পাঁচ জেলার মানুষকে এনওসি সংগ্রহের জন্য আর ঢাকার আসতে হবে না
পাঁচ জেলার মানুষকে এনওসি সংগ্রহের জন্য আর ঢাকার আসতে হবে না

পাঁচ জেলার মানুষকে এনওসি নিতে ঢাকায় আসতে হবে না

জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর বহির্গমন শাখা
মনির হোসেন

চট্টগ্রাম, যশোরসহ পাঁচ জেলার মানুষকে নো অবজেকশন সার্টিফিকেট (এনওসি) সংগ্রহের জন্য আর ঢাকার প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে এসে ভিড় জমাতে হবে না। এখন থেকে তারা নিজ নিজ জেলার জেলা জনশক্তি কর্মসংস্থান ব্যুরো অফিস থেকেই ওয়ান স্টপ সার্ভিস সেন্টারের মাধ্যমে সংগ্রহ করতে পারবেন।

সম্প্রতি প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রীর নির্দেশে এ নিয়ম চালু হয়েছে। এতে বিদেশগামী নারী ও পুরুষ কর্মীদের ভোগান্তি ও অর্থ অপচয় দূর হবে। শুধু তা-ই নয়, প্রতারক ও দালাল চক্রের উৎপাতও কমে আসবে।

জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর পরিচালক (বহির্গমন) আতিকুর রহমান গত সপ্তাহে নয়া দিগন্তকে বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে বিদেশগামীদের সংখ্যা বাড়ছে। ইতোমধ্যে মালয়েশিয়া, সৌদি আরবসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে প্রায় ছয় লাখ কর্মী চলে গেছেন। এর মধ্যে সৌদি আরবেই গেছেন তিন লক্ষাধিক শ্রমিক। এরপরের অবস্থানে আছে ওমান ও কাতার।

বিদেশে থাকা স্বামীর কাছে যেতে স্ত্রী বা সন্তানেরা নো অবজেকশন সার্টিফিকেট নিতে আসতে হচ্ছে ঢাকার প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে। এতে এক দিকে দূর-দূরান্ত থেকে ঢাকায় আসার পর থাকা ও কাজ শেষ করতে যেমন সময় নষ্ট হচ্ছে; ঠিক তেমনি অতিরিক্ত টাকাও খরচ হচ্ছে। অনেকে আবার পড়ছেন টাউট-বাটপারদের পাল্লায়ও। আবার মহিলা কর্মীর ক্ষেত্রে একজনের সাথে একজন পুরুষ সদস্য অতিরিক্ত আসতে হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে টাকা খরচের পাশাপাশি হয়রানিও বাড়ছে। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে বৃহত্তর আরো পাঁচ জেলার মানুষকে আর ঢাকায় আসতে হবে না।

এখন থেকে ওই জেলার লোকেরা নিজ নিজ জেলা কর্মসংস্থান কার্যালয়ে গিয়ে ওয়ান স্টপ সার্ভিসের মাধ্যমে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এনওসিসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ করতে পারবেন।

তিনি বলেন, নো অবজেকশন সার্টিফিকেট (এনওসি) যাদের প্রয়োজন, তাদের আগে ঢাকায় এসে সংগ্রহ করতে হতো। কিন্তু গত মাসে চট্টগ্রাম, সিলেট, কুমিল্লা, রংপুর ও যশোরের মানুষের জন্য এক অফিস আদেশ জারি হয়েছে। এখন থেকে তাদের আর ঢাকায় এসে সার্টিফিকেট নিতে হবে না। এতে মহিলাদের হয়রানি কমবে।

বিদেশগামীদের এনওসি সার্টিফিকেট পাওয়ার নিয়ম প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, যিনি বিদেশ যাবেন তার ভিসাসহ পাসপোর্ট লাগবে। যদি স্বামীর কাছে যায় তাহলে তার নাম-ঠিকানা এবং শিশু হলে জন্ম নিবন্ধন সার্টিফিকেট ব্যুরোর সংশ্লিষ্ট শাখায় জমা দিতে হবে। কাগজপত্র ঠিক থাকলে ওয়ান স্টপ সার্ভিসের মাধ্যমে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আমরা এনওসি ডেলিভারি দেয়ার ব্যবস্থা করছি। বহির্গমন পরিচালক আতিকুর রহমান এ প্রতিবেদককে বলেন, শুধু এনওসি আর ফিঙ্গারপ্রিন্ট নয়, বহির্গমন শাখার কাজকর্মেও আমি এসে পরিবর্তন এনেছি।

এর মধ্যে আগে এজেন্সির প্রতিনিধিরা ফাইল জমা দেয়ার নামে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মাথার ওপর এসে হুমড়ি খেয়ে পড়তেন। এতে কাজের ব্যাঘাত ঘটত। এখন নিয়ম করেছি, নথি উত্থাপন করার জন্য এজেন্সির প্রতিনিধিরা সর্বোচ্চ সাড়ে ১২টা পর্যন্ত সময় পাবে। এরপর তারা বের হয়ে যাবেন। বেলা সাড়ে ৩টা পর্যন্ত কেউ ভেতরে ঢুকতে পারবেন না। এরপর প্রতিনিধিরা তাদের অনুমোদিত ফাইলপত্র রেডি পেয়ে যাচ্ছে বলে জানান তিনি। এতে কাজের শৃঙ্খলাও ফিরে এসেছে।

এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, জি টু জি প্লাস পদ্ধতিতে মালয়েশিয়ায় কর্মী যাওয়ার গতি বাড়ছে। গত দুই মাস স্লো থাকলেও চলতি মাস থেকেই গতি এসেছে। সর্বশেষ ১৪ হাজার শ্রমিক নতুন পদ্ধতিতে মালয়েশিয়া গেছেন। আরো অনেক চাহিদা প্রসেসিংয়ে রয়েছে। প্রফেশনাল ভিসারও বহির্গমন ছাড়পত্র দেয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.