ঢাকা, বুধবার,২৩ আগস্ট ২০১৭

ঢাকা

২০ গুলিবিদ্ধসহ আহত ৪০

নড়িয়ায় আ.লীগের দু’পক্ষের সংঘর্ষে যুবলীগ নেতা নিহত

শরীয়তপুর সংবাদদাতা

১১ আগস্ট ২০১৭,শুক্রবার, ২১:৪৩


প্রিন্ট

আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে নড়িয়ার রাজনগরে আওয়ামী লীগের দু’পক্ষের সংঘর্ষে ইকবাল হোসেন ফকির নামে এক যুবলীগ নেতা নিহত হয়েছেন। এ সময় অন্তত ২০ জন গুলিবিদ্ধসহ ৪০ জন আহত হয়েছেন।

আহতদের শরীয়তপুর সদর হাসপাতাল ও জাজিরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমেপ্লক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

এ ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।

নড়িয়া থানা, আহত মজিবর মীর মালত ও স্থানীয় সুত্রে জানা গেছে, শরীয়তপুর জেলার নড়িয়া উপজেলার রাজনগর ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান ও নড়িয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য জাকির হোসেন গাজীর সাথে একই ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের সভাপতি দাদন মীর বহর ও সাবেক চেয়ারম্যান আলী উজ্জামান মীর মালত পক্ষের মধ্যে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দীর্ঘ দিন ধরে বিরোধ চলছিল।

এ নিয়ে গত ১ বছরে ১৫ থেকে ২০ বার সংঘর্ষ হয়। এতে প্রায় দুই শতাধিক লোক আহত হয়।

আজ শুক্রবার জুমার নামাজের পর জাকির গাজীর সমর্থকরা রাজনগর ইউনিয়নের আন্ধার মানিক বাজারের দাদন মীর মালত ও সোহাগের দোকানে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করে।

এ নিয়ে বিকেলে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দিলে সংঘর্ষ বাধে।

এতে রাজনগর এলাকার আমিন ফকিরের ছেলে ও একই ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ড যুবলীগ নেতা ইকবাল ফকির গুলিবিদ্ধ হন। তাকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

এ ঘটনায় দাদন মীর বহর ও আলীউজ্জামান মালত গ্রুপের সমর্থক রাকিব সরদার, সবুজ মীর বহর, মজিবর মীর মালত, ফারুক মীর মালত, সাগর মীর মালত, আসলাম সরদার,বাবু কাজী, বিল্লাল সরদার, রোমান মীর বহর, ফারুক মীর বহর, হালান মীর মালত, চায়না মীর বহর, সুমাইয়া আক্তারসহ ২০ জন গুলিবিদ্ধসহ অন্তত ৪০ জন আহত হয়েছেন।

আহতদের শরীয়তপুর সদর হাসপাতাল ও জাজিরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

এ ব্যাপারে বর্তমান চেয়ারম্যান জাকির গাজী বলেন, আমার তিনজন লোক দাওয়াত খেয়ে বাড়ি ফেরার পথে দাদন মীরবহর ও আলী উজ্জামান মীর মালতের সমর্থকরা মারধর করে। এর পর আমার সমর্থক হাবু মোল্যার বাড়ি ভাঙচুরসহ তাকে গুলি ছোড়ে। এ নিয়ে সংঘর্ষ হয়।

রাজনগর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি দাদন মীর বহর বলেন, চেয়ারম্যান গাজীর লোকজন আমার সমর্থকদের দোকানপাট লুটপাট ও হামলা চালায়। এতে আমার সমর্থক যুবলীগ নেতা ইকবাল ফকির গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান এবং ২০ জন গুলিবিদ্ধসহ ৪০ জন আহত হন।

শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের চিকিৎসক এহসানুল ইসলাম বলেন, ইকবাল নামে এক যুবককে আহত অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে আসেন তার স্বজনরা। আমরা তাকে পরীক্ষা করে দেখি তিনি মারা গেছেন। তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে একাধিক গুলির চিহ্ন রয়েছে।

নড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসলাম উদ্দিন বলেন, আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের আধিপত্য নিয়ে সংঘর্ষ বাধে। এতে একজন নিহতসহ কয়েকজন আহত হয়েছেন।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫