ঢাকা, বুধবার,১৩ ডিসেম্বর ২০১৭

নারী

ভালো কিছু অর্জনের ক্ষেত্রে থাকতে হবে দৃঢ় আত্মবিশ্বাস

মো: আবদুস সালিম

৩০ জুলাই ২০১৭,রবিবার, ১৯:৪৯


প্রিন্ট
শায়েস্তা ওয়াইজ

শায়েস্তা ওয়াইজ

শায়েস্তা ওয়াইজ। প্রায় ২৯ বছর বয়সী এই নারীর জন্ম শরণার্থী শিবিরে। আর সেটা আফগান শরণার্থী শিবির। যুদ্ধের বিভীষিকা দেখার রয়েছে ব্যাপক অভিজ্ঞতা তার। অর্থাৎ এমনিতেই বোঝা যায়, জীবন-মৃত্যুর নানা ঝুঁকির মধ্য দিয়ে বড় হতে হয়েছে আফগান এই নারীকে। কিন্তু কে জানত একদিন বিশ্বের মানুষ তাকে চিনবে সফল্যগাথাদের একজন হিসেবে। এখন সবাই তাকে চিনছে পাইলট বা বিমানচালক হিসেবে।

শুধু তাই নয়, সম্প্রতি শায়েস্তা ওয়াইজ বিশ্ব ভ্রমণ করেছেন উড়োজাহাজ চালিয়ে। বিচক্রাফট বোনানজা এ ৩৬ নামের ছোট একটি বিমান তিনি একাই চালিয়েছেন। তা চালাতে গিয়ে তার মধ্যে সামান্যতম ভয়ভীতি, সন্দেহ ইত্যাদি জাগেনি। এতেই বোঝা যায়, তিনি এ ধরনের সাহসী কাজে কতটুকু যোগ্য। শায়েস্তা ওয়াইজ এক ইঞ্জিনের একটি ছোট বিমান চালিয়ে আফগানিস্তানের কাবুলে (পিতৃপুরুষের দেশ) এসে নামেন যুক্তরাষ্ট্র থেকে। এখানে ফিরে আসার পর ওয়াইজ তার বিমান চালানোসংক্রান্ত রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতার কথা শেয়ার করেন সবার সাথে। তিনি বলেন, আমার এই সফলতা অন্যদের অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করবে বলে আমি মনে করি। আর এ জন্যই আমি সম্প্রতি দেশে ফিরেছি একজন পাইলট হিসেবে। এতে খুবই আনন্দিত আমি।

সোভিয়েত-আফগান যুদ্ধ এড়াতে ওয়াইজের পরিবার যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান ১৯৮৭ সালে। তখন ওয়াইজও তাদের সাথে ছিলেন। একজন পেশাদার পাইলট হওয়ার স্বপ্ন ছিল তার শিশুকাল থেকে। সেই স্বপ্ন আজ বাস্তবে রূপ নিয়েছে। তিনি বলেন, ভালো কোনো কিছু করতে চাইলে তা নিয়ে স্বপ্ন দেখতে হবে। আর শুধু স্বপ্ন দেখলে বা সাধ জাগলেই চলবে না, সে জন্য কঠোর পরিশ্রম করার বিষয়টি যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ। এ ধরনের সফলতা অর্জন করা যায় যেকোনো জায়গা বা পরিবেশ থেকে সব বাধা পেরিয়ে। আর সব কিছু অর্জনের ক্ষেত্রে থাকতে হবে দৃঢ় আত্মবিশ্বাস।

ওয়াইজ এখন শুধুই একজন পেশাদার সনদধারী পাইলটই নন, বরং প্রথম আফগান নারী বিমানচালকও। তিনি দেখছেন, নানা দুঃখ-দুর্দশার মধ্যে রয়েছে আফগানিস্তানের নারীরা। আর তা চলছে অনেক বছর ধরে।

নারীদের শিক্ষাগ্রহণ, চাকরি করা ইত্যাদি বিষয়ে সুযোগ-সুবিধা নেই বললেই চলে। যে কারণে তাদের ঘরেই থাকতে হয় বন্দীদের মতো। তার পরও যারা সাহসী উদ্যমী তারা ঘরে বসে নেই। তারা মনে করেন, লাল চক্ষুওয়ালাদের ভয়ে ঘরে বসে থাকলে চলবে না। আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। সে জন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। এসব বিষয়কে সামনে রেখে অগণিত আফগান নারী এখন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাচ্ছে।

তারা মনে করে, যেকোনো ধরনের সফলতা অর্জনের পূর্বশর্তই হলো সুশিক্ষা। এমনকি অনেক নারী পরিচালনা করছে নিজের গড়া বাণিজ্য। যারা এখনো নানা অবিচার, অনাচার, অত্যাচার ইত্যাদির শিকার তাদের জন্যও কিছু করতে চান শায়েস্তা ওয়াইজ। আর সে জন্যই উদ্যমী এই নারী প্রতিষ্ঠা করেছেন ড্রিমস সোয়ার নামক একটি সংগঠন। আর তা চলছে অলাভজনকভাবে। উল্টো ওয়াইজ এতে অর্থ বিনিয়োগ করছেন।

তিনি বলেন, আমি মনে করি এ ধরনের প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে অল্পবয়সী ছেলেমেয়েরা গণিত, বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ইত্যাদি বিষয়ে প্রয়োজনীয় শিক্ষালাভ করবে। তাদের অনেকের আকাশে ওড়ার কথা চিন্তা করে ওয়াইজ একটি মানসম্পন্ন ফ্লাইং স্কুল প্রতিষ্ঠায় ব্রতী হন। তিনি বলেন, এ ধরনের প্রতিষ্ঠান পরিচালনায় আমার কোনো সমস্যা হবে না। এ সংক্রান্ত কমবেশি অভিজ্ঞতা লাভ করেছি আমি। তাই শিক্ষার্থীদের জ্ঞান বা শিক্ষা দেয়া যেমন সহজ হবে, তেমনি তারাও সহজে শিক্ষালাভ করতে পারবে।

ওয়াইজকে আফগান আমেরিকান নারী পাইলটও বলা হয়ে থাকে। এটা তার বাণিজ্যিক উড্ডয়ন বিমান। তিনি ফ্লোরিডার ডেইটোনা বিচ থেকে যাত্রা শুরু করেন। অনুসরণ করেন রোডম্যাপ। যাত্রাপথের দৈর্ঘ্য প্রায় ২৫ হাজার ৮০০ কিলোমিটার বা ১৬ হাজার মাইল। আর লক্ষ্য হচ্ছে প্রায় ১৯টি দেশ ভ্রমণ। দেশগুলো হলো- স্পেন, মিসর, সিঙ্গাপুর, অস্ট্রেলিয়া, ভারত প্রভৃতি। এতে সহযোগিতার হাত বাড়ায় ইন্টারন্যাশনাল সিভিল অ্যাভিয়েশন অর্গানাইজেশন বা আইসিএও। সংস্থাটি জানিয়েছে, ৫ শতাংশের কম হচ্ছে নারী কমার্শিয়াল পাইলট।

ওয়াইজের কর্মদক্ষতা দেখে অবাক হন আফগান প্রেসিডেন্ট আশরাফ ঘানি। তাকে স্বাগত জানানো হয় প্রেসিডেন্টের দফতরে এবং জিজ্ঞেস করেন তুমি কিভাবে এতে সফল হলে? ওয়াইজ বলেন, আমি এমন সাহস পেয়েছি আমাদের দেশের ছেলেমেয়েদের কাছ থেকে। তা ছাড়া আমার এ ধরনের স্বপ্নও ছিল বেশ আগে থেকে। ওয়াইজের সাথে সুর মিলিয়ে তার (ওয়াইজের) বাবা ফাহিম ওয়াইজ আতযানদিওয়াল বলেন, ভালো কোনো কিছু করে নির্দিষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছতে হলে আগে প্রয়োজন অভিভাবক, বিশেষ করে মা-বাবার ব্যাপক সহযোগিতা। তবেই বাস্তবে রূপ নেবে তাদের স্বপ্ন।
ইন্টারন্যাশনাল সোসাইটি অব উইমেনস এয়ারলাইন পাইলট জানিয়েছে, বিশ্বে এক লাখ ৩০ হাজার এয়ারলাইন পাইলটের মধ্যে নারী পাইলটের সংখ্যা প্রায় চার হাজার। আর তাদের মধ্যে অন্যতম বিমানচালক হচ্ছেন এই শায়েস্তা ওয়াইজ।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫