ঢাকা, বৃহস্পতিবার,২০ জুলাই ২০১৭

শেষের পাতা

সরেজমিন

হজযাত্রীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা নিয়ে হয়রানি

মিটফোর্ড হাসপাতাল

শামীম হাওলাদার

১৮ জুলাই ২০১৭,মঙ্গলবার, ০০:০০ | আপডেট: ১৮ জুলাই ২০১৭,মঙ্গলবার, ০৬:০০


প্রিন্ট
রাজধানীর মিটফোর্ড হাসপাতালে টিকা নিতে আসা হজযাত্রীদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। সকাল ৭টায় লাইন ধরলেও মিলছে না টিকিট। আটজন করে ডাক্তার, নার্স ও কর্মচারী ডিউটিতে থাকার নির্দেশনা থাকলেও তা আমলে নিচ্ছে না কেউ। এ দিকে কার্ডিয়াক, ইসিজি, এক্সরে ও আরবিএস পরীা বাধ্যতামূলক। তবে এসব ছাড়াই হজযাত্রীদের দেয়া হচ্ছে স্বাস্থ্যসনদ।
জানা গেছে, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নিয়ম অনুযায়ী স্বাস্থ্যসনদ নেয়া বাধ্যতামূলক। কিন্তু এ কাজে হাসপাতাল কর্মচারীদের কোনো আর্থিক সুবিধা না থাকায় তারা অনেকটাই উদাসীন। এক দিনের কাজ করছে তারা তিন দিনে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই স্বাস্থ্য পরীা ছাড়াই স্বাস্থ্যসনদ ও টিকা দেয়া হচ্ছে। এরপরও তিন দিন লাগছে এই সনদ পেতে। এ স্বাস্থ্য পরীক্ষা ওয়ান স্টপ সার্ভিস হওয়ার কথা থাকলেও তা হচ্ছে না। ঢাকার বাইরে থেকে আসা হজযাত্রীদের একাধিকবার আসতে হচ্ছে হাসপাতালে। গত চার দিনে এক হাজার সাত শত হজযাত্রীকে হাসপাতাল কর্তৃপ কোনো পরীা ছাড়াই মেনিনজাইটিসের টিকা দিয়ে স্বাস্থ্যসনদ প্রদান করেছে। তার মধ্যে ১২ জুলাই ৪২০, ১৩ জুলাই ৩১৭, ১৫ জুলাই ৪৫০ ও ১৬ জুলাই ৫ শতাধিক হজযাত্রীকে টিকা দেয়া হলেও করা হয়নি স্বাস্থ্য পরীা-নিরীা। তবে দেয়া হয়েছে স্বাস্থ্যসনদ। এতে জটিল রোগে আক্রান্তরাও অনায়াসে স্বাস্থ্যসনদ পেয়ে যাচ্ছে। 
সরেজমিন মিডফোর্ড হাসপাতালের ১ নম্বর ভবনের দ্বিতীয় তলায় হজযাত্রীদের জন্য নির্ধারিত স্বাস্থ্যসেবাকেন্দ্র ঘুরে দেখা যায়, শতাধিক হজযাত্রী লাইনে দাঁড়িয়ে রয়েছেন। কিন্তু সেবা পেতে নির্ধারিত ডাক্তার-নার্স ও স্টাফ স্বল্পতার কারণে লাইন দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হচ্ছে। কর্তৃপরে অফিস আদেশ অনুযায়ী রোববার তিনটি মেডিক্যাল বোর্ডে আটজন ডাক্তার, ১৩ জন নার্স ও স্টাফ থাকার নির্দেশ থাকলেও দু’টি বোর্ডে দুইজন ডাক্তার, চারজন নার্স ও দুইজন স্টাফ ডিউটি করছেন। এ কারণে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। এ ছাড়া স্বাস্থ্যসনদ পেতেও দু-তিন দিন অপো করতে হচ্ছে বলে জানান ভূক্তভোগীরা। 
মিটফোর্ড হাসপাতাল প্রধান সহকারী ও টিকাদান কার্যক্রমের অন্যতম সদস্য মোহাম্মদ আব্দুর রহিম ভূঁইয়া বলেন, সব সরকারি হাসপাতালে হজযাত্রীদের টিকা দেয়ার ব্যবস্থা না থাকায় তাদের হাসপাতালে ভিড় বেশি। টিকাদান রুমে হজযাত্রীদের বসার চেয়ার না থাকা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, চেয়ার দিলে লোক ধরবে কম। তা ছাড়া হজযাত্রীরা আগে সুযোগ নেয়ার চেষ্টায় বসতে চায় না তারা। সাবেক জনতা ব্যাংক কর্মকর্তা মুক্তিযোদ্ধা মো: মুজিবুল হক এ প্রতিবেদককে জানান, স্বাস্থ্য পরীার সনদের জন্য গত তিন দিন এই হাসপাতালে আসছি। এখনো সনদ পাইনি। কখন পাবো তারও কোনো ঠিকঠিকানা নেই বলে জানান তিনি। নিজান উদ্দিন নামে একজন হজযাত্রী হয়রানি বন্ধে নিবন্ধনের সময় স্বাস্থ্য পরীারও দাবি জানা।
কেরানীগঞ্জের বাসিন্দা হজযাত্রী আনোয়ার হোসেন এ প্রতিবেদককে জানান, হাসপাতালে একটি সিন্ডিকেট পরে আসা হজযাত্রীদের আগে নিয়ে যায়। এসব ঘটনায় এক আনসার সদস্যকে বের করে দিয়েছে হজযাত্রীরা। এ ছাড়াও হাসপাতাল কর্তৃপরে লোকবল কাজে না আসায় ভোগান্তিতে পড়ছেন হজযাত্রীরা বলে জানান তিনি। এ দিকে মাসুদুর রহমান, আমানুল্লাহ, আতিকুল ইসলাম ও দেলোয়ার আহম্মেদসহ ১৫ থেকে ২০ হজযাত্রী জানান, দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও কোনো লাভ হয়নি। দুই-একজন পরীা-নিরীার কাগজ জমা দিলেও কোনো কিছু ছাড়া সনদ পাচ্ছে বাকিরা।
এসব বিষয়ে মেডিক্যাল বোর্ডের সমন্বয়কারী ও মিটফোর্ড হাসপাতালের উপপরিচালক ডা: মো: আব্দুস সালাম রোগীদের পরীা-নিরীা ছাড়া স্বাস্থ্যসনদ দেয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, হজযাত্রীদের যথাসম্ভব তাড়াতাড়ি টিকাদান ছাড়াও সব রকমের পরীা-নিরীা হওয়ার কথা রয়েছে হাসপাতালে। তবে এসবে কেউ গাফলতি করলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
 

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫