাপন। সেখানে হাতেগোনা কয়েকটি ক্লাবই উপস্থিত ছিল। অথচ বলা হয়েছিল ১৫টিরও বেশি ক্লাব খাজার পক্ষে রয়েছে। তবে ফোরাম খাজার পক্ষেই কথা বলে।

এরপর বেক্সিমকো অফিসে আব্দুর রশিদ শিকদার ও তার সমর্থিত ক্লাব প্রতিনিধিদের সঙ্গে বসেছিলেন পাপন। আবদুর রশিদ শিকদার বলেন, ‘বিসিবি সভাপতি চান, আমরা যাতে সমঝোতার মাধ্যমে নির্বাচন করি। তবে আমরা বলেছি, খাজা রহমতউল্লাহকে সাধারণ সম্পাদক পদে রেখে কোনো সমঝোতা আমরা মেনে নেবো না। আমি নির্বাচন করব। ক্লাবগুলো আমার সঙ্গে আছে। বিসিবি সভাপতিকে বলেছি, এর আগে সাধারণ সম্পাদক থাকাবস্থায় খাজা রহমতউল্লাহ সবার সঙ্গে মানিয়ে কাজ করতে পারেননি। তার রানিংমেটরাও এখন তার সঙ্গে নেই।’

সভায় উপস্থিত একাধিক সূত্রমতে, বিসিবি সভাপতি আকারে ইঙ্গিতে বুঝিয়ে দিয়েছেন খাজাকে সাধারণ সম্পাদক পদে রেখেই একটা সমঝোতার প্যানেল করতে আগ্রহী। সমঝোতা করতে না পারলে বা না মানলে স্বাভাবিকভাবেই ভোটের লড়াই হবে। আর তখন নাকি তাকে একটি পক্ষ নিতেই হবে। মনে কারো সাপোর্ট রেখে সমঝোতা হয় না।

অনেক ক্লাবের কর্তারা তো বলেই দিলেন, ‘সুষ্ঠু নির্বাচন যদি করতে দেয়া না হয়, কিংবা কোনো প্রভাব খাটানো হয় তাহলে হকি আর খেলব না। খাজা যদি বিশেষ প্রক্রিয়ায় ফের সাধারণ সম্পাদক হন তখন প্রয়োজনে সংগঠক হিসেবে ভলিবল, হ্যান্ডবল টিম করব- হকি নয়।’

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫