ঢাকা, শনিবার,১৯ আগস্ট ২০১৭

অপরাধ

মোসাদ্দেক আলী ফালুর স্ত্রীর বিরুদ্ধে দুদকের মামলা দায়ের

নিজস্ব প্রতিবেদক

১০ আগস্ট ২০১৭,বৃহস্পতিবার, ২০:৩৩


প্রিন্ট

সাবেক সংসদ সদস্য ও বেসরকাররি টেলিভিশন এনটিভির চেয়ারম্যান মোসাদ্দেক আলী ফালুর স্ত্রী মাহবুবা সুলতানার বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মামলা দায়ের করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর রমনা থানায় দুদকের উপ-পরিচালক জাহাঙ্গীর আলম বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। তার বিরুদ্ধে তিন কোটি ৯৩ লাখ ৮৮ হাজার ৪৭২ টাকার জ্ঞাত আয়-বহির্ভুত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়েছে।

এর আগে চলতি বছরের ১৫ মে জ্ঞাত আয়-বহির্ভুত সম্পদ অর্জন ও সম্পদের মিথ্যা তথ্য দেয়ার অভিযোগে মোসাদ্দেক আলী ফালুর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে দুদক।

দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রণব ভট্টাচার্য জানান, সাবেক সংসদ সদস্য মোসাদ্দেক আলী ফালুর স্ত্রী মাহবুবা সুলতানা যে সম্পদ বিবরনী কমিশনে জমা দিয়েছিলেন তাতে নয় কোটি ৫৭ লাখ ৮১ হাজার ৮০৬ টাকার সম্পদ আছে। কিন্তু দুদকের অনুসন্ধানে তিন কোটি ৯৩ লাখ ৮৮ হাজার ৪৭২ টাকার জ্ঞাত আয়-বহির্ভুত সম্পদ পাওয়া গেছে। যার কোনো বৈধ উৎস নেই বলে প্রতীয়মান হয়েছে।

দুদক সূত্রে জানা যায়, সম্পদ বিবরণীতে আয়ের উৎস হিসেবে তিনি মৎস্য চাষ, গরুর খামার ও বাসা ভাড়া দেখালেও তিনি তিন কোটি ৯৩ লাখ ৮৮ হাজার ৪৭২ টাকার ক্ষেত্রে মৎস্য ও পশুপালন অধিদপ্তরের কোন নিবন্ধনসহ অন্যান্য দালিলিক প্রমাণ দাখিল করতে পারেননি। তাই দুর্নীতি দমন কমিশন আইন-২০০৪ এর ২৬ (২) ও ২৭ (১) ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, গত বছরের ৩১ আগস্ট সম্পদ বিবরণী দাখিল করতে মাহবুবা সুলতানাকে নোটিশ দেয় দুদক। পরে ৩ অক্টোবর কমিশনে তিনি সম্পদ বিবরণী দাখিল করেন।

ওই সম্পদ বিবরণীতে মাহবুবা সুলতানা তিন কোটি ৩১ হাজার ১০৬ টাকার স্থাবর সম্পদ এবং ছয় কোটি ৫৭ লাখ ৫০ হাজার ৭০০ টাকার অস্থাবর সম্পদের হিসাব দিয়েছেন।

এরপর দুদকের অনুসন্ধানে দেখা যায়, মাহবুবা মোট নায় কোটি ৫৭ লাখ ৮১ হাজার ৮০৬ টাকার সম্পদ অর্জনে আয়ের উৎস হিসেবে যেসব খাত দেখিয়েছেন, তার মধ্যে মৎস্য চাষ ও গরুর খামার খাতে আয়ের এক কোটি ২৫ লাখ ৩৬ হাজার ৮৬৩ টাকার বিষয়ে মৎস্য ও পশুপালন অধিদপ্তরের কোনো নিবন্ধন বা বিনিয়োগের স্বপক্ষে কোনো তথ্য-প্রমাণ দেখাতে পারেননি, এমনকি তার নামে কোনো মৎস্য-গরুর খামারের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি।

এছাড়া ব্যবসায় বিনিয়োগ থেকে এসেছে বলে উল্লেখ করা দুই কোটি টাকা আয়ের কোনো দালিলিক প্রমাণ পাওয়া যায়নি। আবার তার বনানীর বাড়িতে বিনিয়োগ করা ৬৬ লাখ ৭৭ হাজার ৩২৭ টাকা এবং অন্যান্য উৎস্য থেকে প্রদর্শিত আয়ের এক লাখ ৭৪ হাজার ২৮২ টাকার সমর্থনে কোনো দালিলিক প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫