ঢাকা, শুক্রবার,১৮ আগস্ট ২০১৭

বিবিধ

সৈয়দ আলী আহসান

সম্পর্কের সূত্র ধরে

মাহমুদ শাহ্ কোরেশী

২৭ জুলাই ২০১৭,বৃহস্পতিবার, ২০:১৪


প্রিন্ট

তাঁর সঙ্গে আমার দীর্ঘসূত্রী সম্পর্কের বর্ণনা দেয়া কিংবা বিশ্লেষণ করা এ মুহূর্তে যেমন অসম্ভব তেমনি হয়তো অসমীচীনও বটে। তবে অধ্যাপক সৈয়দ আলী আহসানের ইন্তেকালের পর বন্ধুপত্নী রাশিদা (মনিরুজ) জামান আমাকে জানালেন যে, আমি নাকি তাঁর ‘ড্রিম সান’ (Dream Son) ছিলাম। তিনি কথাটার একটু ব্যাখ্যাও করলেন। কিন্তু আমার বোধ ও বিবেচনা শক্তি এখন এমন ভারাক্রান্ত যে সব কিছু সব সময় স্পষ্ট হচ্ছে না। অবশ্য তাঁর কনিষ্ঠা কন্যা আমার স্ত্রী নাসরিনকে বলতে শুনেছি যে, তাঁর পিতা কনিষ্ঠ পুত্র সিমাবকে জানিয়েছিলেন : কোরেশীও তাঁর আরেক সন্তান। সুতরাং তার বাড়িতে তিনি নিজের বাড়ির মতোই আছেন। সিমাব তাঁকে তার উত্তরার বাসগৃহে নিয়ে যেতে চেয়েছিল কিন্তু কলাবাগানে তিনি খুবই স্বাচ্ছন্দ্য অনুভব করতেন। আমাদের একান্ত সৌভাগ্য যে, জীবনের শেষ একটি বছর তিনি আমাদের সঙ্গে কাটিয়েছেন এবং শারীরিক কিছু অসুবিধা সত্ত্বেও তিনি এ সময়ে বহু আনন্দ-উৎসব উপভোগ করেছেন, অনেক প্রবন্ধ/গ্রন্থ প্রকাশ করেছেন এবং ক্রমশ উজ্জীবিত হয়ে উঠছিলেন। আমার কনিষ্ঠ পুত্র শাজেল (পাপ্পু) ও তার স্ত্রী পিঙকি তাঁর বিভিন্ন প্রয়াসে সহযোগিতা করত ও তাদের দেড় বছরের পুত্র রা’দ প্রপিতামহের সঙ্গে একটু রগড় করতে ভালোবাসত। আমাদের একমাত্র কন্যা প্রসন্না (নামটি তাঁরই দেয়া), তার স্বামী জুয়েল তাদের সদ্যোজাত কন্যা প্রমা (এটিও তাঁর দেয়া নাম)কে নিয়ে তাঁর নানা বিশ্রম্ভালাপে মগ্ন হতেন। প্রসন্না তাঁর প্রকাশিতব্য কলকাতার ওপর লেখা একটি বইয়ের জন্য কিছু ছবি এঁকে দিয়েছে। আমাদের জ্যেষ্ঠ পুত্র নাবিল (পুশন)-এর সঙ্গে কৌতুকপূর্ণ সংলাপে তিনি বরাবর সিদ্ধ। ওর আসন্ন শুভপরিণয় নিয়ে তাঁর পক্ষ থেকে আসত নানা নির্দেশ। দু’টি কিশোর রাকিব ও মনির সানন্দে তাঁকে সার্বক্ষণিক সেবা দিয়ে চলেছে। সন্ধ্যা থেকে যোগ দিত মনিরের মা লালমোতি। সকালে তাঁর জন্য পেঁপে সিদ্ধ, ঝিঙে ভাজি, পরিজ প্রভৃতি তারই হাতে তৈরি হতো। আমার স্ত্রী তার মায়ের দক্ষতা ও নিজের কমনীয়তা নিয়ে জাঁদরেল, কখনো অবাধ্য (তবে ইদানীং বড়ই সুবোধ বালক) পিতাকে নিয়মিত খাবার ও ওষুধ সেবনে বাধ্য করা বা সার্বিক তত্ত্বাবধানে সদা ব্যস্ত থাকতেন। আমার সঙ্গে তাঁর সাক্ষাৎ ভোর সাড়ে পাঁচটা থেকে ছ’টায়। দু’জনে ডাইনিং টেবিলে বসে বেড টি (Bed tea) খেতাম এবং বিভিন্ন বিষয়ে কিছু জরুরি আলাপ সেরে নিতাম। আমার সারা দিন কাটে সাভারে, গণ বিশ্ববিদ্যালয়ে। ফিরে সন্ধ্যায় নাশতা খেতে খেতে জমত নতুন কিছু আলোচনা।
প্রতিদিন সকালবেলা তিনি আটটা পর্যন্ত ‘ড্রয়িং রুমে’ বসে পত্রিকা পড়তেন। নাশতা সেরে পড়ার টেবিলে যেতেন। ‘লেখক’ এলে শ্রুতিলিপি দেয়া শুরু করতেন। দু’বেলায় কিন্তু তিনি ইনসুলিন নিতেন খাওয়ার আগে। বেশ ছক বাঁধা জীবন! প্রত্যেক সকালেই একটি করে লেখা বেরিয়ে আসছে। চলছে বহু সাক্ষাৎকার প্রদান, টেলিফোন ও অন্যান্য যোগাযোগ।
বেশ কিছুকাল আগের কথা। অধ্যাপকের পীড়াপীড়িতে আমি একটি ইংরেজি প্রবন্ধ পুস্তকের পাণ্ডুলিপি তাঁকে প্রকাশের জন্য দিয়েছিলাম। তিনি Obor নামে একটি আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের অনুদান পাবেন আশা করছেন। Culture and Developmen শিরোনামে আমার সেই গ্রন্থ ইতিহাসবিদ ড. এ আর মল্লিকের ভূমিকাসহ প্রকাশ পেল ১৯৮২ সালে। বইটি আমি উৎসর্গ করেছিলাম অধ্যাপক সৈয়দ আলী আহসানের নামেই।
এ দেশে সম্ভবত ইকবাল প্রসঙ্গে চল্লিশের দশকে কেউ ‘ফ্রেন্ড, ফিলসফার অ্যান্ড গাইড’ শব্দগুচ্ছ ব্যবহার করে থাকবেন এবং তা একপর্যায়ে জনপ্রিয়তা পায়। অনেক চিন্তাভাবনা করে সে সময়ে তাঁর চলমান দুর্দিনে তাঁকে কিছুটা উৎফুল্ল করবার মানসে আমি ব্যবহার করেছিলাম এমন তিনটি শব্দ- যা এক দিকে যেমন অযথার্থ, তেমনি আবার অতি সত্য এবং সঙ্গত। ‘ফাদার’ পিতা, তিনি আমার নন। কিন্তু ১৯৭০ সালের ২৭ নভেম্বরের পর থেকে আমার নবপরিণীতা স্ত্রীর অনুকরণে আজো ‘আব্বু’ সম্বোধন করে আসছি। আমার যথার্থ পিতা আমার কাছে ‘বাবা’। দ্বিতীয় শব্দ ‘ফ্রেন্ড’। সে-ও এক অতিশয়োক্তি। বন্ধু হওয়ার কথা ছিল না, যোগ্যতাও না। কিন্তু ষাটের দশকের গোড়া থেকে প্যারিসে তাঁর সঙ্গে বেশ ক’বার দেখাসাক্ষাতের ভিত্তিতে যেন তা-ও হলো। আমরা আনন্দঘন সুরুচিপূর্ণ এক সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলে একে অপরকে সহযোগিতা দান করে আসছি সুদীর্ঘকাল। অনেক সময় দীর্ঘক্ষণ একত্র থাকতে হচ্ছে দেখে তাঁর তৃতীয় সফরের পর থেকে প্যারিসে তাঁর অনুমতি নিয়ে আমি তাঁর সামনে সিগারেট খেতাম। একবার দেশে ফিরে ১৯৬৫ সালে বাংলা একাডেমিতে তাঁর সঙ্গে দেখা করতে গেলে এবং পরে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৯৬৮ সালের আগস্টে অধ্যাপনাকর্মে যোগদান করলে অনেকে অবাক হয়ে যেতেন আমার এই বেয়াদবিসদৃশ কার্যকলাপে। ১৯৭১ সালে কলকাতায় আরেক দুঃসময়। তাঁকে একটু এগোতে দিয়ে আমি পেছনে পেছনে ‘চারমিনার’ ফুঁকে চলেছি। ১৯৭৪-এর গোড়া থেকে ধূমপান বিসর্জন দিয়ে নানা দিক থেকে অব্যাহতি লাভ করি এই অবাঞ্ছিত সমস্যার।
তৃতীয় অভিধা ‘টিচার’- শিক্ষক। সেটিও ঠিক নয়। ১৯৫৪ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে আমি ভর্তি হই। তখনকার অধ্যক্ষ ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ অল্প ক’দিন পর অবসর গ্রহণ করেন। বিদায়সভায় আমাদের প্রতিনিধি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছিলেন যে, আমরা যথার্থভাবে তাঁর ‘ছাত্র’ হতে পারিনি। কারণ তিনি আমাদের কোনো ক্লাস নেননি। শহীদুল্লাহ সাহেব পরদিনই একটি ক্লাসে এসে আমাদের ‘ছাত্র’ বানিয়ে গেলেন। অধ্যাপক সৈয়দ আলী আহসান তার কিছু পরে করাচির উদ্দেশে রওনা দিলেন। তিনিও আমাদের কোনো ক্লাস নেননি। সৌভাগ্যবশত বিভাগীয় ‘গ্রুপ’ ছবিতে আমিও কী করে জানি অন্তর্ভুক্ত হয়ে গেলাম। অর্থাৎ সরাসরি তাঁর ছাত্র হওয়ার সুযোগ আমার ঘটেনি; কিন্তু ছাত্রদের মধ্যে আমি আছি। ঠিক একইভাবে মুনীর চৌধুরীর মতো প্রবাদপ্রতিম শিক্ষকেরও আমি ছাত্র হতে পারিনি, যদিও তাঁর স্নেহভাজন হওয়ার সুযোগ ঘটেছিল পরবর্তীকালে।
এরপর প্রফেসর আহসানের সঙ্গে প্যারিসে সাক্ষাৎ- যা তিনি সবিস্তারে লিখে গেছেন ‘মাহমুদ শাহ্ কোরেশীকে যেভাবে পেলাম’ নিবন্ধে মাহমুদ শাহ কোরেশী সংবর্ধনাগ্রন্থ : Dialogue of Cultures শীর্ষক ত্রিভাষিক গ্রন্থে। অবশ্য বহু আগে থেকে আমি তাঁর সম্পর্কে অবহিত হয়েছি প্রথমত প্রবেশিকা পরীক্ষার্থীরূপে তাঁর লেখা Our Heritag গ্রন্থ নির্বাচন ও অধ্যয়ন করে। এরপর এক বন্ধুর কাছে ১৯৫২ সালে তমদ্দুন মজলিশের সাহিত্য সম্মেলনে তাঁর ‘কবিতার কথা’ শীর্ষক প্রবন্ধ-পাঠের কথা শুনে এবং তার একটি মুদ্রিত কপি পেয়ে। তা ছাড়া ১৯৪৮ সাল থেকে সওগাত, মোহাম্মদী, মাহেনও প্রভৃতি পত্রিকায় তাঁর বহু লেখা কবিতা-প্রবন্ধ আমি পড়েছি। ক্রমশ অবহিত হয়েছি ১৯৪২ সালে তাঁর প্রতিষ্ঠিত পূর্ব পাকিস্তান সাহিত্য সংসদ-এর কার্যকলাপ সম্পর্কে। সম্প্রতি আমি সে সময়কার পাকিস্তান পত্রিকাটির কয়েকটি সংখ্যাও দেখেছি। অনেকে হয়তো জানেন না এই সংসদের সঙ্গে কোনো-না-কোনোভাবে অধ্যাপক আব্দুর রাজ্জাক, ড. মাজহারুল হক, মুনীর চৌধুরী, সরদার ফজলুল করিম প্রমুখও জড়িত ছিলেন। ১৯৬২ সালে প্যারিসে ইকবালের জীবনীকার ও অনুবাদক ল্যুস ক্লোদ মেৎর-এর সঙ্গে তাঁর অনেক আকাশ কাব্যের বেশ ক’টি কবিতা অনুবাদ করি। ১৯৬৫ সালে ডক্টরেট ডিগ্রি লাভ করে গ্রীষ্মাবকাশে আমি দুই মাসের জন্য দেশে ফিরি। ইতঃপূর্বে আমি প্যারিস বিশ্ববিদ্যালয়ের (সর্বন) সংলগ্ন প্রাচ্যবিদ্যা প্রতিষ্ঠানে প্রভাষক পদে নিযুক্ত হয়েছিলাম। আমার দেশে ফেরার আগ্রহ দেখে বাংলা একাডেমির পরিচালক রূপে তিনি এবং বেঙ্গলি ডেভেলপমেন্ট বোর্ডের পরিচালক ড. মুহাম্মদ এনামুল হক আমাকে আরো কিছু দিন প্যারিসে অবস্থানের পরামর্শ দেন। সেই সুযোগে আমি ইউনেস্কোর জন্য ফরাসি ভাষায় ‘বাংলা মরমী কবিতা’ গ্রন্থের অনুবাদ ও আলোচনার কাজ সমাপ্ত করি। ‘বাঙালি মুসলমানদের মধ্যে বুদ্ধিবৃত্তির বিকাশ’ সম্পর্কিত আমার অভিসন্দর্ভটিও প্রকাশের ব্যবস্থা হয় বিশ্বের একটি সেরা প্রকাশনালয় থেকে। ১৯৬৮ সালের আগস্টে আমি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগ দেই এবং সে সময় থেকে প্রত্যক্ষভাবে তাঁর ইন্তেকাল-পূর্ববর্তী সময়টিতে আমি অনেক কাজে তাঁর সহযোগীর ভূমিকা পালন করেছি। অনেক বিষয়ে আমি যেন তাঁর ‘ডাইরেক্টরি’। অমুক বিষয়ের বই, তমুকের নাম আমাকে তাৎক্ষণিকভাবে বলতে হতো। ইদানীং আমারও ‘স্মৃতিভ্রংশ হচ্ছিল বলে কিছুটা বিব্রত বোধ করছিলাম। কিন্তু সে কাজ থেকে তিনি যেন আমাকে অব্যাহতি দিয়ে চলে গেলেন।
কিন্তু পড়ে আছে বিপুল কাজ। প্রকাশিত শতাধিক গ্রন্থ ছাড়াও তাঁর বহু লেখা ও বই অমুদ্রিত বা অসমাপ্ত রয়েছে। অগ্রন্থিত প্রবন্ধাদি সংগ্রহের যেমন প্রয়োজন, তেমনি একটি সম্পূর্ণ তালিকা প্রস্তুতও জরুরি হয়ে পড়েছে।
সৈয়দ আলী আহসানের বিভিন্নমুখী প্রতিভার স্বীকৃতি তিনি প্রভূতভাবে পেয়েছেন। শুনেছি ষষ্ঠ বা অষ্টম শ্রেণীর ছাত্র থাকার সময়ে ধামরাইয়ে তাঁকে কেউ কেউ কাঁধে করে বক্তৃতার জন্য নিয়ে যেতেন। আমি তাঁকে দু’টি অসামান্য বক্তৃতা করতে শুনেছি- একটি কলকাতার বুদ্ধিজীবীদের কাছে, ১৯৭১ সালে, অন্যটি নারায়ণগঞ্জের ওলামা মাশায়েখদের সামনে, ১৯৭২ সালের গোড়ার দিকে। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ফ্যাকাল্টি মিটিংয়ে কেউ কেউ যখন উত্তপ্ত বিতর্কে মেতে উঠেছেন, তখন দেখেছি তাঁকে সভাপতির আসনে বসে সমর্পিতচিত্তে কবিতা লিখে যেতে। একবার তৈরি হয়ে এলে তাঁকে নিয়ে কোথায় যেন বাইরে যাবো, এমন সময় কবি-সম্পাদক আল মুজাহিদীর আবির্ভাব। তিনি একটি প্রবন্ধের কথা বলে রেখেছিলেন। কিন্তু ‘লেখক’ আসেননি, তাই লেখা হয়নি। আল মুজাহিদী শ্রুতিলিপি নিলেন। বিশ মিনিটের মধ্যে ‘রবীন্দ্রনাথের চিত্রকলা’ বিষয়ক প্রবন্ধ তৈরি হয়ে গেল দৈনিক ইত্তেফাকের সাহিত্য পাতার জন্য। আরেকবার ‘নজরুলের কবিতার ছন্দ’ বিষয়ক প্রবন্ধও তিনি এভাবে ডিকটেশনের মাধ্যমে তৈরি করেছিলেন- কোনো নোট বা পূর্বপ্রস্তুতি ছাড়া। আল মুজাহিদী আরেক অসাধ্য সাধন করেছেন : ‘স্যারের একটা কবিতা দরকার’ বলে সেটাও একই পদ্ধতিতে বের করে নিলেন। অথচ বাংলা একাডেমির কাল থেকে গদ্য লেখা তিনি ডিকটেশনের মাধ্যমে প্রস্তুত করতেন বটে; কিন্তু কবিতা স্বহস্তে লিখতেন, সাধারণত প্রত্যুষে। প্রয়োজনে অবশ্য পরিবর্তিত হতো কার্যক্রম। সারা দিনই কোনো-না-কোনো বই পড়তেন এবং টিভিতে নানা প্রোগ্রাম দেখতেন। অসম্ভব দ্রুত একটি বই পড়া সমাপ্ত করতে পারতেন তিনি এবং ভালো-মন্দ অভিমত দিতে সক্ষম হতেন উদ্ধৃতিসহকারে।

জীবিতাবস্থায় তাঁর সঙ্গে আমার শেষ দেখার সামান্য বর্ণনা দেবো। ২৪ জুলাই সন্ধ্যা সাড়ে ছ’টায় তাঁকে আমি তাঁরই দাবিতে এক স্লাইস অতি উত্তম পাউরুটি ফরাসি পনির La Vache qui rit (লা ভাশ্ কি রি- ‘যে গাভী হাসে’) মাখিয়ে দিয়েছিলাম। অত্যন্ত তৃপ্তির সঙ্গে তিনি খেয়েছিলেন এবং আমার সেদিনের সাভারের অভিজ্ঞতা সম্পর্কে কিছু প্রশ্ন করেছিলেন। রাত আটটায় তিনি গরম চাপাতি ও সবজি দিয়ে নৈশাহার সমাপ্ত করেন। কিছু পড়াশোনা ও টিভি দেখে সেরে রাত সাড়ে ন’টায় তিনি শুয়ে পড়েন। তারপর দু’টোর সময় উঠে শৌচাগারে যান, পানি খান এবং তাঁর কক্ষে অবস্থানরত মনিরের সঙ্গে একটু আলাপও করেন। এরপর যে নিদ্রামগ্ন হলেন সে ঘুম আর কখনো ভাঙেনি। সকাল থেকে আমাদের জীবনধারাও অন্য রকম হয়ে গেল। তবে দেশের সরকার ও গণমানুষের যে অভূতপূর্ব শ্রদ্ধা-ভালোবাসা তাঁর প্রতি ছিল, ঢাকা থেকে সাভারে সমাহিত হওয়ার যাত্রাপথে তার বহিঃপ্রকাশে আমরা যথার্থভাবে অভিভূত।
এ দেশের সরল ধর্মপ্রাণ কিংবা সংস্কৃতিবান ও যথার্থ বিদগ্ধ মানুষের কাছে তিনি কিংবদন্তি হয়ে থাকবেন- এতে আমি অন্তত নিঃসন্দেহ।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫