সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ

মাদক ব্যবসা ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পুলিশের বাধা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর আহবানে মাদক বিক্রি ছেড়ে দিয়ে বিপাকে পড়েছেন এক মাদক কারবারী। পুলিশ জোর করে তাকে মাদক ব্যবসায় বাধ্য করছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। মাদক ব্যবসা না করলেও প্রতি মাসে থানায় ৫০ হাজার টাকা দিতে হবে বলে সাফ জানিয়েছেন থানার ওসি।

আজ সোমবার দুপুরে রাজধানীর সেগুনবাগিচাস্থ বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে কিশোরগঞ্জের ভৈরব থানার চন্ডিবের গ্রামের ফরিদ মিয়া এ অভিযোগ করেন।

লিখিত বক্তব্যে ফরিদ মিয়া বলেন, পুলিশকে মোটা অংকের টাকা দিয়ে ভৈরব এলাকায় তিনি দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসা করে আসছিলেন। কিন্তু চলতি বছরের ১৯ মার্চ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বাগেরহাটের একটি অনুষ্ঠানে মাদক ব্যবসা ছেড়ে দেয়ার আহবান জানান। টিভিতে তার বক্তব্য দেখে মাদক কারবারী ছেড়ে দেয়ার সিন্ধান্ত নেন তিনি। ই ব্যবসা ছাড়তে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান, থানার ওসি, এসপি, আইজিপি ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে লিখিত অঙ্গিকারনামা পেশ করেন। কিন্তু এতে বাধ সাধেন ভৈরব থানার ওসি মুখলেছুর রহমান, ইন্সপেক্টর (তদন্ত) আবু তাহেরসহ দুজন এসআই। তারা মাদক ব্যবসা ছেড়ে দিলেও মাসে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেন। টাকা না দেয়ায় ওসি মিথ্যা মামলা দিয়ে গ্রেফতার করেন। এরপর ক্রসফায়ারে দেয়ার ভয় দেখিয়ে পরিবারের কাছ থেকে তিন লাখ ৪৫ হাজার টাকা হাতিয়ে নেন। ওই মামলার তথ্য প্রমাণ দেখে আদালত বিষয়টিকে রহস্যময় বলে তাকে জামিন দেন। তারপরও পুলিশ একের পর এক হুমকি ধামকি ও মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানী করছে।

ফরিদ আরো বলেন, এর মধ্যে তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে দেখা করে বিষয়টি খুলে বলেন। মন্ত্রী তার উপর খুশি হয়ে এসপিকে ফোন করে ফরিদকে পুরস্কৃত করার নির্দেশ দেন। এতে থানা পুলিশ উল্টো ফরিদকে হয়রানী করে যাচ্ছে বলে অভিযোগ করেন।

ফরিদ বলেন, থানার ওসি তাকে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, ‘৪০ লাখ টাকা ঘুষ দিয়ে এই থানায় বদলী হয়েছি। তুই মাদক ব্যবসা করবি কি-না সেটা তোর ব্যপার। মাস শেষ হলে থানায় ৫০ হাজার টাকা দিয়ে যাবি। না হলে তোকে কেউ বাঁচাতে পারবে না’।

এ ব্যপারে জানতে জানতে ওসি মুখলেছুর রহমানের সাথে মোবাইলে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
ইন্সপেক্টর তদন্ত ফোন ধরলেও সাংবাদিকদের বলেন ‘তিনি মিটিংয়ে আছেন’।

এ অবস্থায় পুলিশের হয়রানী থেকে মুক্তি পেতে প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহবান জানিয়েছেন ফরিদ মিয়া ও তার পরিবার।

সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন ফরিদ মিয়ার বোন বিলকিস বেগম ও স্ত্রী ইয়াসমিন।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.