ঢাকা, শনিবার,২২ জুলাই ২০১৭

ঢাকা

অবশেষে শিকলবন্দীদশা থেকে মুক্ত ফাতেমা

সরকারি উদ্যোগে ময়মনসিংহ মেডিক্যালে চিকিৎসা শুরু

হোসেনপুর (কিশোরগঞ্জ) সংবাদদাতা

১৭ জুলাই ২০১৭,সোমবার, ২০:২৩


প্রিন্ট

দীর্ঘ ৬ বছর পর সরকারি উদ্যোগে শিকল বন্দীদশা থেকে মুক্তি পেলেন কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলার চরকাটিহারী গ্রামের মজিবুর রহমানের কন্যা মানসিক ভারসাম্যহীন স্কুলছাত্রী ফাতেমা। গত ১৫ ও ১৭ জুলাই দৈনিক নয়াদিগন্তের বাংলার দিগন্ত পাতায় “হোসেনপুরে ৬ বছর শিকলবন্দী স্কুলছাত্রী ফাতেমা” ও “নয়াদিগন্তে সংবাদ প্রকাশে ব্যাপক সাড়া” শিরোনামে দুটি সংবাদ প্রকাশের পর ঘটনাটি স্বাস্থ্য অধিদফতরের নজরে আসে। এরই ধারাবাহিকতায় মানসিক ভারসাম্যহীন ফাতেমাকে সোমবার সকালে স্বাস্থ্য বিভাগের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. হেলাল উদ্দিনের তত্ত্বাবধানে সরকারি এম্বুলেন্সে করে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠান হয়। সেখানে একটি মেডিক্যাল বোর্ড গঠন করে নিউরো মেডিসিন বিভাগের ১২ নম্বর ওয়ার্ডে ফাতেমার চিকিৎসার প্রাথমিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শুরু হয়েছে বলে জানান কর্তব্যরত চিকিৎসক।
তিনি আরো জানান, সব পরীক্ষার রিপোর্ট পর্যালোচনা করে মঙ্গলবার মানসিক স্বাস্থ্য বিভাগে স্থানান্তর করা হবে ফাতেমাকে।
উল্লেখ্য, শিকলবন্ধী ফাতেমা আক্তার ২০১১ সালে উপজেলার হোগলা কান্দি উচ্চ বিদ্যালয়ের বাণিজ্য শাখার এসএসসি পরীক্ষার্থী ছিল। নির্বাচনী পরীক্ষায় ইংরেজি ও হিসাববিজ্ঞান বিষয়ে অকৃতকার্য হওয়ার কারণে এসএসসি পরীক্ষার ফরমপুরণ করতে ব্যর্থ হয়ে মানসিকভাবে ভারসাম্যহীন হয়ে পড়ে। ফাতেমার পরিবার সহায়সম্বল বিক্রি করে কিছুদিন চিকিৎসা করলেও উন্নত চিকিৎসার অভাবে বর্তমানে ফাতেমা পুরোপুরি পাগল হয়ে যায়। ফলে গত ৬ বছর ধরে ফাতেমা শিকলবন্ধী হয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছিল।

এ ব্যাপারে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: হেলাল উদ্দিন জানান- গণমাধ্যমে ফাতেমার শিকলবন্দী দশার করুণ সংবাদটি প্রচারিত হলে স্বাস্থ্য বিভাগের দৃষ্টি আকৃষ্ট হয়। ফলে কিশোরগঞ্জের সিভিল সার্জনের সাথে পরামর্শ করে ফাতেমাকে শিকলমুক্ত করে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তির ব্যবস্থা করেন তিনি।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫