ঢাকা, বুধবার,১৬ আগস্ট ২০১৭

অন্যান্য

সেই 'চুল চোর' এখনো ধরা পড়েনি

বিবিসি

০৪ আগস্ট ২০১৭,শুক্রবার, ১০:৪৫


প্রিন্ট
'চুল চুরি'র শিকার এক নারী

'চুল চুরি'র শিকার এক নারী

দিন কয়েক আগেই এই অদ্ভুদ চুরির কথা প্রকাশ পায়। স্বর্ণ-গয়না কিংবা জামা-কাপড়, এই সব কিছু চুরি করে না এই চোর। তার নেশা চুল, সে শুধু চুল চুরি করে। ভারতের উত্তরাঞ্চলীয় প্রদেশ হরিয়ানা ও রাজস্থানে ঘটেছিল এই ঘটনা।

পুলিশও এই রহস্যের কূল-কিনারা খুঁজে পাচ্ছে না। এখনো ধরা পড়েনি সেই চোর। রীতিমতো নাকানিচুবানি খেতে হচ্ছে তাদের।

এই রহস্যেঘেরা 'চুল চোর' কে নিয়ে দুই রাজ্যের নারীদের মধ্যে যে ভয় ও আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।

"হঠাৎ একদিন তীব্র আলোর ঝলকানি আমাকে অচেতন করে দেয়। এক ঘণ্টা পর জেগে দেখি আমার চুল কেটে নেয়া হয়েছে," বলেন সুনিতা দেবী। তার বয়স ৫৩ বছর।

হরিয়ানার গুরগাঁও জেলার ভিমগড় খেরির এই গৃহিনী শুক্রবারের ওই হামলার 'মানসিক আঘাত' ভুলতে পারছেন না। তিনি না পারছেন ঘুমাতে, কোনো কিছুতে মনোযোগও দিতে পারছেন না।

সুনিতা দেবী যে এলাকায় থাকেন সেটি মূলত ব্যবসায়ী এবং কৃষক অধ্যুষিত এলাকা। তিনি অভিযোগ করেছেন, চুল কেটে নেয়া বয়স্ক পুরুষ চোরের পরনে ছিল উজ্জ্বল রঙয়ের কাপড়।

রাত সাড়ে ৯টার দিকে নিচতলায় একা ছিলেন সুনিতা; ছেলের বউ আর নাতি ছিলেন দোতলায়। অথচ কেউই কিছু শুনতে পায়নি।

তারা যে গলিতে থাকেন সেখানে আরো প্রায় ২০টির মতো ঘর আছে। রাত ৯টা থেকে ১০টা পর্যন্ত প্রত্যেকটি বাড়িতে লোক গমগম করে বলে জানান প্রতিবেশিরা, রাতের খাবারের পর সবাই কথা বলে বা বিশ্রাম করে।

"শুক্রবারও এর ব্যতিক্রম ছিল না। কিন্তু প্রতিবেশিদের কেউই সুনিতা দেবীর বাসায় কাউকে ঢুকতে বা বের হতে দেখেনি" বলেন মুনেশ দেবী।

ফলে, রহস্য আরো ঘনীভূত হয়।

কিন্তু ঘটনা এখানেই শেষ নয়। পরদিন একই ধরনের ঘটনা ঘটে।

সুনিতা দেবীর বাসার কয়েক গজ দূরে থাকেন গৃহকর্মী আশা দেবী; তিনিও রাতের আঁধারে তার চুল হারান। কিন্তু এবারের হামলাকারী পুরুষ নন, একজন নারী।

আশা দেবীর শ্বশুর জানান, হামলার পরদিনই ছেলের বউসহ বাড়ির সব নারীকে উত্তর প্রদেশের এক আত্মীয়ের বাড়িতে রেখে আসেন তিনি।

স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, চুল কেটে নিয়ে যাওয়া এই 'ভুতুরে নাপিত' প্রথম দেখা যায় রাজস্থানে, জুলাই মাসে।

এরপর থেকে হরিয়ানা এমনকি রাজধানী দিল্লিতেও এই ধরনের ঘটনার খবর পাওয়া গেছে।

এরই মধ্যে 'চুল চোর' কে নিয়ে নানা ধরনের গল্প চালু করে দিয়েছেন অনেকে।

কারো মতে, সংঘবদ্ধ কোনো চক্র এমন হামলার সাথে জড়িত। আবার কারো মতে, তান্ত্রিক বা ডাইনিরা বেছে বেছে নারীদের চুল কাটছেন। কারো বিশ্বাস, এসব ঘটনায় জড়িয়ে আছে 'অতিপ্রাকৃত শক্তি'।

অনেকে আবার বলছেন, নারীরা গণমাধ্যমের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য নিজেরাই নিজেদের চুল কাটছেন।

যুক্তিবিদ সানাল এদামারুকুর মতে এটি হচ্ছে 'গণ-হিস্টিরিয়া'র চমৎকার উদাহরণ।

তবে যে যাই বলুক না কেন রাজস্থানের একের পর এক গ্রামের নারীরা চুল চুরি নিয়ে বেশ আতঙ্কেই আছেন।

গুরগাঁও পুলিশের মুখপাত্র রাভিন্দ্র কুমার জানিয়েছেন, তারা এসব ঘটনার তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছেন।

তিনি বলেন, "এগুলো সব অদ্ভুত ঘটনা। ঘটনাস্থলে কোনো আলামত পাইনি, হামলার শিকারদের মেডিক্যাল রিপোর্টেও কোনো অস্বাভাবিকতা ধরা পড়েনি; অন্য কেউ হামলাকারীকে দেখেওনি।"

বিভিন্ন জেলার পুলিশ সম্মিলিতভাবে এসব ঘটনা নিয়ে কাজ করছে বলে জানান রাভিন্দ্র। জনসাধারণকে এ বিষয়ক গুজবে কান না দিতেও পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫