সিদ্দিকুর রহমান
সিদ্দিকুর রহমান

চিকিৎসা শেষে দৃষ্টি ছাড়াই দেশে ফিরলেন সিদ্দিকুর

নয়া দিগন্ত অনলাইন

ভারতের চেন্নাইয়ে চিকিৎসা শেষে দৃষ্টি ছাড়াই দেশে ফিরেছেন সরকারি তিতুমীর কলেজের ছাত্র সিদ্দিকুর রহমান। আজ শুক্রবার বেলা সোয়া তিনটার দিকে মালদ্বীপ এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নামেন তিনি। এ সময় সাথে ছিলেন তাঁর বড় ভাই নায়েব আলী।

এদিকে বিমানবন্দরে সিদ্দিকুর রহমানকে নিতে যান তার সহপাঠীরা। তারা বিমানবন্দরের সামনের সড়কে চোখে কালো কাপড় বেঁধে মানববন্ধন করেন।

বিমানবন্দরে নেমে সাংবাদিকদের সিদ্দিকুর রহমান বলেন, ‘আমার রক্ত, আমার চোখ অবশ্যই সার্থক হবে, যদি সাত কলেজে লেখাপড়ার স্বাভাবিক অবস্থা ফিরে আসে। আমি তা–ই চাই। আমি রাষ্ট্রকে ধন্যবাদ জানাই। আমার সামর্থ্য ছিল না দেশের বাইরে গিয়ে চিকিৎসা করানোর। রাষ্ট্র আমার পাশে দাঁড়িয়েছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী আমার খোঁজ নিয়েছেন।’

এ সময় প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে সিদ্দিকুর বলেন, ‘আমি আমার লেখাপড়া চালিয়ে যেতে চাই, পড়াশোনা শেষ করতে চাই। আমি যেন অবহেলার পাত্র না হই। সম্মানজনক একটা অবস্থান চাই।’

চোখের অবস্থা সম্পর্কে সিদ্দিকুর জানান, ‘ডাক্তার বলেছেন ‘লিটল হোপ’...একেবারে সামান্য সম্ভাবনা আছে ভালো হওয়ার। তবে আরো ছয় সপ্তাহ গেলে তা বোঝা যাবে।’

এক প্রশ্নের জবাবে সিদ্দিকুর বলেন, ‘আমি ভুক্তভোগী, তবে কারো প্রতি ক্ষোভ নেই। যদি তারা বাড়াবাড়ি করে থাকে, তবে কর্তৃপক্ষ তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেবে।’

এ সময় বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানাতে আসা তার সহপাঠীরা ‘দোষী ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই’ বলে স্লোগান দেন।

রুটিনসহ পরীক্ষার তারিখ ঘোষণার দাবিতে গত ২০ জুলাই শাহবাগে আন্দোলনে গিয়ে ‘পুলিশের ছোড়া কাঁদানে গ্যাসের শেলের’ আঘাতে সিদ্দিকুরের দুই চোখ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে গত ২৭ জুলাই উন্নত চিকিৎসার জন্য তিনি ভারতে যান। ভারতের চেন্নাইয়ের শংকর নেত্রালয়ে সিদ্দিকুরের চিকিৎসার ব্যবস্থা করে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়।

চেন্নাইয়ের চিকিৎসক তাকে পাঁচ থেকে ছয় সপ্তাহের জন্য ব্যবস্থাপত্র লিখে দিয়ে জানান, চোখ ভালো হবে কি না তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। তার বাম চোখের রেটিনার ৯০ শতাংশের বেশি নষ্ট হয়ে গেছে। আর ডান চোখ তো আগেই নষ্ট হয়েছে।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.