ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় সহায়তা দেবে জাতিসঙ্ঘ
ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় সহায়তা দেবে জাতিসঙ্ঘ

ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় কী করবে জাতিসঙ্ঘ

আহমেদ ইফতেখার

বিশ্বব্যাপী প্রযুক্তিগত উন্নয়ন হচ্ছে দ্রুত। ডিজিটাল বিভিন্ন সেবার জন্য ইলেকট্রিক্যাল এবং ইলেকট্রনিকস সরঞ্জাম ব্যবহার বাড়ছে একই গতিতে। ব্যাপক চাহিদার কারণে এসব পণ্যের জীবনচক্র ছোট হয়ে এসেছে এবং অনেক ইলেকট্রনিকস পণ্য মেরামত বা পুনরায় ব্যবহার উপযোগী নয়। এর ফলে ইলেকট্রনিক বর্জ্য বা ই-বর্জ্যের পরিমাণ দ্রুত বাড়ছে।

ডিজিটাল এবং উচ্চপ্রযুক্তিনির্ভর ডিভাইস যেমন মোবাইল ফোন, কম্পিউটার, টিভি, ফ্রিজ, ওভেনের মতো পণ্যগুলো জীবনকে অনেক সহজ করেছে। কিন্তু এসব ডিভাইস ব্যবহারের কয়েক বছর পর কর্মক্ষমতা শেষ হলে ফেলে দেয়া হচ্ছে যেখানে সেখানে। ব্যবস্থাপনার অভাবে ই-বর্জ্য পরিবেশ ও মানুষের শরীরে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে।

সম্প্রতি ইন্টারন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন ইউনিয়ন জানিয়েছে, বৈশ্বিকভাবে ক্রমবর্ধমান ই-বর্জ্য নিয়ে পর্যালোচনা ও ব্যবস্থাপনায় সহায়তা দিতে জাতিসঙ্ঘের কয়েকটি এজেন্সি একত্রে কার্যক্রম শুরু করেছে। বিভিন্ন দেশ থেকে কী পরিমাণ ই-বর্জ্য উৎপাদিত হচ্ছে এবং এসব বর্জ্য কোথায় যাচ্ছে তা পর্যালোচনা ও ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে সহায়তা দেবে জাতিসঙ্ঘের একাধিক এজেন্সি। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের জন্য ক্রমবর্ধমান ই-বর্জ্যরে সঠিক ব্যবস্থাপনা বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এসব দেশকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে ইন্টারন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন ইউনিয়ন, দ্য ইউনাইটেড নেশন ইউনিভার্সিটি এবং দ্য ইন্টারন্যাশনাল সলিড ওয়াস্ট অ্যাসোসিয়েশন মিলে ‘গ্লোবাল ই-ওয়াস্ট স্ট্যাটিস্টিক পার্টনারশিপ’ গঠন করেছে যা বিশ্বব্যাপী উৎপন্ন হওয়া ই-বর্জ্যরে পরিসংখ্যান সংগ্রহ এবং ব্যবস্থাপনা উন্নত করতে কাজ করবে।

জাতিসঙ্ঘ পরিবেশ কর্মসূচির তথ্যমতে, বর্তমানে বেশির ভাগ ই-বর্জ্যই সঠিক উপায়ে নথিভুক্ত করা, পুনর্ব্যবহারযোগ্য প্রক্রিয়া অথবা সঠিক পদ্ধতি অনুসরণ করে ব্যবস্থাপনার উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে না। ২০১৫ সালের তুলনায় ২০ শতাংশ বেড়ে চলতি বছর পাঁচ কোটি টনের বেশি ই-বর্জ্য তৈরি হওয়ার শঙ্কা করা হচ্ছে। 

ইন্টারন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন ইউনিয়নের মহাসচিব আওয়ার ঝাও বলেন, ‘গ্লোবাল ই-ওয়াস্ট স্ট্যাটিস্টিক পার্টনারশিপ’ বিভিন্ন দেশকে বিশ্বাসযোগ্য এবং তুলনাযোগ্য ই-ওয়াস্ট পরিসংখ্যান তৈরিতে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেবে। পাশাপাশি ই-ওয়াস্ট পর্যালোচনা এবং ব্যবস্থাপনা বিষয়ে দক্ষতা বৃদ্ধিতে ওয়ার্কশপ ও কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ার গুরুত্ব তুলে ধরবে। বিশ্বব্যাপী ই-বর্জ্য পর্যালোচনা এবং ব্যবস্থাপনা বিষয়ে আইটিএসের পূর্ব অভিজ্ঞতা রয়েছে। ই-বর্জ্য পর্যালোচনা ও ব্যবস্থাপনা-বিষয়ক উদ্যোগের অংশীদার হতে পেরে আমরা খুশি।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে যাতে সঠিক ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বাস্তবায়ন করা যায় সে জন্য আমরা দক্ষ জনশক্তি এবং দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতার আলোকে প্রয়োজনীয় সব সহায়তাদান করতে পারব।বিশ্বের কোনো দেশে ই-বর্জ্যের উৎপাদন কমাতে এ বিষয়ে সঠিক ডাটা, ই-বর্জ্যরে অবৈধ ডাম্পিং রুখতে, পুনর্ব্যবহার বিষয়ে প্রচারণা এবং পুনর্ব্যবহারযোগ্য, পরিমার্জিত ও রিসাইক্লিং খাতে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা জাতিসঙ্ঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য অর্জনে ভূমিকা রাখবে। 

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.