ঢাকা, মঙ্গলবার,১২ ডিসেম্বর ২০১৭

বিবিধ

ঢাকার জলাবদ্ধতা দায় কার?

আহমেদ ইফতেখার

৩১ জুলাই ২০১৭,সোমবার, ১৪:৪৫


প্রিন্ট
ঢাকার জলাবদ্ধতা

ঢাকার জলাবদ্ধতা

জলাবদ্ধতা রাজধানীর অনেক পুরনো সমস্যা। এই সমস্যা সমাধানে বিভিন্ন সময় নেয়া হয়েছে নানা প্রকল্প। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না। নগর পরিল্পনাবিদরা বলছেন, দিন দিন ঢাকা শহরের খোলা জায়গাগুলো দখল হয়ে যাচ্ছে, আর দখল হয়ে যাওয়া জায়গাগুলোতে পাকা দালান গড়ে ওঠায় পানি চুয়ে নিচে যেতে না পারায়, রান অব ওয়াটার বেড়ে যাচ্ছে। এতে করে জলাবদ্ধতা দিন দিন বাড়ছে। অন্য দিকে আবহাওয়াবিদরা বলছেন, প্রতি আট দশ বছর পরপর এ রকম অতি বর্ষণ হতে পারে, এটাকে মাথায় নিয়েই নগরীর ড্রেনেজ সিস্টেম করা উচিত। লিখেছেন আহমেদ ইফতেখার

সাধারণত বৃষ্টির পানি প্রথমত ভূগর্ভে শোষণ করে নেয়, বাকি পানি রান অব ওয়াটার হয়ে খাল বিল ও ড্রেন দিয়ে নদীতে চলে যায়। কিন্তু এখানে এই দুই পথের সবই অকার্যকর। তাছাড়া নগরীতে যে ড্রেনগুলো আছে তাও আবর্জনায় পূর্ণ, পানি যাওয়ার রাস্তায় বাধা প্রাপ্ত হচ্ছে, এ কারণে নগরীর জলাবদ্ধতা প্রকট আকার ধারণ করছে। যদিও এ ক্ষেত্রে নগরবাসীর দায়ও কম নয় বলে মনে করেন নগর পরিকল্পনাবিদরা। নিষিদ্ধ পলিথিন আর যেখানে সেখানে ময়লা আবর্জনা ফেলার বাজে অভ্যাস যত দিন নগরবাসী বাদ না দেবে, তত দিন জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব নয় বলেই তারা মনে করেন।

রাজধানীর ড্রেনেজ সিস্টেমের দায়িত্ব ছিল স্থানীয় সরকার ও সিএনবির ওপর। কিন্তু আশির দশকে ওয়াসা ড্রেনেজ বিভাগ খুলে দায়িত্ব তাদের কাঁধে তুলে নেন। সে অনুযায়ী নগরীর জলাবদ্ধতা দূর করার দায়িত্ব ওয়াসার। কিন্তু এখন এসে ওয়াসা জলাবদ্ধতার দায় নিতে চাচ্ছে না। অন্য দিকে সিটি করপোরেশন বলছে জলাবদ্ধতার দায় ওয়াসার ওপরই বর্তায়।

স্থপতি ইকবাল হাবিবের মতে, ঢাকা জলাবদ্ধতা সমস্যা সমাধানে একটি রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নিতে হবে। গণসচেতনা সৃষ্টি করতে হবে। যার যা কিছু আছে তাই নিয়ে সবাই নেমে পড়বে। সব ড্রেনেজ সিস্টেম পরিষ্কার করতে হবে। যাতে নদী পর্যন্ত পুরো লাইন পরিষ্কার থাকে। সব খাল-বিল, ড্রেন, বক্স কালভার্ট, জলাধার পরিষ্কার করে ঢাকার রাস্তাগুলোর সাথে সংযোগ লাইনগুলো পরিষ্কার রাখতে হবে। যাতে পানি সরল রেখায় প্রবাহিত হতে পারে। নদী পর্যন্ত এগুলো সচল রাখার সমন্বিত উদ্যোগ নিতে হবে। এর জন্য প্রয়োজন সমন্বিত কর্মদ্যোগ এবং তার বাস্তবায়ন। এটা করতে না পারলে রাজধানীর জলাবদ্ধতা দূর করা সম্ভব হবে না। একটা নালা পরিষ্কার করলে দেখবেন, সেখানে বিচিত্র সব আবর্জনা পাওয়া যায়। পলিথিন থেকে শুরু করে প্লাস্টিকের বোতল, চিপসের মোড়ক- কি নাই সেখানে। এজন্য সচেতন হওয়ার এখনই সময়।


ঢাকার সাম্প্রতিক জলাবদ্ধতা অনেকটা মানবসৃষ্ট, বলেছেন পানিসম্পদমন্ত্রী ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ। এ জন্য নগরবাসীও খানিক দায়ী। এ সমস্যা থেকে উত্তরণের জন্য নগরবাসীকে সচেতন হতে হবে। যেখানে সেখানে ফেলা ময়লা, পলিথিন, আবর্জনায় ড্রেন আটকে থাকায় পানি নিষ্কাশন বাধাগ্রস্ত হয়। এর ফলে সৃষ্টি হচ্ছে জলাবদ্ধতা। গত শনিবার রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে দক্ষিণ এশিয়া, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, পূর্ব এশিয়া ও ডেল্টা কোয়ালিশনভুক্ত অঞ্চলের ২৭টি দেশের অংশগ্রহণে ‘ঢাকা পানি সম্মেলনে’ মন্ত্রী পর্যায়ের আলোচনা শেষে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, ঢাকার জলাবদ্ধতা সৃষ্টির পেছনে আমরাই দায়ী। কারণ আমরা অপরিকল্পিতভাবে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা করছি। পলিথিন ফেলছি। এগুলো ড্রেনে আটকে থেকে পানি নিষ্কাশনে সমস্যা হচ্ছে। এবার যে বৃষ্টিপাত হয়েছে সেটি অস্বাভাবিক, অতিরিক্ত। স্বাভাবিক বৃষ্টিপাত এবার হয়নি। তার পরও ঢাকার ৮০ শতাংশ পানি তিন ঘণ্টার মধ্যে নিষ্কাশন হয়েছে। এর মানে হলো ঢাকায় পানি নিষ্কাশনে সব সিস্টেমই আছে। তবে পলিথিনসহ বর্জ্য আটকে থাকায় পানি নিষ্কাশনে সময় নিচ্ছে। এবার বন্যা হয়েছে হাওরে। ঢাকায় কোনো বন্যা হয়নি। তবে এবার সারা দেশেই অস্বাভাবিক বৃষ্টিপাত হয়েছে। এটা জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব।

সবকিছু মিলিয়ে নগরীর জলাবদ্ধতার দায় যে যার মতো করে একে অপরের ওপর চাপাচ্ছে, কিন্তু এর থেকে মুক্তি মিলছে না নগরবাসীর। বরং এই সমস্যা দিন দিন প্রকট আকার ধারণ করছে!

 

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫