ইসলামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৩০ ডাক্তারের পদশূন্য

ইসলামপুর (জামালপুর) সংবাদদাতা

৫০ শয্যার ইসলামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ৩৩ জন ডাক্তারের মধ্যে ৩০ জন ডাক্তারের পদই দীর্ঘ দিন ধরে শূন্য রয়েছে। যমুনা-ব্রহ্মপুত্র অববাহিকার প্রায় সাড়ে চার লাখ জনসংখ্যাঅধ্যুষিত ইসলামপুর উপজেলাটি নদী ভাঙন ও বন্যাকবলিত। তাই এ উপজেলার মানুষ অত্যান্ত দরিদ্র। ইসলামপুর উপজেলার সাড়ে চার লাখ ও মেলান্দহ উপজেলার দুরমুঠ ইউনিয়নের অর্ধলক্ষাধিকসহ পাঁচ লক্ষাধিক মানুষের একমাত্র ভরসা এ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। কিন্তু এখানে ডাক্তার সংকট,কর্মচারীদের কর্মফাঁকি ও দূর্নীতির কারণে এখানে চিকিৎসার কোন পরিবেশ নেই। ফলে দুই উপজেলার পাঁচ লক্ষাধিক মানুষ চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটিতে ৩৩ জন ডাক্তারের মধ্যে কাগজে-কলমে সাত জন কর্মরত থাকলেও চারজনই প্রেষণে রয়েছে। এদের মধ্যে ডা: আবু সালে মুহাম্মদ সিরাজী, ডা: আরিফুল ইসলাম, ডা: রেদোয়ান তারিক কয়েক বছর ধরে অন্যত্র চাকরি করে ইসলামপুর থেকে বেতন নিচ্ছেন। ডা: আফরোজা জামান মুনা বিনাছুটিতে কয়েক বছর ধওে অনুউস্থিত রয়েছে। ডাক্তার সংকটের সুযোগে ডা: সাইমুম শাহারিয়ার চিকিৎসার নামে অপচিকিৎসা চালাচ্ছেন। তার বিরুদ্ধে নিজের কাছে রাখা ৭৫ টাকার (ট্রায়ালন) ইন্জেকশন ১০০০ টাকায় বিক্রি,বর্হি: বিভাগের টিকিটের রোগীদের কৌশলে বাসায় নিয়ে একাধিক প্যাথলজি পরীক্ষা দিয়ে দালালদের মাধ্যমে রোগীদের টাকা হাতিয়ে নেয়া, সকল রোগীর ক্ষেত্রে ৯১০ দামের ইন্জেকশনসহ চড়া দামের ওষুধ কিনতে বাধ্য করার অভিযোগ রয়েছে। উপজেলার মালমারা গ্রামের সাজেদা বেগম দুই হাজার টাকা নিয়ে চিকিৎসা করতে এসে ছিলেন। তাকে তিন হাজার টাকার পরীক্ষা দেওয়া হয়েছে। ঢেংগাড়গড় গ্রামে আব্দুল হাই ও জারুলতলা গ্রামের জহিজল অভিযোগ করেন- হাসপাতালে কোন পরীক্ষা হয়না। সব পরীক্ষা বাইরের ক্লিনিকে পাঠানো হয়। এতে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের কথিত পরীক্ষার নামে টাকা খুইয়ে খালি হাতে বাড়ি ফিরতে হয়। এলাকাবাসীর অভিযোগ, ইসলামপুরের দরিদ্র মানুষদের মেরে ডা: সাইমুম শাহারিয়ার লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। তিনি এসব অভিযোগ অস্বীকার করেন। সিনিয়র স্টাফ নার্স কৃষর্ণা রানী দাস ও মেডিকেল টেকনোলজি (রেডিওলজি) রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে অফিস ফাঁকিসহ নানা দূর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। রেডিওলজি রফিকুল দুই যুগ ধরে একই স্টেশনে রয়েছেন। তার বিরুদ্ধে এক্স-রে ফি’র সকরারি অংশ আত্মসাতসহ রোগীদের নিকট অতিরিক্ত টাকা আদায়ের অভিযোগ দীর্ঘ দিনের। ভুক্তভোগী আশরাফুল জানান, সরকারি ফি ৫৫ টাকার এক্স-রেও ১০০ টাকা। ৭০ টাকার এক্স-রেও ১০০ টাকা নেওয়া হচ্ছে। সে বেশির ভাগ রোগীকে টাকার রশিদ না দিয়ে সমুদয় টাকা আত্মসাত করছে। আল্ট্রাসাউন মেশিনটি প্রায় পাঁচ বছর ধরে বিকল হয়ে পড়ে রয়েছে জলে জানাগেছে। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: এ.কে.এম শহিদুর রহমান বলেন, ডাক্তার না থাকায় হাসপাতাল চালাতে পারছিনা। ফলে বন্যাকবলিত এ অঞ্চলের দরিদ্র অসহায় মানুষরা চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.