ঢাকা, বুধবার,২৩ আগস্ট ২০১৭

ফ্যাশন

টি-শার্টে থিম

অনাবিল খন্দকার

২৪ জুলাই ২০১৭,সোমবার, ১৯:১১


প্রিন্ট
টি-শার্টে থিম

টি-শার্টে থিম

টি-শার্ট এখন শুধু গরমের আরামদায়ক পোশাক নয়, বরং বক্তব্য প্রকাশের মাধ্যম হিসেবেও বেশ পরিচিত ও জনপ্রিয়। বিশিষ্ট ব্যক্তিদের স্মরণ থেকে শুরু করে কবিতার লাইন, জাতীয় দিবস, এমনকি দেশের পর্যটন স্থানগুলোও উঠে আসে টি-শার্টের থিম হিসেবে

বাংলাদেশ গ্রীষ্মপ্রধান দেশ। এ সময়ে ছেলেদের প্রথম পছন্দ হালকা সুতির কাপড়। বিশেষ করে হাফহাতা। এই পছন্দের ভিত্তিতেই প্রচলন টি-শার্টের। তবে টি-শার্ট তখনো সব বয়সের পুরুষের পোশাক হয়ে ওঠেনি। কেবল তরুণেরাই ব্যবহার করত এই টি-শার্ট। তখনো টি-শার্ট মানেই ছিল সাদামাটা একটা হাফহাতা পোশাক, যা সাধারণত অফিস আদালতের বাইরের মানুষের গায়ে শোভা পেত। অবশ্যই সেটি গরমের সময়। আস্তে আস্তে মানুষের পছন্দ ও রুচিতে পরিবর্তন এলো। তরুণদের পাশাপাশি টি-শার্ট ব্যবহার করতে লাগলেন বয়স্করাও। টি-শার্টের জগৎ এবং মানুষের রুচিতে এলো আরো পরিবর্তন। ছেলেদের পাশাপাশি মেয়েরাও ব্যবহার করতে লাগল টি-শার্ট। সেই পরিবর্তনের ধারা অব্যাহত আছে এখনো।

বক্তব্যধর্মী টি-শার্ট : শুরুর দিকের টি-শার্টগুলোর বেশির ভাগই ছিল একরঙা। বিশেষ কোনো ছাপ বা একাধিক রঙের ব্যবহার দেখা যেত না সেই টি-শার্টগুলোতে। তাই কেনার সময় মানুষ কেবল রঙই প্রাধান্য দিত। কিন্তু প্রায় এক দশক ধরে টি-শার্টে এসেছে আমূল পরিবর্তন। এখন মানুষ টি-শার্ট কেনে বক্তব্য দেখে। অর্থাৎ কেনার সময় অবশ্যই খেয়াল করে কী বক্তব্য আছে। আর টি-শার্ট প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানগুলোও এ বিষয়টিকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে থাকে। তাই তারা চেষ্টা করে যতটা বৈচিত্র্যপূর্ণ কথামালা দিয়ে সাজানো যায় টি-শার্টের সামনের অংশটা। এমনকি পেছনের অংশও।

স্বনামধন্য টি-শার্ট প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান নিত্য উপহার-এর কর্ণধার বাহার রহমানের মতে- ‘একটি টি-শার্ট একটি সময়কে ধারণ করতে সক্ষম। তাই চেষ্টা থাকে, যতটা অর্থপূর্ণ কথামালা দিয়ে সাজানো যায় টি-শার্টের গুরুত্বপূর্ণ অংশটা। এসব কথায় থাকে তারুণ্য, থাকে কাব্যময়তা।’ সম্প্রতি নিত্য উপহার টি শার্ট করেছে বাংলাদেশের পর্যটক সমৃদ্ধ অঞ্চলগুলোর ফটোগ্রাফি দিয়ে। যাতে ফুটে উঠেছে বাংলার বিভিন্ন নৈসর্গিক রূপ। একটা সময় ছিল টি-শার্ট ডিজাইন করা হতো কবিদের ছবি কিংবা তাদের কবিতার লাইন দিয়ে। কিন্তু এখন শুধু কবিদের ছবি কিংবা কবিতা নয়, সময়োপযোগী অনেক বক্তব্য দিয়েই সাজানো হচ্ছে টি-শার্ট, যা যেকোনো পরিস্থিতিকে চমৎকারভাবে ফুটিয়ে তোলার ক্ষেত্রে প্রশংসনীয় ভূমিকা রাখছে।

দিবসভিত্তিক টি-শার্ট : আগেকার দিনে দিবসভিত্তিক পোশাক মানেই ছিল নির্দিষ্ট কিছু রঙের পোশাক। যেমন শোক দিবসে কালো পোশাক, বিজয় দিবস কিংবা স্বাধীনতা দিবসে লাল- সবুজ। কিন্তু এখন বিভিন্ন দিবসের অন্যতম আকর্ষণ থাকে দিবসভিত্তিক টি-শার্টগুলো। এসব টি-শার্ট নির্দিষ্ট রঙকে তো বহন করেই, সাথে বহন করে বিভিন্ন মূল্যবান বক্তব্য। জাতীয় দিবস ছাড়াও আরো যেসব দিবস আছে, সেখানেও লক্ষ করা যায় টি-শার্টের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। জনসংখ্যা দিবস, বিশ্ব হাতধোয়া দিবস, পরিবেশ দিবসসহ বিভিন্ন দিবসে যে টি-শার্টগুলো আমরা দেখতে পাই, আর সেখানে যে কথামালা লেখা থাকে- তা মানুষের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টিতে বিশেষ ভূমিকা রাখে। টি-শার্টের দিকে তাকালেই মানুষ জেনে নিতে পারে দিবসটির প্রতিপাদ্য কী। এতে প্রচারণার জন্য যে বাড়তি পরিশ্রম, সেটি অনেকটাই কমে আসে। আর একটি টি-শার্ট যত দিন কেউ পরে, তত দিন এর গায়ে লেখা জনসচেতনতামূলক কথাগুলো প্রচার পেতে থাকে, যা দেশ এবং জাতির জন্য অবশ্যই কল্যাণকর।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আতিকুর রহমান সৌরভ বলেন- আজকাল শহীদ মিনারে ফুল দিতে যাওয়া কিংবা এ ধরনের কোনো উপলক্ষকে কেন্দ্র করে আমরা টি-শার্ট কিনি। কারণ, এমন পরিবেশে গায়ে যদি দিবসকেন্দ্রিক পোশাক না থাকে, তাহলে কোথায় যেন একটা অপূর্ণতা থেকে যায়। এই অপূর্ণতা দূর করার জন্য টি-শার্ট প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানগুলো ধারাবাহিকভাবে যে কাজ করে যাচ্ছে, এটা অবশ্যই আনন্দের ব্যাপার। আমরা জোর দিয়ে বলতে পারি, একদিন টি-শার্ট হবে তারুণ্যের সব রকমের বক্তব্য প্রকাশের অন্যতম প্রধান মাধ্যম। হোক সেটি দিবসকেন্দ্রিক কিংবা অন্য কোনো উৎসব বা উপলক্ষকেন্দ্রিক।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫