ঢাকা, বুধবার,১৬ আগস্ট ২০১৭

অনলাইন জগৎ

তরুণদের উদ্বিগ্ন করছে সোশ্যাল মিডিয়া

আহমেদ ইফতেখার

২১ জুলাই ২০১৭,শুক্রবার, ১৬:৫৭


প্রিন্ট

ডিচ দ্য লেবেল নামের অ্যান্টি-বুলিং বা উৎপীড়নবিরোধী একটি দাতব্য সংস্থার গবেষণা প্রতিবেদনে দেখা গেছে, বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম তরুণদের ভীত ও উদ্বিগ্ন করে তুলছে। ডিচ দ্য লেবেল ১০ হাজার তরুণ-তরুণীর ওপর জরিপ চালিয়ে এ প্রতিবেদন তৈরি করে।

জরিপে অংশগ্রহণকারীদের সবার বয়সই ১২-২০ বছরের মধ্যে। এই জরিপে অংশ নেয়াদের প্রতি তিনজনের একজন জানিয়েছে, সাইবার-বুলিং বা অনলাইন উৎপীড়ন বিষয়ে তারা সবসময় আতঙ্কে থাকে। জরিপে অংশ নেয়া প্রায় অর্ধেকই জানিয়েছে, সোশ্যাল মিডিয়ার কারণে তাদের নেতিবাচক অভিজ্ঞতা হয়েছে। অনলাইনে তাদের সঙ্গে ঘটে যাওয়া বিষয়গুলো নিয়ে তারা আলোচনা করতে চায় না। অনলাইনে বিরূপ আচরণের শিকার হওয়া অনেকেই তাদের তিক্ত অভিজ্ঞতার কিছু খণ্ডিত অংশ প্রকাশ করেছেন। জরিপে তরুণদের মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য ইনস্টাগ্রামকে অত্যন্ত নেতিবাচক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।

প্রতিবেদনের তথ্যমতে, বৈশ্বিকভাবে অনলাইন নিপীড়ন ব্যাপক পরিসরে ছড়িয়ে পড়েছে। জরিপে অংশ নেয়া ৭০ শতাংশ স্বীকার করেছে, তারা অনলাইনে অন্যের সাথে নিপীড়নমূলক আচরণ করে এবং ১৭ শতাংশ দাবি করে তারা অনলাইনে অন্যের দ্বারা নির্যাতনের শিকার হয়েছে। জরিপে অংশ নেয়াদের ৪০ শতাংশ জানায়, বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট করা তাদের সেলফিতে কেউ যদি লাইক না দেয়, তাহলে তারা খারাপ বোধ করে।

৩৫ শতাংশ জানায়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের কত সংখ্যক ফলোয়ার বা অনুসারী রয়েছে, তার ওপর সরাসরি নির্ভর করে তাদের আত্মবিশ্বাসের বিষয়টি। ডিচ দ্য লেবেলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) লিয়াম হ্যাকেট জানিয়েছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলো তরুণ প্রজন্মের কাছে বেশি জনপ্রিয়। অনেকে একাধিক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে অভ্যস্ত। এসব মাধ্যমের সঙ্গে যুক্ত খুব কম তরুণ-তরুণী পাওয়া যাবে, যে অনলাইন-নিপীড়নের শিকার হয়নি। এটি প্রতিনিয়তই বাড়ছে। তরুণ প্রজন্মের জন্য এটি একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে। সাইবার-বুলিং বা অনলাইন-উৎপীড়ন শুধু ইন্টারনেট ব্যবহারের পরিবেশই নষ্ট করছে না। তরুণ ব্যবহারকারীদের পরিচয়, আচরণ এবং ব্যক্তিত্বে এর স্পষ্ট বিরূপ প্রভাব পড়ছে। বর্তমানে মানুষের মধ্যে অনলাইনে পরিচয় বা ব্যক্তিত্ব গোপন করার এক ধরনের প্রবণতা চালু রয়েছে। এটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোতে বেশি দেখা যায়। অর্থাৎ যোগাযোগের বিভিন্ন মাধ্যমে মানুষ খুব কমই বাস্তবতা প্রদর্শন করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মানুষ কী ধরনের পোস্ট করছে এবং ব্যবহারকারীর পোস্টে কী ধরনের মন্তব্য করা হচ্ছে সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মাধ্যমকেই আরো সতর্ক হওয়া উচিত। ব্যবহারকারীরা কী ধরনের অভিযোগ করছে সে বিষয়ে আরো আন্তরিক এবং তাৎক্ষণিক ও নিয়মিত সাড়া দেয়ার ব্যবস্থা রাখা উচিত।

ইংল্যান্ডের শিশু-বিষয়ক কমিশনার অ্যানি লংফিল্ড সাইবার-বুলিং নিয়ে লিয়াম হ্যাকেটের বক্তব্যকে সমর্থন জানিয়ে অনলাইনে শিশু নিপীড়ন বন্ধ এবং এরই মধ্যে নিপীড়নের শিকার হওয়াদের সমস্যা সমাধানে সরকারি আইনজীবী নিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন। পাশাপাশি স্কুলগুলোতে বাধ্যতামূলক ডিজিটাল নাগরিক অধিকার-বিষয়ক ক্লাস চালুর দাবি জানিয়েছেন।

বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কারণে শিশু ও তরুণরা এক ধরনের বিরুদ্ধতার আবহে বা বৈরিতামূলক সংস্কৃতির মধ্যে বেড়ে উঠছে, যা তরুণদের পারিবারিক ও সামাজিক জীবনযাপনের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।অক্সফোর্ড ইন্টারনেট ইনস্টিটিউট (ওআইআই) একই বিষয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। প্রতিবেদনে অনলাইন-উৎপীড়নের বিষয়টিকে দুর্লভ বলে উল্লেখ করা হয়। ডিচ দ্য লেবেলের প্রতিবেদনের সঙ্গে যাকে সাংঘর্ষিক মনে করা হচ্ছে। ওআইআই ১৫ বছরের তরুণদের ওপর জরিপ পরিচালনা করে। জরিপে ৩০ শতাংশ নিয়মিত অনলাইন-উৎপীড়নের শিকার, আর ৩ শতাংশ অফলাইন ও অনলাইন দুভাবেই উৎপীড়নের শিকার হয়েছে। 

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫