ঢাকা, সোমবার,১৭ জুন ২০১৯

নগর মহানগর

হাতিয়ায় সুদৃশ্য স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র আছে নেই প্রয়োজনীয় সেবা প্রদানকারী

হামিম উল কবির হাতিয়া (নোয়াখালী) থেকে ফিরে

১৯ মে ২০১৫,মঙ্গলবার, ০০:০০


প্রিন্ট
প্রসব জটিলতার গর্ভবতীদের এ নৌকায় করে নিঝুম দ্বীপ থেকে হাসপাতালে পৌঁছে দেয়া হয় : নয়া দিগন্ত

প্রসব জটিলতার গর্ভবতীদের এ নৌকায় করে নিঝুম দ্বীপ থেকে হাসপাতালে পৌঁছে দেয়া হয় : নয়া দিগন্ত

সরকারি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র আছে কিন্তু; নেই প্রয়োজনীয় সেবা প্রদানকারী। কিছু ক্ষেত্রে ফ্যামিলি ওয়েলফেয়ার ভিজিটরেরাও নেই। এটা নোয়াখালী জেলার দুর্গম অঞ্চল হাতিয়া উপজেলার চিত্র। নিঝুমদ্বীপে ইউনিয়ন স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রই নেই। অন্য ইউনিয়নে সুদৃশ্য দুই অথবা তিনতলাবিশিষ্ট স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র রয়েছে। এর একটি ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রের অর্ধেকেরও বেশি দখল করে আছে অন্য একটি সরকারি সংস্থা। বেশ কিছু ইউনিয়নে সিভিল সার্জনের অনুমতিক্রমে সেবা দিচ্ছে ইউএস এআইডির অর্থায়নে সেভ দ্য চিলড্রেনের মামণি হেলথ সিস্টেমস স্ট্রেংদেনিং প্রকল্পের পক্ষ থেকে বাস্তবায়নকারী সংস্থা রিসোর্স ইন্টিগ্রেশন সেন্টার (রিক)।
হাতিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৩০ রোগের চিকিৎসা দেয়া হয় বলে দেয়ালে লাল কালিতে লেখা রয়েছে। এর মধ্যে স্ত্রীরোগও রয়েছে। এ হাসপাতালে গত আট বছর সার্জন নিয়োগ দেয়ার পরও সিজারের কোনো ব্যবস্থা ছিল না। মরিচা পড়ে গিয়েছিল এনাসথেশিয়ার মেশিন। অবশেষে মামণি প্রকল্পের পক্ষ থেকে গত এপ্রিলে একজন সার্জন সিজার শুরু করছেন বিনামূল্যে। সেভ দ্য চিলড্রেনের সিনিয়র অ্যাডভাইজর ডা: সেলিনা আমিন জানিয়েছেন, হাতিয়ায় মামণির পক্ষ থেকে স্বাস্থ্যসেবা দেয়া হচ্ছে এবং তা চলবে ২০১৭ পর্যন্ত। পরে সরকারকেই পুরো স্বাস্থ্যসেবা দিতে হবে।
এ ব্যাপারে নোয়াখালীর সিভিল সার্জন ডা: মো: দেলোয়ার হোসেন নয়া দিগন্তকে জানিয়েছেন, হাতিয়া একটি দুর্গম এলাকা বলে এখানে নিয়োগ দেয়া হলেও ডাক্তারেরা থাকতে চান না। গত দুই মাস আগেও একজন গাইনি সার্জন ছিলেন হাতিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে; কিন্তু তিনি কাজ করেননি। ট্রান্সফার নিয়ে অন্যত্র চলে গেছেন। আগামী ২ জুন স্বাস্থ্য অধিদফতরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে শূন্য পদগুলোতে ডাক্তারের নিয়োগসংক্রান্ত সভা হবে। ডা: দেলোয়ার হোসেন জানান, হাতিয়ায় সেভ দ্য চিলড্রেনের পক্ষ থেকে একজন সার্জন কাজ করছেন। তিনি বেশ কিছু সিজার করেছেন।
সরকারি নিয়ম অনুযায়ী প্রতিটি ইউনিয়ন স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে একজন করে এমবিবিএস ডাক্তার থাকার নিয়ম রয়েছে। কিন্তু ডাক্তার দেয়া হয়েছে কেবল সোনাদিয়া ও কমরুদ্দিন ইউনিয়নে। অবশিষ্ট ইউনিয়নে সেবা দিচ্ছে মামণির প্যারামেডিক অথবা সরকারি ফ্যামিলি ওয়েলফেয়ার ভিজিটর (এফডব্লিউএ)।
এ উপজেলার আটটি ইউনিয়নে পরিবার পরিকল্পনা সেবা দেয়ার জন্য ৫৭ জন ফ্যামিলি ওয়েলফেয়ার অ্যাসিস্ট্যান্ট (এফডব্লিউএ) আছে, অবশিষ্ট তিনটি ইউনিয়নে তা-ও নেই।
হাতিয়ার ১১টি ইউনিয়নের মধ্যে সরকারিভাবে চারটি ইউনিয়নে ফ্যামিলি ওয়েলফেয়ার ভিজিটর (এফডব্লিউভি) রয়েছে। পাঁচটি ইউনিয়নে এফডব্লিউভি না থাকায় মামণি থেকে পাঁচজন প্যারামেডিক নিয়োগ দেয়া হয়েছে। এরা গর্ভবতী মায়েদের প্রসবপূর্ব সেবা (এএনসি), প্রসব পরবর্তী সেবা (পিএনসি) এবং গ্রামে গিয়ে স্যাটেলাইট কিনিক বসিয়ে গর্ভবতী, নবদম্পতিদের স্বাস্থ্যসেবা ও জন্ম নিয়ন্ত্রণের পরামর্শ দিয়ে থাকেন।
নিঝুমদ্বীপে মামণির পক্ষ থেকে একটি ইঞ্জিনচালিত বোট সবসময় প্রস্তুত থাকে যেন প্রসবে জটিলতা দেখা দিলে মায়েদের নোয়াখালী সদর হাসপাতালে নেয়া যায়। খালে চলাচল উপযোগী এ বোটটি কাছাকাছি চরচেঙ্গায় যায়। পরে সেখান থেকে বড় আরেকটি ইঞ্জিনের বোটে হাসপাতালে পৌঁছে দেয়া হয়। এখানে স্বাস্থ্যসেবা প্রদান যেমন অপ্রতুল, আবার জন্ম নিয়ন্ত্রণ সম্বন্ধে অজ্ঞতা থাকায় প্রতিটি মায়ের দুইয়ের অধিক সন্তান রয়েছে। এ দ্বীপের চরমুন্সিগ্রামের মোটরসাইকেলচালক সারওয়ারের স্ত্রী নার্গিসের (৩০) চারটি সন্তান থাকা সত্ত্বেও আবারো তিনি গর্ভবতী হয়েছেন। একই গ্রামের শাহাদাত হোসেনের স্ত্রী সুমী আক্তারের (২৩) দু’টি সন্তান আছে। সুমী আবারো গর্ভবতী।
এ দ্বীপের প্যারামেডিক মিতু জানিয়েছেন, জটিল না হলে প্রসবের সমস্যা নিয়ে কেউ আমার কাছে আসে না। গত শনিবার মিতু এ প্রতিবেদককে ফোনে জানান, বন্দরটিলার রিকশাচালক মিরাজের স্ত্রী রোকেয়া চার দিন ধরে প্রসব বেদনা ভুগছিলেন। আমাদের বোটটি চার দিন ধরে প্রস্তুত রেখেছিলাম; কিন্তু রোকেয়ার পরিবার হাসপাতালে পাঠায়নি। পরিবারের লোকজন বলছে, জোয়ার-ভাটার একটা পর্যায় শেষ হলেই সন্তান হয়ে যাবে। নানা কুসংস্কারের কারণে মায়েরা আধুনিক স্বাস্থ্যসেবাও নিতে পারেন না।

 

 

অন্যান্য সংবাদ

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫