ঢাকা, বুধবার,২৩ আগস্ট ২০১৭

রকমারি

কেন ফুটওভারব্রিজ ব্যবহার করেন না পথচারীরা?

আহমেদ ইফতেখার

২৪ জুলাই ২০১৭,সোমবার, ১৯:২৯


প্রিন্ট
নোংরা ফুটওভার ব্রিজ : হতাশ পথচারী

নোংরা ফুটওভার ব্রিজ : হতাশ পথচারী

আবর্জনা, ধুলা, মলমূত্রে সয়লাব রাজধানীর অধিকাংশ ফুটওভার ব্রিজ। শাহবাগ শিশুপার্কের কাছের ফুটওভার ব্রিজটি যেন এক ময়লার ভাগাড়। ভাঙা কাঠ, কাগজ, পলিথিন অর্থাৎ সব ধরনের আবর্জনার দেখা মিলবে। এই ফুটওভার ব্রিজের নিচেই আছে ফুলের বাজার। মালা গাঁথা ও তোড়া বানানো হয় এখানে। এরপর অবশিষ্ট অংশ ফেলে রাখা হয় ফুটওভার ব্রিজের নিচে। এখানে ভবঘুরেদের আনাগোনাও কম নয়। জাদুঘরের সামনের ফুটওভার ব্রিজটিও নোংরা। এখানে সব সময়ই ভবঘুরেরা শুয়ে-বসে থাকে। গত এক সপ্তাহে রাজধানীর বিভিন্ন ফুটওভার ব্রিজ ঘুরে এমন অপরিচ্ছন্নতা লক্ষ করা যায়।

মগবাজারে থাকেন নাজিমউদ্দীন, ছেলেকে নিয়ে শিশুপার্কে এসেছেন। অনেকক্ষণ ধরে অপেক্ষা করে সড়ক পার হলেন ঝুঁকি নিয়ে। পাশের ফুটওভার ব্রিজ ব্যবহার না করা প্রসঙ্গে তার উল্টো প্রশ্ন, ‘সিঁড়ির গোড়ার ময়লা দেখছেন? ওঠার তো জায়গাই নাই। শিশু নিয়ে ময়লা পার হওয়ার চেয়ে নিচ দিয়ে পার হওয়াই ভালো।

ঢাকার অধিকাংশ ফুটওভার ব্রিজ ঘুরে দেখা গেছে, ফুটওভার ব্রিজের ওপর মলমূত্রে সয়লাব। দুর্গন্ধে নাক চেপে হাঁটতে হয়। সেতুতে ছিন্নমূল শিশুদের আনাগোনাসহ ধুলা, কাগজ, খাবারের প্যাকেটে ভর্তি। সদা ব্যস্ত ফার্মগেটের পদচারী সেতুর অবস্থাও খারাপ। আবর্জনা, হকার, ভিক্ষুকের যন্ত্রণায় বিরক্ত পথচারীরা। ফার্মগেট ফুটওভার ব্রিজের নিচে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের পসরা সাজিয়ে বিক্রির জন্য বসে ছিলেন রানা। তিনি ছয় মাস ধরে এখানে বসেন। পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের কখনো দেখেননি। নিয়মিত পরিষ্কারের জন্য কেউ আসে না। লোকজন উঠে বিভিন্ন খাবারের প্যাকেট এখানেই ফেলে যায়।

কলেজগেট ও শুক্রাবাদ এলাকার ফুটওভার ব্রিজ তুলনামূলক কম নোংরা হলেও সেখানে আবার ভবঘুরেদের আড্ডা বেশি। নগরীর প্রায় সব কটি সেতুতেই কম-বেশি পোস্টার-ব্যানার টানানো থাকে। রাজনৈতিক দল বা সরকারি কোনো কর্মসূচি থাকলে বিশালাকার ব্যানার টানানো হয়। এতে সেতুর ভেতরে কী হচ্ছে তা বাইরে থেকে বোঝার উপায় নেই। ফলে ছিনতাইয়ের ঘটনাও ঘটছে।

ডিএমপি থেকে পদচারী সেতু ব্যবহারে প্রায়ই ভ্রাম্যমাণ আদালত বসানো হয়। সেতু ব্যবহার উপযোগী না করে জরিমানা নিয়ে পথচারীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেন। গত শনিবার ফার্মগেট সেতুতে কথা হয় তসলিমা আক্তারের সঙ্গে। তিনি বলেন, প্রায়ই সড়ক পার হওয়ার জন্য জরিমানা করে কিন্তু পদচারী সেতুগুলো ব্যবহারের জন্য পরিষ্কার রাখা হয় না। নোংরা দেখে অনেকেই ফুটওভার ব্রিজে ওঠার আগ্রহ হারিয়ে ফেলে।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫