ঢাকা, সোমবার,২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৭

শেষের পাতা

নির্বাচনী প্রস্তুতি : সংসদীয় আসন ৮৫-৯০

যশোরের ৬টি আসনে আওয়ামী লীগের গ্রুপিং চরমে

শেখ জালাল উদ্দিন যশোর অফিস

১৮ জুলাই ২০১৭,মঙ্গলবার, ০০:০০ | আপডেট: ১৮ জুলাই ২০১৭,মঙ্গলবার, ০৫:৫৮


প্রিন্ট
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে মাঠ গরম করতে শুরু করেছেন আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থীরা। যশোরের ছয়টি সংসদীয় আসনে তৎপরতা শুরু করেছেন তারা। দলীয় কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের পাশাপাশি নেতাকর্মীদের পক্ষে রাখার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন, চালাচ্ছেন গণসংযোগও। বিএনপি বিগত নির্বাচন বয়কট করায় জেলার ছয়টি সংসদীয় আসনই রয়েছে আওয়ামী লীগের দখলে। তাদের সব সংসদ সদস্য এবারও প্রার্থী হচ্ছেন এটা প্রায় নিশ্চিত। তবে দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার ক্ষেত্রে তাদের প্রত্যেককেই চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হতে পারে। কারণ সব আসনেই দলটির মনোনয়ন প্রত্যাশীর তালিকা এবার বেশ দীর্ঘ। দলটির জেলা এমন কি উপজেলা পর্যায়েও রয়েছে গ্রুপিং। এ বিষয়টিও মোকাবেলা করতে হবে প্রার্থীদের।
যশোর-১ (শার্শা উপজেলা) : শার্শা-বেনাপোলের রাজনীতিতে দুটি গ্রুপ দৃশ্যমান। সংসদ সদস্য আফিল উদ্দিনের প্রতিপ হিসেবে রয়েছেন বেনাপোলের পৌরমেয়র আশরাফুল আলম লিটন। আফিল ও লিটন গ্রুপের মধ্যে এখনো দা-কুমড়া সম্পর্ক বিদ্যমান। আগামী নির্বাচনে মনোনয়ন পেতে দুইজনই মরিয়া। ১১টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত যশোর-১ (জাতীয় সংসদের ৮৫) সংসদীয় আসন। জেলার সীমান্তবর্তী শার্শা উপজেলা নিয়ে গঠিত যশোর-১ আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি শেখ আফিল উদ্দিন। এবারো তিনি দলের মনোনয়ন চাইবেন। তবে একই সাথে এবার দলের মনোনয়ন চাইবেন বেনাপোল পৌরসভার মেয়র আশরাফুল আলম লিটন। সে লক্ষ্যে তিনি বেশ আগেভাগেই মাঠে নেমে পড়েছেন। নেতাকর্মীদের পক্ষে টানছেন, চালিয়ে যাচ্ছেন গণসংযোগও। 
যশোর-২ (চৌগাছা-ঝিকরগাছা) : জেলার আরো দুটি সীমান্তবর্তী উপজেলা ঝিকরগাছা ও চৌগাছা নিয়ে যশোর-২ (জাতীয় সংসদের ৮৬) আসন। এ আসনে আগামী নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ইতোমধ্যে মনোনয়ন প্রত্যাশীরা বিভিন্নভাবে দলীয় ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে মাঠে নেমে পড়েছেন। ঝিকরগাছা ও চৌগাছা এ দু’টি উপজেলায় ২২টি ইউনিয়ন ও দুইটি পৌরসভা। এ আসন থেকে দলীয় মনোনয়নের জন্য নেতারা মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। দুটি উপজেলা নিয়ে গঠিত এ আসনে দুটি গ্রুপ দৃশ্যমান। চৌগাছা উপজেলায় একচ্ছত্র আধিপত্য উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এস এম হাবিবুর রহমান হাবিব। তবে পৌরসভা নির্বাচনের সময় উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এস এম হাবিবুর রহমান বিদ্রোহী প্রার্থীর পক্ষে কাজ করায় এ উপজেলার দলের গ্রুপিং দৃশ্যমান হয়।
আর ঝিকরগাছা উপজেলায় আওয়ামী লীগের দুটি গ্রুপ রয়েছে। একটি বর্তমান সাধারণ সম্পাদক মুছা মাহমুদ ও অপরটি যুগ্ম সম্পাদক মনিরুল ইসলাম গ্রুপ। বর্তমান সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মনিরুল ইসলামের অনুসারী মুছা মাহমুদ আর সাবেক বিদ্যুৎ জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপক রফিকুল ইসলামের অনুসারী সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মনিরুল ইসলাম। আবার সম্প্রতি যশোর-২ আসন (ঝিকরগাছা-চৌগাছা) এলাকায় ব্যাপক শোডাউন করেছেন মুক্তিযোদ্ধা মেজর জেনারেল (অব:) অধ্যাপক ডা: নাসিরউদ্দিন। আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেতে তিনি এই শোডাউন করেন বলে জানা গেছে। এ আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য মনিরুল ইসলাম। এবারো তিনি দলীয় মনোনয়ন চাইবেন। তবে তার সাথে মনোনয়ন পাওয়ার দৌড়ে আরো রয়েছেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব:) ডা: নাসিরউদ্দিন, কেন্দ্রীয় কমিটির কৃষিবিষয়ক সম্পাদক আনোয়ার হোসেন, চৌগাছা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা চেয়ারম্যান এস এম হাবিবুর রহমান এবং জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য এ বি এম আহসানুল হক আহসান।
যশোর-৩ (সদর উপজেলা) : ১৫টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে যশোর -৩ আসন (জাতীয় সংসদের ৮৭)। বসুন্দিয়া ইউনিয়ন ছাড়া সদর উপজেলার বাকি অংশ নিয়ে গঠিত জেলার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এই আসনটি। কারণ এখান থেকেই নিয়ন্ত্রিত হয় পুরো জেলার রাজনীতি। তবে এ আসনে আওয়ামী লীগের মধ্যে গ্রুপিং চরমে। জেলা আওয়ামী লীগ এমপি ও চেয়ারম্যান গ্রুপে বিভক্ত। মনোনয়নের জন্য দুই গ্রুপই চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা কাজী নাবিল আহমেদ। তিনি এবারো দলীয় মনোনয়ন চাইবেন। জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সদর উপজেলা চেয়ারম্যান শাহীন চাকলাদারও গত নির্বাচনে এ আসন থেকে দলীয় মনোনয়ন চেয়েছিলেন। তিনি এবারো দলের মনোনয়ন পাওয়ার জন্য চেষ্টা করবেন। 
যশোর-৪ (বাঘারপাড়া ও অভয়নগর উপজেলা এবং সদরের একাংশ) : যশোর-৪ বাঘারপাড়া-অভয়নগর উপজেলা নিয়ে এ সংসদীয় আসন গঠিত। সংসদ সদস্য রণজিৎ রায় ও সাবেক হুইপ অধ্য আবদুল ওহাবের মধ্যে দ্বন্দ্ব বিরাজ করছে। বিগত নির্বাচনে আবদুল ওহাব বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেন। এ কারণে দল তাকে বহিষ্কার করে। এ আসনে আওয়ামী লীগের অর্ধ ডজন প্রার্থী এবার মনোনয়ন চাইবেন। যা নিয়ে দলের মধ্যে চলছে গ্রুপিং। আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য বাঘারপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি রণজিৎকুমার রায়। এবারো তিনি মনোনয়ন চাইবেন। দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার দৌড়ে তার সাথে আরো থাকবেন সাবেক হুইপ শেখ আব্দুল ওহাব, নওয়াপাড়া পৌরসভার সাবেক মেয়র এনামুল হক বাবুল, দলটির কেন্দ্রীয় উপকমিটির সাবেক সহসম্পাদক এস এম আলমগীর হাসান রাজীব, রায়পুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মঞ্জুর রশিদ স্বপন ও জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য নাজমুল ইসলাম কাজল।
যশোর-৫ (মনিরামপুর উপজেলা)
যশোর-৫ মনিরামপুর আসনের সংসদ সদস্য স্বপন ভট্টাচার্য। তিনি আওয়ামী লীগের প্রার্থী অ্যাডভোকেট খান টিপু সুলতানকে পরাজিত করে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। স্বপন ভট্টাচার্য আওয়ামী ঘরানার হলেও টিপু সুলতান হেরে গিয়ে তাকে মেনে নিতে পারেননি। তাই এই আসনেও আওয়ামী লীগ দুই গ্রুপে বিভক্ত হয়ে পড়েছে।
দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম উপজেলা। ১৭টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত এই উপজেলা। মনিরামপুর উপজেলার পুরোটা নিয়ে যশোর-৫ আসন। এ আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য আওয়ামী লীগ নেতা স্বপন ভট্টাচার্য। গত নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে দাঁড়িয়ে দলীয় প্রার্থী খান টিপু সুলতানকে পরাজিত করেন। ফলে এবারো যে তিনি দলীয় মনোনয়ন চাইবেন এটা নিশ্চিত। মনোনয়ন চাইবেন সাবেক এমপি খান টিপু সুলতানও। ইতোমধ্যে তিনি গণসংযোগও শুরু করেছেন। এ ছাড়া আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপকমিটির সহসম্পাদক আব্দুল মজিদ ও কেন্দ্রীয় নেতা কামরুল হাসান বারিও এ আসন থেকে দলীয় মনোনয়ন চাইবেন বলে শোনা যাচ্ছে। 
যশোর-৬ (কেশবপুর উপজেলা) : কেশবপুর উপজেলা আওয়ামী লীগ দুই গ্রুপে বিভক্ত। মন্ত্রী গ্রুপ ও সভাপতি গ্রুপ। পৃথকভাবে তারা দলীয় কর্মসূচি পালন করে থাকে। আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ইসমাত আরা সাদেক। তিনি ছাড়াও আওয়ামী লীগ থেকে এবার বেশকিছু নেতা মনোনয়ন চাইবেন। তারা হলেন, কেশবপুর উপজেলা চেয়ারম্যান এইচ এম আমির হোসেন, দলের কেন্দ্রীয় উপকমিটির সহপ্রচার সম্পাদক অ্যাডভোকেট হুসাইন ইসলাম, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এস এম রুহুল আমিন, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক গাজী গোলাম মোস্তফা, সাংগঠনিক সম্পাদক এবাদত সিদ্দিক বিপুল, সদস্য এস কে রফিক ও সাবেক ছাত্রনেতা আব্দুল মান্নান। এর আগে সংসদীয় আসন পুনর্বিন্যাসের সময় যশোরের অন্তত তিনটি আসন কয়েক দফা কাটাছেঁড়ার কবলে পড়েছে। আবারো আসন পুনর্বিন্যাসের কাজে হাত দিতে যাচ্ছে নির্বাচন কমিশন। এই পুনর্বিন্যাসের পর যশোরের সংসদীয় আসনগুলোর সীমানা আবারো বদলে যেতে পারে।
 

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫