ঢাকা, সোমবার,১১ ডিসেম্বর ২০১৭

বিবিধ

তৃণমূল থেকে প্রতিভা অন্বেষণ কর্মসূচিতে এবার ৪৯টি ফেডারেশনকে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে

নয়া দিগন্ত অনলাইন

০২ আগস্ট ২০১৭,বুধবার, ১৩:২১


প্রিন্ট

চলতি অর্থবছরে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের (এনএসসি) আওতায় বিভিন্ন ইভেন্টে তৃণমূল থেকে প্রতিভা অন্বেষণ ও প্রশিক্ষণ কর্মসূচি আরো বৃহৎ পরিসরে আয়োজনের পরিকল্পনা করা হয়েছে। গত অর্থ বছরে (২০১৬-১৭) অর্থ মন্ত্রণালয়ে বিশেষ থোক বরাদ্দ থেকে এনএসসি এই কর্মসূচিতে ৩১টি ফেডারেশনকে অন্তর্ভুক্ত করেছিল।
এই ৩১টি ফেডারেশনের জন্য জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ সর্বমোট ১৫ কোটি ১০ লাখ টাকার একটি প্রকল্প পরিচালনা করে। এবার সেই একই প্রকল্পে ব্যাপক পরিবর্তন করে ফেডারেশনের সংখ্যা বাড়ানোর পাশাপাশি পুরো ব্যয় বাবদ অর্থের পরিমাণও প্রায় চারগুণের বেশি বৃদ্ধি করা হয়েছে। ইতোমধ্যেই এ প্রকল্পের জন্য ৬৫ কোটি ৪৯ লাখ টাকার একটি প্রজেক্ট প্রোফাইল মন্ত্রণালয়ে জমা দেয়া হয়েছে বলে বাসস’কে জানিয়েছেন জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের সচিব অশোক কুমার বিশ্বাস। তিনি আরো বলেছেন, এবারের প্রকল্পে ৪৯টি ফেডারেশনের সবক’টিকেই অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
গত বছরের ধারাবাহিকতায় ও পুরো কর্মসূচি যাচাই-বাছাই করেই এবারের প্রজেক্ট প্রোফাইল তৈরি করা হয়েছে। প্রথমবারের আয়োজনে কিছু ভুল ত্রুটি ছিল স্বীকার করে সচিব বলেছেন, কিছু কিছু ফেডারেশনের সাংগঠনিক দুর্বলতার কারণে পুরো কর্মসূচি তারা সমাপ্ত করতে পারেনি। এর মধ্যে এ্যাথলেটিক ও ভারোত্তোলন ফেডারেশনের তিন কিস্তি, সাঁতারের দুই কিস্তি ও টেনিসের এক কিস্তির টাকা সরকারকে ফিরিয়ে দিতে হয়েছে। তবে এবার এই বিষয়গুলোর প্রতি বিশেষ নজড় দেয়া হবে বলে অশোক কুমার বাসস’কে জানান।
প্রকল্পের পরিধি যেহেতু বেড়েছে এবার তাই ফেডারেশনগুলোতে বরাদ্দকৃত অর্থের পরিমাণও সমানুপাতিক হারে বাড়ানো হয়েছে। গত বছর ফুটবলের জন্য সর্বোচ্চ ১ কোটি ১১ লাখ টাকা বরাদ্দ থাকলেও এবার তারা পাচ্ছে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ প্রায় ৫ কোটি ৩১ লাখ টাকা। আর দেশজুড়ে প্রতিভা অন্বেষণ ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে অন্যসব ফেডারেশন থেকে স্বাভাবিকভাবেই এগিয়ে থাকা ক্রিকেট পাচ্ছে সর্বোচ্চ ৫ কোটি ৫৪ লাখ টাকা। এসবই অবশ্য এখনো এনএসসি’র প্রস্তাবিত প্রজেক্ট প্রোফাইালের মধ্যেই সীমাবদ্ধ আছে।
তৃণমূল থেকে প্রতিভা অন্বেষণে সরকারের এ পদক্ষেপ নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবিদার। কিন্তু এজন্য সংশ্লিষ্ট ফেডারেশনগুলোর আন্তরিকতা ও সঠিক পর্যবেক্ষণ জরুরি। শুধুমাত্র প্রতিভা খুঁজে বের করাই এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য নয় বলে জানিয়েছেন এনএসসি সচিব। সরকারের অর্থায়নে এত বড় পরিসরে এই ধরনের কর্মসূচি আগে কখনও বাংলাদেশে বাস্তবায়িত হয়নি। সে কারণেই অশোক কুমার সকল ফেডরেশনের প্রতি আন্তরিকতার সাথে খেলোয়াড়দের খুঁজে বের করা ও পরবর্তীতে তাদের সঠিকভাবে প্রশিক্ষণসহ বিভিন্নভাবে তাদেরকে টুর্নামেন্টে খেলার সুযোগ করে দেবার প্রতিও আহ্বান জানিয়েছেন। এর মাধ্যমেই বিভিন্ন ডিসিপ্লিনে একটি শক্তিশালী জাতীয় দল গঠনের পথ সুগম হবে।
সারাদেশ থেকে প্রতিভাবান তরুণদের খুঁজে বের করার জন্য জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ বয়সও নির্ধারণ করে দিয়েছে। বালক ও বালিকা বিভাগে অনূর্ধ্ব-১৬ বছর বয়সী খেলোয়াড়রাই এই প্রকল্পের আওতায় যোগ্য বলে বিবেচিত হয়েছে। তবে গত অর্থ বছরে একেকটি ডিসিপ্লিনের এই কর্মসূচি শেষ হবার মেয়াদ সর্বোচ্চ চার মাস ছিল। এর মধ্যে তিন ধাপে সারা দেশ থেকে প্রতিভাবান বালক-বালিকা বাছাইয়ের পরে চূড়ান্ত পর্বটি সকলের জন্য ঢাকায় আয়োজনের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল এনএসসি। এবারও তার ব্যতিক্রম নয়, তবে এই সময়সীমা আরো বাড়তে পারে বলে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। মাত্র এক মাসের ট্রেনিংয়ে মূলত সঠিকভাবে একজন খেলোয়াড়কে পূর্ণাঙ্গ মাত্রায় তৈরি কিছুটা কঠিন হয়ে পড়ে। ট্রেনিংয়ের কোন বিকল্প নেই- ক্রীড়াঙ্গনে এই চিরাচরিত বিষয়টিকে মাথায় রেখেই এবার ট্রেনিংয়ের সময় বাড়িয়ে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার একটি সিদ্ধান্ত হতে পারে বলে জানা গেছে। ট্রেনিংয়ের জন্য ফেডারেশনগুলোকে নির্দিষ্ট সময় দিয়ে দেয়া হবে। প্রতিভা অন্বেষণের পাশাপাশি ট্রেনিংয়েও জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের বিশেষ নজড়দারী থাকবে। ফেডারেশনগুলো সঠিক কার্যক্রমের ওপরই মূলত এই প্রকল্পের ভবিষ্যত নির্ভর করছে। তবে প্রতি বছর যাতে এই ধরনের প্রকল্পে নির্ধারিত অর্থ বরাদ্দ থাকে এজন্য জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের পক্ষ থেকে সব ধরনের চেষ্টাই অব্যাহত থাকবে বলে সচিব জানিয়েছেন। ইতোমধ্যেই অবশ্য অর্থ মন্ত্রণালয়ের সবুজ সঙ্কেতও পাওয়া গেছে বলেই এবারের কর্মসূচির ব্যয় ও পরিধি বাড়ানো সম্ভব হয়েছে।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫