ঢাকা, সোমবার,২১ আগস্ট ২০১৭

নির্বাচন

জাতি প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচন চায় না : ইসি সচিব

সুশীল সমাজের সাথে ইসির সংলাপ কাল সোমবার

নিজস্ব প্রতিবেদক

৩০ জুলাই ২০১৭,রবিবার, ২০:২৭ | আপডেট: ৩০ জুলাই ২০১৭,রবিবার, ২০:৩৩


প্রিন্ট

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে নির্বাচন বিশেষজ্ঞসহ অংশীজনদের সাথে আগামীকাল সোমবার থেকে ধারাবাহিক সংলাপ শুরু করছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। নির্বাচন সংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে সুশীল সমাজের সাথে কমিশন সংলাপে বসবে। সকাল পৌনে ১১টায় নির্বাচন ভবনের সম্মেলন কক্ষে এ সংলাপ হবে।

সংলাপে সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের পর্যাপ্ত সময় দেয়া হবে। আমন্ত্রিত অতিথিদের (সুশীল সমাজ) বক্তব্য শেষ না হওয়া পর্যন্ত বৈঠক চলবে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার কবিতা খানম।

আজ গণমাধ্যমের সাথে আলাপকালে তিনি বলেন, সুশীল সমাজের সাথে আলোচনার জন্য প্রয়োজনে সময় বৃদ্ধি করা হবে। আগে জোহরের নামাজ পর্যন্ত আলোচনার সিদ্ধান্ত থাকলেও নামাজের বিরতির পরও আলোচনা অব্যাহত থাকবে।
তিনি বলেন, সুশীল সমাজের সাথে আলোচনার সময় তো আমরা নির্ধারণ করে দেইনি। সময় বৃদ্ধির সুযোগ আছে। সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা সময়ের অভাবে কথা বলতে পারবেন না, তা তো হতে পারে না। তাই যতক্ষণ প্রয়োজন তাদের সাথে আমরা আলোচনা চালিয়ে যাব।

এর আগে সংলাপে সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা গড়ে দুই মিনিট কথা বলার সুযোগ পাবেন বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর আসে। সংলাপের কার্যপত্রের সূত্র ধরে এ খবর প্রকাশ করা হয়। এতে সংলাপে আমন্ত্রণ পাওয়া সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

এদিকে আজ ইসি সচিবালয়ে নতুন ভারপ্রাপ্ত সচিব হেলালুদ্দিন আহমদ বলেছেন, নির্বাচন কমিশন একটি রোডম্যাপ প্রণয়ন করেছে এবং সোমবার সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের সাথে তাদের মতবিনিময় হবে। এটা ধারাবাহিকভাবে আরো কিছুদিন চলবে। দেশের নারী নেতৃত্ব, সাংবাদিকসহ অন্যদের সাথেও কথা বলা হবে। কমিশন যেটা অনুভব করেছে সেটা হল, সবার মতামত নিয়ে আগামীতে যাতে সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন করা যায়।

নির্বাচন কমিশন সচিবালয় সূত্রে জানা গেছে, সংলাপে কমিশন প্রণীত নির্বাচনী কর্মপরিকল্পনা বা রোডম্যাপ উপস্থাপন করে এ বিষয়ে নির্বাচন বিশেষজ্ঞ, রাজনৈতিক দল, সুশীল সমাজ, গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব, পর্যবেক্ষক, নারী নেত্রীসহ প্রধান অংশীজনদের মতামত নেয়া হবে। তাদের পরামর্শ ও মতামতের উপর ভিত্তি করে কমিশন তার কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করবে। নির্বাচনী কর্মপরিকল্পনা বা রোডম্যাপের আলোকেই সংলাপের এজেন্ডা বা কার্যপত্র তৈরি করা হয়েছে।

সংলাপে নির্বাচনী আইন ও বিধিমালা সংশোধন, সংসদীয় আসনের সীমানা পুনঃনির্ধারণ আইন যুগোপযোগী করা, নির্ভুল ভোটার তালিকা প্রণয়নে পরামর্শ, ভোটকেন্দ্র স্থাপন সংক্রান্ত কার্যক্রম যুগোপযোগী করার বিষয়ে পরামর্শ, নতুন রাজনৈতিক দল নিবন্ধন এবং নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল নিরীক্ষা সংক্রান্ত প্রস্তাবনাসহ সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানে সক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয়ে মতামত গ্রহণ সংলাপের এজেন্ডায় অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে। সংলাপে অংশগ্রহণের জন্য সুশীল সমাজের ৫৯ জন প্রতিনিধিকে ইসির পক্ষ থেকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ১৬ জুলাই নির্বাচন কমিশন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে কর্মপরিকল্পনা বা রোডম্যাপ প্রকাশ করে। এই কর্মপরিকল্পনায় সাতটি বড় বিষয়ের ওপর কার্যক্রম নেয়ার পরিকল্পনা করে এবং এর মধ্যে বড় একটা বিষয় ছিল সংলাপ। ৩১ জুলাই সুশীল সমাজের মাধ্যমে এই সংলাপ শুরু হতে যাচ্ছে। সুশীল সমাজের ৫৯ জনের তালিকায় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা, সাবেক সচিব, সাবেক রাষ্ট্রদূত, বিচারপতি, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক, আইনজীবী, অর্থনীতিবিদ, বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধি, নির্বাচন পর্যবেক্ষক, মিডিয়া ব্যক্তিত্বসহ বিশিষ্ট নাগরিকরা রয়েছেন।

গত ৬ ফেব্রুয়ারি কে এম নূরুল হুদার নেতৃত্বে নতুন নির্বাচন কমিশন গঠিত হয়। এই নির্বাচন কমিশনের অধীনেই আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

জাতি আগের মতো প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচন চায় না : ইসি সচিব
সব দলের অংশগ্রহণে আগামী সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন নির্বাচন কমিশনের (ইসি) ভারপ্রাপ্ত সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ।

আজ রোববার আগারগাঁওয়ে ইসি সচিবালয়ে প্রথম কার্যদিবসে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এ আশা প্রকাশ করেন।

ইসি সচিব বলেন, জাতি আগের মতো প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচন চায় না। কমিশন একটা রোডম্যাপ দিয়েছে। আমরা সেই পথে আগাবো।

নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে দায়িত্ব পালনের চ্যালেঞ্জ প্রসঙ্গে হেলালুদ্দীন আহমদ বলেন, সব ধরনের ঝড়-ঝাপটা মাথায় নিয়ে কাজ করতে আমি মানসিকভাবে প্রস্তুত। আমি দীর্ঘদিন মাঠপর্যায়ে কাজ করেছি। ওখানকার থেকে এখানকার ঝড়-ঝাপটা অতো তীব্র হবে বলে বিশ্বাস করি না।

তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান। প্রধান নির্বাচন কমিশনারের নেতৃত্বে নির্বাচন কমিশনাররা আছেন। ওনারা কমিশনকে পরিচালনা করবেন। আমরা আমাদের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ সাচিবিক দায়িত্ব পালন করবো। নির্বাচন কমিশনারদের দিকনির্দেশনায় এবং তাদের সার্বিক সহযোগিতা নিয়ে আমরা কাজ করবো।

গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য আপনার ভূমিকা কি হবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনে কমিশনাররা যেভাবে সিদ্ধান্ত দেন সচিব সেই সিদ্ধান্তগুলো বাস্তবায়ন করেন। এখানে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের আলাদা কোনো সত্ত্বা নেই। সমন্বিতভাবে কমিশন ও সচিবালয় কাজ করবে।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন কিনা- জানতে চাইলে তিনি বলেন, নির্বাচনের জন্য প্রায় দেড় বছর সময় আছে। ততদিন আমি নাও থাকতে পারি।

হেলালুদ্দীন আজ রোববার সকালে ইসি সচিবালয়ের দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। এরপর কমিশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তাকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান। এর আগে সচিব ঢাকার বিভাগীয় কমিশনার ছিলেন।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫