ঢাকা, বুধবার,১৩ ডিসেম্বর ২০১৭

রকমারি

চাই শুধুই বন্ধুত্ব

উম্মে ইয়াসমীন

৩০ জুলাই ২০১৭,রবিবার, ১৯:৫৫ | আপডেট: ৩০ জুলাই ২০১৭,রবিবার, ২০:০৭


প্রিন্ট
চাই শুধুই বন্ধুত্ব

চাই শুধুই বন্ধুত্ব

আগস্ট মাসের প্রথম রোববার বন্ধু দিবস। বন্ধু দিবস এখন অন্যান্য দেশের সাথে আমাদের দেশে পালন করা হলেও অনেকেই আমরা জানি না বন্ধু দিবস কী, কিংবা কিভাবে এলো বন্ধু দিবস। ১৯৩৫ সাল থেকে আমেরিকায় বন্ধু দিবস পালনের প্রথা চলে আসছে।

জানা যায়, ১৯৩৫ সালে আমেরিকা সরকার এক ব্যক্তিকে হত্যা করে। দিনটি ছিল আগস্ট মাসের প্রথম শনিবার। এর পরদিন ওই ব্যক্তির বন্ধু এর প্রতিবাদে আত্মহত্যা করে। এরপরই আমেরিকা কংগ্রেসে ১৯৩৫ সালের আগস্টের প্রথম রোববার বন্ধু দিবস পালনের সিদ্ধান্ত নেয়। পরবর্তীকালে জাতিসঙ্ঘও দিবসটির স্বীকৃতি দেয়।

বন্ধুর তুলনা শুধু বন্ধুই। বন্ধু এমনই একটা সম্পর্ক, যা সব বয়সী মানুষকে সমানভাবে অনুপ্রাণিত করে। আত্মীয় সম্পর্কের বাইরে যে সম্পর্ক সর্বজনীন সেটাই বন্ধুত্ব। বন্ধুত্বের কোনো গণ্ডি নেই। বন্ধু সব বয়সেই সমান বরণীয়। শেষ বয়সেও নতুন বন্ধুর আগমন ঘটতে পারে। আর বাল্যকাল তো বন্ধুত্বেরই সময়।

বন্ধুত্ব তৈরির সময় বাল্যকাল ঠিকই, তবে বন্ধুত্ব উপলব্ধি করার সময় কৈশোর কিংবা বয়ঃসন্ধির সময়। এ সময়টায় বন্ধু হয়ে ওঠে সবচেয়ে আপন।
একটা সময় ছিল যখন বন্ধুত্বের নির্দিষ্ট গণ্ডি ছিল। মেয়ে মেয়েতে যা ছেলে ছেলেতে বন্ধুত্ব হতো। বন্ধু হতো প্রতিদিনের চেনাজানা পরিধিতেই। বর্তমানে অবস্থার পরিবর্তন হয়েছে। এখন আর এ নিয়মগুলো খাটে না। এখন যেমন ক্লাসে-কলেজে-ভার্সিটিতে বন্ধু হয়, তেমন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ভার্চুয়াল বন্ধুর সংখ্যাও কম নয়। বর্তমানে গ্রুপ বন্ধুত্বও একটা কমন বিষয়। অর্থাৎ তিন-চার, সাত-আটজন ছেলেমেয়ের একটা গ্রুপ বন্ধু। এরা সব সময় একে অন্যের সাথে সম্পর্কিত। আবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেরই যোগাযোগ আছে ছেলেবেলার বন্ধুদের সাথেও। তারপরও বর্তমান সময়েই প্রত্যেকেই পড়াশোনার চাপে নিজেকে নিয়েই ব্যস্ত। যেটুকু সময় মেলে, তাতে বন্ধুদের সাথে সময় দেয়ার ইচ্ছে থাকে না। ফলে চলে ভার্চুয়াল আড্ডা। অর্থাৎ স্মার্টফোন বা ল্যাপটপে চ্যাট। এতে পারস্পরিক বোঝাপড়াটা কতটুকু হচ্ছে তা প্রশ্নসাপেক্ষ। এতে তৈরি হচ্ছে একাকিত্ব আর নিরাপত্তাহীনতা।

এর ফলে কোন বন্ধুটি আসল, আর কোন বন্ধুটি নকল তা বোঝা যাচ্ছে না। বন্ধুরা বন্ধুর সম্পর্কে অনেক সময়ই কোনো তথ্য জানে না। একজন অপরজনের পরিবার কিংবা অন্য কোনো অবস্থা সম্পর্কে জানা থাকে না। এতে বিপদ হয় যেকোনো সময়। বিশেষ করে মেয়েরা বিপদে পড়ে বেশি।

আজকাল পত্রিকায় অনেক নারী নির্যাতনের সংবাদ আসে, যা বন্ধুর মাধ্যমে সংঘটিত হয়। বনানীর রেইন ট্রির মতো বর্বরোচিত ঘটনাও কিন্তু বন্ধু পরিচয়েই ঘটেছিল। সংবাদপত্রে এমন বন্ধু দিয়ে মেয়েবন্ধু নির্যাতনের ঘটনা অনেক। তাই বলে কি সত্যিকারের বন্ধু নেই? আছে। তবে সত্য-মিথ্যার পার্থক্য বুঝতে হবে। বন্ধু নির্বাচনে সতর্ক হতে হবে। অচেনা-অজানা কাউকে সহজে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ না করাই ভালো। এতে হিতে বিপরীত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

বন্ধু নির্বাচনে সবাইকে সচেতন হতে হবে। বাবা-মাকেও খেয়াল রাখতে হবে, সন্তান কার সাথে মিশছে। কে তার বন্ধু। তাদের পারিবারিক অবস্থা কেমন। তাহলে হয়তো সমস্যা অনেকাংশে এড়ানো যাবে।

যেকোনো সম্পর্কই এমনি এমনি গড়ে ওঠে না, একে লালন করতে হয়; বন্ধুত্ব তেমন। বন্ধুদের মধ্যে বিশ্বস্ততা, নির্ভরতা থাকতে হবে। একে অপরের প্রতি হতে হবে আস্থা আর বিশ্বাসের প্রতীক। কারণ মানুষ কিন্তু তার বন্ধুকেই সবচেয়ে বেশি বিশ্বাস করে। যে কথা সে পরিবারের কাউকে বলতে পারে না, সে কথা বন্ধুর সাথেই শেয়ার করে। সে বিশ্বাসের মর্যাদা রাখাই বন্ধুর কর্তব্য। বন্ধু বন্ধুর জন্য হোক। প্রতিটি বন্ধুত্ব হোক অকৃতিম, এটাই সবার প্রত্যাশা।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫