ঢাকা, বুধবার,১৮ অক্টোবর ২০১৭

অন্যান্য

ভুয়া বন্ধু-বান্ধবীদের কথা

নয়া দিগন্ত অনলাইন

০৬ আগস্ট ২০১৭,রবিবার, ১৫:০৯


প্রিন্ট
কুয়ানমিংয়ের (ডানে) মায়ের সাথে খাবার টেবিলে (ইয়ুকিং) মাঝে

কুয়ানমিংয়ের (ডানে) মায়ের সাথে খাবার টেবিলে (ইয়ুকিং) মাঝে

চীনে নতুন বছরের ছুটিতে গ্রামের বাড়িতে গেলে বিবাহযোগ্য ছেলে বা মেয়েকে পরিবারের বয়স্ক সদস্যরা তাড়াতাড়ি বিয়ে করার জন্য চাপ দেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে ভুয়া বন্ধু-বান্ধবী নিয়ে হাজির হয় তারা। বিনিময়ে সেই বন্ধুটি পায় অর্থ। আর এ কাজটি করে দিচ্ছে কিছু মোবাইল অ্যাপ আর ওয়েবসাইট।

বিষয়টা কীভাবে কাজ করে, তা জানতে চীনের ব্লগার ঝাও ইয়ুকিং চলতি বছরের জানুয়ারিতে চীনা নববর্ষে একজনের ভুয়া বান্ধবী হয়েছিলেন। এরপর পুরো ঘটনার অভিজ্ঞতা নিয়ে একটি ব্লগ লেখেন।

ভুয়া বান্ধবী হতে আগ্রহ প্রকাশ করে অনলাইনে বিজ্ঞাপন দেয়ার পর প্রায় সাত শ' জন ইয়ুকিংকে গার্লফ্রেন্ড হিসেবে পেতে আগ্রহের কথা জানায়। এর মধ্য থেকে ওয়েবসাইট অপারেটর ত্রিশোর্ধ্ব ওয়াং কুয়ানমিংকে বেছে নেন তিনি।

এই চুক্তির কথা জানতে পেরে এই জুটির সাথে কুয়ানমিংয়ের বাড়িতে যাওয়ার ইচ্ছাপোষণ করেন এক আলোকচিত্রী।

ব্লগার ইয়ুকিং ওয়েবসাইট অপারেটর কুয়ানমিংয়ের সাথে ফুজিয়ান রাজ্যে তার গ্রামের বাড়িতে গিয়েছিলেন। যাওয়ার আগে দু'জনের মধ্যে হাতে লেখা একটি চুক্তি হয়। এতে তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠ কোনো সম্পর্ক হবে না কিংবা তারা পান করবেন না বলে সম্মত হন। তবে ঘরের কাজে কুয়ানমিংয়ের মা-বাবাকে সহায়তা করবেন বলে রাজি হয়েছিলেন ইয়ুকিং।

বাড়ির উদ্দেশ্যে রওয়ানা হওয়ার আগে লিখিত চুক্তি ছাড়াও নিজেদের মধ্যে আলোচনা সেরে নেন ইয়ুকিং আর কুয়ানমিং। সেই সময় তারা পরিবারের সামনে নিজেদের মধ্যকার দীর্ঘদিনের সম্পর্কের বানানো গল্প কীভাবে এবং কতটুকু বলবেন, তা আলোচনা করে নিয়েছিলেন।

কুয়ানমিংয়ের বাড়িতে যাওয়ার পর ইয়ুকিংকে বেশ ভালোভাবে গ্রহণ করেন কুয়ানমিংয়ের মা নং চিওরং।

ইয়ুকিং যেন নিজের বাড়ি মনে করে সেখানে থাকতে পারেন সেই ব্যবস্থা করেছিলেন চিওরং।

এছাড়া ছেলে কুয়ানমিং ইয়ুকিংয়ের সাথে তার সম্পর্কের ব্যাপারে বেশি কিছু জানতে না চাইতে মা চিওরংকে অনুরোধ করেছিলেন। চিওরং ছেলের এই অনুরোধ রেখেছিলেন।

কুয়ানমিংয়ের বাড়িতে সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী ঘটেছে। তার পরিবারের সদস্যরা সত্যটা ধরতে পারেনি।

সেখানে গিয়ে ইয়ুকিংয়ের বেশ ভালো অভিজ্ঞতা হয়। বিষয়টি তিনি পরবর্তীতে তার ব্লগে তুলে ধরেন।

কুয়ানমিং অবশ্য পরে মাকে সব ঘটনা খুলে বলেন। ইয়ুকিংয়ের ব্লগ মা চিওরংকে দেখান।

চিওরং জানান, সত্যটা জানার পর তার মেজাজ বিগড়ে যায়নি। বরং ইয়ুকিংয়ের ব্লগ পড়ে তিনি আপ্লুত হয়েছেন বলে জানান।

অবশ্য এই ঘটনার পর ছেলের বিয়ে নিয়ে আবারও চিন্তিত হয়ে পড়েছেন বলে জানিয়েছেন চিওরং।

চীনে গ্রামে থাকা মা-বাবাদের এই আগ্রহের জন্য ফেক গার্লফ্রেন্ড ও বয়ফ্রেন্ড খোঁজার অ্যাপ এবং ওয়েবসাইটের বেশ প্রচলন শুরু হয়েছে। ফলে বিশোর্ধ্ব ও দেখতে সুন্দর ছেলে বা মেয়ে ছুটির সময় ৪৩৬ থেকে ১,৪৫৩ ডলার পর্যন্ত আয় করে থাকে।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫