ঢাকা, সোমবার,২১ আগস্ট ২০১৭

নির্বাচন

প্রার্থী বাছাইয়ে তৃণমূলকে গুরুত্ব দিচ্ছে দুই দল; ইসির সংলাপ শুরু সোমবার থেকে

ভোটের হাওয়া গ্রামেগঞ্জে

শামছুল ইসলাম

২৮ জুলাই ২০১৭,শুক্রবার, ০৭:২৬


প্রিন্ট

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের এখনো ১৭ মাস বাকি। তারপরও ভোট সামনে রেখে সরগরম হয়ে উঠছে দেশ। প্রধান দুই রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশীরা নেমে পড়েছেন গণসংযোগে। বিভিন্ন আসনে বর্তমান ও সাবেক এমপি-মন্ত্রীদের পাশাপাশি প্রধান দুই দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা মাঠে সরব হয়ে উঠছেন। দলীয় কর্মসূচির পাশাপাশি সামাজিক, সাংস্কৃতিকসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে নিজেদের অবস্থান জানান দিচ্ছেন তারা। সে সুবাদে তৃণমূলে দলগুলোর রাজনীতিতে বইতে শুরু করেছে আগাম নির্বাচনী হাওয়া। বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষের মধ্যেও আগামী নির্বাচন নিয়ে চলছে নানামুখী আলোচনা। এ দিকে নির্বাচন কমিশনও (ইসি) প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে। ইতোমধ্যে নির্বাচনী রোডম্যাপ ঘোষণা করা হয়েছে। নির্বাচন নিয়ে ধারাবাহিক আলোচনায় আগামী সোমবার সুশীলসমাজের সাথে সংলাপ করবে ইসি।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত ১৬ জুলাই নির্বাচন কমিশনের রোডম্যাপ ঘোষণার মধ্য দিয়ে একাদশ সংসদ নির্বাচনী প্রক্রিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়। এর আগে ২০১৬ সালের অক্টোবর মাসে আওয়ামী লীগের কাউন্সিল অধিবেশনের মাধ্যমে জাতীয় নির্বাচনের আলোচনা শুরু হয়। অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষণা দেন এবারের জাতীয় সংসদ নির্বাচন ৫ জানুয়ারির মতো হবে না। তাই নির্বাচনে বিজয়ী হওয়া কঠিন হবে। এরপর বেগম খালেদা জিয়া ভিশন-২০৩০ ঘোষণা করলে নির্বাচনী হওয়া গতি পায়। 
চলতি মাসে নির্বাচন কমিশন রোডম্যাপ ঘোষণা করলেও মতাসীন দল আওয়ামী লীগ এবং বিরোধী দল বিএনপি বিপরীতমুখী অবস্থানে রয়েছে। এ দিকে দেশের সুশীলসমাজ নির্বাচনে লেবেল প্লেইং ফিল্ড তৈরির কথা বললেও নির্বাচন কমিশন বলছে, তফসিল ঘোষণার আগে কোনো পদক্ষেপ নিতে পারে না ইসি। ভোট সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর বিপরীতমুখী বক্তব্যে স্পষ্ট হয় নির্বাচন নিয়ে জটিলতাগুলোর সুরাহা এখনো হয়নি। এক দল চায় প্রশাসন ব্যবহার করে নির্বাচনী বৈতরণী পাড়ি দিতে; অন্যপ সহায়ক সরকারের অধীনের নির্বাচনের দাবিতে অনড়।
তৃণমূলে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নির্বাচন সামনে রেখে তৃণমূলের নেতারা দলীয় পোস্টার, ফেস্টুনে ভরিয়ে দিয়েছে গ্রাম বাংলার হাট-বাজার, মাঠঘাট। তারা নানাভাবে জনগণের সামনে নিজেদের তুলে ধরছেন। বড় দুই দলের নেতারা জেলা সফরে যাচ্ছেন। তারা দলীয় সভা-সমাবেশে নির্বাচনী বক্তৃতা দিচ্ছেন। দলের নেতাকর্মীদের চাঙ্গা করছেন এবং অভ্যন্তরীণ কোন্দল নিরসনে পদপে নিচ্ছেন। ইতঃপূর্বে রাজনৈতিক দলগুলো নীতি নির্ধারণে তৃণমূলের মতামত প্রাধান্য না দিলেও এবার ব্যতিক্রম। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ, এবং বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতারা বার্তা দিচ্ছেন পদ-পদবি নয় তৃণমূলের মতামতের ভিত্তিতেই এবার দলীয় মনোনয়ন দেয়া হবে। ফলে ব্যস্ততা বেড়েছে সম্ভাব্য প্রার্থীদের। 
এ দিকে ইসির রোডম্যাপ ঘোষণার পরই সুশীলসমাজ ইসির প্রতি ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ তৈরির দাবি জানিয়েছেন। সুশীলসমাজের প্রতিনিধিরা বলছেন, খেলার জন্য যেমন সমতল মাঠ দরকার; তেমনি নির্বাচনের জন্যও সবপক্ষের সমান সুযোগ প্রয়োজন। তাই আগে থেকেই মাঠ সবার জন্য সমান করতে হবে। মতাসীন আওয়ামী লীগ অনেক আগেই নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেছে। প্রধানমন্ত্রী ঢাকা এবং ঢাকার বাইরের সব অনুষ্ঠানেই নৌকার পে ভোট চাইছেন। এমনকি রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানগুলোতেও তিনি নৌকার পে ভোট চাইছেন। এ নিয়ে বিএনপির প্রশ্ন হলো প্রতিপ সব দল তাদের মার্কার পে কী ভোট চাওয়ার সুযোগ পাচ্ছে? বাস্তবতা হলো বিএনপি সে সুযোগ পাচ্ছে না। সভা-সমাবেশ দূরের কথা ঘরোয়া বৈঠকেও বিএনপিকে বাধার মুখে পড়তে হয়। 
এ বিষয়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ড. আকবর আলি খান বলেন, রোডম্যাপ তৈরি করা হচ্ছে কমিশনের নির্বাচন আইনগত দায়িত্ব পালন। কিন্তু আমরা যে সংঘাতময় অবস্থায় আছি, তা উত্তরণে শুধু আইনগত দায়িত্ব পালন যথেষ্ঠ নয়, এজন্য প্রয়োজন নির্বাচন কমিশনের নৈতিক দায়িত্ব পালন করা। নির্বাচন কমিশন নৈতিক দায়িত্ব পালন না করলে আমরা যে সংঘাতময় অবস্থায় আছি, তা থেকে উত্তরণ সম্ভব হবে না। নৈতিক দায়িত্ব পালনের জন্য শুধু রোডম্যাপই যথেষ্ট নয়। নির্বাচন কমিশনকে নমনীয় ভাব পোষণ করে সব রাজনৈতিক দলের আস্থা অর্জন করে গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের ব্যবস্থা করতে হবে। তিনি নির্বাচন কমিশনকে বিতর্কিত বক্তব্য থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান।
সিইসি বলেছেন, নিয়ম অনুযায়ী তফসিলের তিন মাসের আগে প্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলোর মধ্যে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড গঠনে তাদের কোন করণীয় নেই। সিইসির এ বক্তব্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন নির্বাচন বিশেষজ্ঞরা। তারা পরিবেশ সৃষ্টির জন্য ইসিকে আদালতে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। কারণ তারা চলেছেন, তফসিলের ৩ মাস প্রতিদ্বন্দ্বী সব দলের সমান সুযোগ নিশ্চিত করা হলেই লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি হবে না।
ইসির ঘোষিত রোডম্যাপ নিয়ে আগামী সোমবার থেকে শুরু হচ্ছে সংলাপ। চলবে অক্টোবর পর্যন্ত। এ বিষয়ে সাবেক ইসি সচিব মোহাম্মদ আবদুল্লাহ বলেন, সুশীলসমাজের সাথে ইসির বৈঠকটি ৩১ জুলাই বিকেল ৩টা থেকে শুরু হবে। সুশীলসমাজের সাথে সংলাপের পর গণমাধ্যমের সিনিয়র সাংবাদিকদের সাথে সংলাপ হবে ৭ আগস্ট। নির্বাচন পর্যবেকদের সাথে সংলাপ হবে ১২ আগস্ট। নির্বাচন পরিচালনা বিশেষজ্ঞদের সাথে হবে ২০ আগস্ট। নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে সংলাপ হবে ১৬ আগস্ট থেকে ২ অক্টোবর পর্যন্ত।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫