ঢাকা, শনিবার,১৯ আগস্ট ২০১৭

অপরাধ

খুব কাছ থেকেই সিদ্দিকুরকে টিয়ার শেল ছোড়া হয়

নিজস্ব প্রতিবেদক

০৭ আগস্ট ২০১৭,সোমবার, ২১:৪৬


প্রিন্ট
তিতুমীর কলেজের ছাত্র সিদ্দিকুর (ফাইল ফটো)

তিতুমীর কলেজের ছাত্র সিদ্দিকুর (ফাইল ফটো)

শাহবাগে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভে সিদ্দিকুরকে খুব কাছ থেকেই টিয়ার শেল ছোড়া হয় জানিয়ে পুলিশের গঠিত তদন্ত কমিটি তাদের প্রতিবেদন জমা দিয়েছে।

প্রতিবেদনে দুই পরিদর্শকসহ সাত পুলিশ সদস্যের সংশ্লিষ্টতা পেয়েছে তদন্ত কমিটি।

আজ সোমবার দুপুরে তিতুমীর কলেজের ছাত্র সিদ্দিকুরের ওপর পুলিশের হামলা ঘটনায় গঠিত ডিএমপি সদর দফতরের তদন্ত কমিটি পুলিশ কমিশনারের কার্যালয়ে এ প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন বলে জানা গেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সিদ্দিকুরের চোখে যে পুলিশ কর্মকর্তা খুব কাছ থেকে টিয়ারশেল মেরেছেন প্রতিবেদনে তাকে শনাক্ত করা হয়েছে। এছাড়া, দু’জন পরিদর্শক ও পাঁচজন কনস্টেবলের বিরুদ্ধে শাস্তির সুপারিশ করা হয়েছে।

ডিএমপি সদর দফতরের যুগ্মকমিশনার মীর রেজাউল আলম এ বিষয়ে সাংবাদিকদের বলেন, আমাদের তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছি কমিশনার কার্যালয়ে। তবে পেশ করা ওই প্রতিবেদনে কী আছে, কয়জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে, সে বিষয়ে কোনো তথ্য জানাননি তিনি।

পুলিশের একজন কর্মকর্তা জানান, ডিএমপি কমিশনার দেশে না থাকায় ওই প্রতিবেদনের খুঁটিনাটি বিষয় কিংবা কোনো কোয়ারি আছে কি-না, তা জানার জন্য কমিশনারের অপেক্ষায় আছেন সবাই।

ওই কর্মকর্তা আরো জানান, সিদ্দিকুরের চোখে যে পুলিশ কর্মকর্তা খুব কাছ থেকে টিয়ারশেল মেরেছেন, তাকে শনাক্ত করা হয়েছে প্রতিবেদনে। এছাড়া শাহবাগ থানা ও পাবলিক অর্ডার ম্যানেজমেন্টেন বেশ কয়েকজনের বিরুদ্ধে অপেশাদার আচরণের সুনির্দিষ্ট তথ্য পেয়েছেন। তাদের সবার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হয়েছে প্রতিবেদনে। সূত্রমতে, দু’জন পরিদর্শক ও পাঁচজন কনস্টেবলের বিরুদ্ধে শাস্তির সুপারিশ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ডিসি (মিডিয়া) মাসুদুর রহমান বলেন, তদন্ত রিপোর্ট জমা হলেও রিপোর্টের বিষয়ে ডিএমপি কমিশনার ছাড়া বিস্তারিত জানা সম্ভব নয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তদন্ত কমিটির এক সদস্য জানান, এ ঘটনায় যাদের অভিযুক্ত করা হয়েছে তারা হলেন- শাহবাগ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আবু জাফর আলী বিশ্বাস ও পরিদর্শক (অভিযান) আবুল কালাম আজাদ। এ ছাড়া দাঙ্গা দমন বিভাগের (পাবলিক অর্ডার ম্যানেজমেন্ট-পিওএম) পাঁচ কনস্টেবলের নামও আছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে সুপারিশ করা হয়েছে।

গত ২০ জুলাই শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনের সড়কে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) অধিভুক্ত রাজধানীর ঢাকা কলেজ, ইডেন মহিলা কলেজ, বেগম বদরুন্নেসা কলেজ, তিতুমীর কলেজ, কবি নজরুল কলেজ, শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ ও সরকারি বাঙলা কলেজের শিক্ষার্থীরা রুটিনসহ পরীক্ষার তারিখ ঘোষণার দাবিতে অবস্থান নেয়। একপর্যায়ে তাদের ছত্রভঙ্গ করতে টিয়ার গ্যাসের শেল পুলিশ। এসময় শিক্ষার্থীদের লাঠিপেটা করা হয়। ওই দিন পুলিশের টিয়ার গ্যাসের শেলে চোখে গুরুতর আঘাত পান তিতুমীর কলেজের ছাত্র সিদ্দিকুর। তিনি বর্তমানে চেন্নাইয়ের শংকর নেত্রালয় হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে। তার ডান চোখ পুরোপুরি নষ্ট হয়ে গেছে, বাম চোখে খানিকটা দেখার সম্ভাবনাও কম। পরে পুলিশের কাজে বাধা দেয়া এবং হত্যাচেষ্টার অভিযোগে অজ্ঞাতনামা এক হাজার ২০০ জনকে আসামি করে মামলা করা হয়।

এরপর সিদ্দিকুরের চোখ নষ্ট হওয়ার বিষয়টি গণমাধ্যমে উঠে এলে ঘটনা তদন্তে একটি কমিটি গঠন করে ডিএমপি। যুগ্মকমিশনার মীর রেজাউল আলমের নেতৃত্বে কমিটির বাকি দুই সদস্য ছিলেন- গোয়েন্দা বিভাগের উপকমিশনার মো. শহীদুল্লাহ ও রমনা বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার আশরাফুল আলম।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫