ঢাকা, শুক্রবার,২০ অক্টোবর ২০১৭

শিক্ষা

আমার চোখের বিনিময়ে আলো ফিরুক শিক্ষায় : সিদ্দিকুর

নিজস্ব প্রতিবেদক

১১ আগস্ট ২০১৭,শুক্রবার, ২১:১৮


প্রিন্ট
বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব দেন সিদ্দিকুর রহমান।

বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব দেন সিদ্দিকুর রহমান।

পুলিশের টিয়ারশেলের আঘাতে দৃষ্টিশক্তি হারানো তিতুমীর কলেজের ছাত্র সিদ্দিকুর রহমান ভারত থেকে আজ শুক্রবার বিকেলে দেশে ফিরে বলেছেন, শারীরিকভাবে সুস্থ হলেও আমি এখন আর কিছুই দেখতে পাই না। আমার চোখের বিনিময়ে আলো ফিরুক শিক্ষায়। আমি চোখের আলো হারিয়েছি কিন্তু আমার চোখের বিনিময়ে বন্ধুদের জীবনে শিক্ষার আলো ফিরে আসুক।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত রাজধানীর সাতটি কলেজের রুটিনসহ পরীক্ষার তারিখ ঘোষণার দাবিতে আন্দোলনে নেমে পুলিশের টিয়ারশেলে দৃষ্টিশক্তি হারানো তিতুমীর কলেজের ছাত্র সিদ্দিকুর রহমান ভারত থেকে আজ বিকেল ৩টা ২০ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন। বিকেল ৪টা ৫০ মিনিটের দিকে তিনি বিমানবন্দর থেকে বের হয়ে আসেন। সেখানে উপস্থিত সাংবাদিকদের সাথে একথা বলেন।

সিদ্দিকুর বলেন, প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমার আবেদন, অন্ধ বলে যেন সমাজে আমাকে কোনোদিন হেয় হতে না হয়। আমি নিয়মিত লেখাপড়া করতে চাই ও সম্মানজনক অবস্থান চাই। ওই দিন যে অন্যায় আচরণ হয়েছে আমার ওপর, এর জন্য আমার কারো প্রতি কোনো ব্যক্তিগত আক্রোশ কিংবা ক্ষোভ নেই। তবে তদন্তে যদি কিছু বেরিয়ে আসে তাহলে সেটা রাষ্ট্রীয় ব্যাপার। বিষয়টি রাষ্ট্র দেখবে, প্রশাসন ব্যবস্থা নেবে।

এদিকে সিদ্দিকুরের দেশে ফেরাকে কেন্দ্র করে বিমানবন্দরে চোখে কালো কাপড় বেঁধে প্রতিবাদ জানিয়েছে তার বন্ধুরা। সিদ্দিকুরের বন্ধু শাহ আলী, শেখ ফরিদসহ অন্যরা বলেন, আমাদের এই কালো কাপড় শিক্ষাব্যবস্থার অন্ধত্বের প্রতীক। কেবল সিদ্দিকুর নয়, আমরা পুরো জাতি আজ অন্ধ, শিক্ষাব্যবস্থাও অন্ধ। আমরা আমাদের দাবি পূরণ করতে এসে অন্ধত্বকে বরণ করে নিলাম। আমাদের চোখে কালো কাপড় বাঁধা প্রতীকী অন্ধত্ব। এর মাধ্যমে আমরা বোঝাতে চাই, রাষ্ট্রও অন্ধ। শিক্ষাব্যবস্থা অন্ধ।

তারা অভিযোগ করেন, সিদ্দিকুরের দৃষ্টি হারানোর ঘটনায় ইতোমধ্যে সাতজনকে শনাক্ত করা হয়েছে। কিন্তু কাউকে শাস্তি দেয়া হয়নি। সিদ্দিকুর কি তার চোখের বিনিময়ে কারো শাস্তি দাবি করতে পারে না? এ প্রশ্ন রইলো রাষ্ট্রের কাছে।

এদিকে বিমানবন্দর থেকে সিদ্দিকুরকে পুন:রায় জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে আরো বেশ কিছুদিন তার চিকিৎসা চলবে বলে পারিবারিক সূত্র নিশ্চিত করেছে। আহত হওয়ার পর এখানেই ভর্তি করা হয়েছিল তাকে।

উল্লেখ্য, গত ২০ জুলাই আন্দোলনে নেমে পুলিশের ছোড়া টিয়ারশেলে চোখে আঘাতপ্রাপ্ত হন সিদ্দিকুর। পরবর্তীতে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ভারতের চেন্নাইয়ে নেয়া হয়।

গত ২০ জুলাই সকালে শাহবাগ জাতীয় জাদুঘরের সামনে নীতিমালা প্রণয়নসহ সাত দফা দাবিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত সাতটি কলেজের শিক্ষার্থীরা মানববন্ধন ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করতে যান। শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন কর্মসূচিতে বাধা দেয়ার পর পুলিশ ও ছাত্রদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। তবে পুলিশ হঠাৎই টিয়ারসেল ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ শুরু করে। এ ঘটনায় তিন শিক্ষার্থী গুলিবিদ্ধ ও গুরুতর আহত হন। তাদের মধ্যে তিতুমীর কলেজের ছাত্র সিদ্দিকুর রহমানকে (২৩) ঢাকা মেডিক্যাল থেকে জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
সেখানকার চিকিৎসকরা বলেন, সিদ্দিকুর ডান চোখে আলো দেখছেন না। বাঁ চোখের একদিক থেকে আলো কিছুটা উপলব্ধি করতে পারছে। এরপরই স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিদ্দিকুরকে চেন্নাইয়ে পাঠানো হয়। ওই ঘটনার পরদিনই রাতে ১২০০ শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে বাদী হয়ে শাহবাগ থানায় একটি মামলা করে পুলিশ। মামলা নং ২৬।

পরবর্তীতে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় গত ২৭ জুলাই দুপুরের ফ্লাইটে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিদ্দিকুরকে চেন্নাইয়ের শঙ্কর নেত্রালয়ে নেয়া হয়। তার সাথে ছিলেন জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইন্সটিটিউট ও হাসপাতালের সহকারী অধ্যাপক ডা. জাহিদুল আহসান মেনন ও বড় ভাই নওয়াব আলী। চেন্নাই নেয়ার পর ২৮ জুলাই প্রথম তাকে চিকিৎসক দেখানো হয়। পরে ৩১ জুলাই চিকিৎসক তার চোখ পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে জানান, তার দুই চোখই নষ্ট হয়ে গেছে। তবে রোগী চাইলে তারা অস্ত্রোপচার করবেন। ১ আগস্ট রোগীর কাছ থেকে সম্মতি পেয়ে ৪ আগস্ট অস্ত্রোপচার করা হয়।

চেন্নাই পাঠানোর আগে সিদ্দিকুর জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইন্সটিটিউট ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫