ঢাকা, বৃহস্পতিবার,২১ সেপ্টেম্বর ২০১৭

পাঠক গ্যালারি

এমপিওযুক্ত শিক্ষকদের এমফিল, পিএইচডি

মোজাফফর হোসেন

১৭ জুলাই ২০১৭,সোমবার, ১৮:৪৫ | আপডেট: ১৭ জুলাই ২০১৭,সোমবার, ১৯:২২


প্রিন্ট

শিক্ষকের শিক্ষাগত যোগ্যতা, কাজের পরিধি, সময়ের ব্যবহার, প্রশিক্ষণ, দায়িত্ব-কর্তব্য সব কিছুই এক নিয়মে, এক পদ্ধতিতে, এক প্রজ্ঞাপনে চলে কিন্তু দুঃখের বিষয় বেতন-ভাতা, সুযোগ-সুবিধাদি দুই শ্রেণীর জন্য দু’রকম, আলাদা আলাদা। এই আলাদা এক শ্রেণীর সুযোগ-সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষকদের নাম দেয়া হয়েছে এমপিওযুক্ত শিক্ষক। এসব শিক্ষকদের আজীবন কোনো প্রমোশনের সুযোগ নেই এবং তাদের দুই ঈদে দু’টি মূল বেতনের ২৫ শতাংশ বোনাস দেয়া হয়, যা অন্য কোনো চাকরিতে নেই। বৈশাখী উৎসব ভাতা থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে তাদের। তাদের বাড়িভাড়া বাবদ দেয়া হয় এক হাজার টাকা। তাদের চিকিৎসাভাতা পাঁচ শত টাকা, পেনশন নেই ও নেই অন্যান্য কোনো সুযোগ-সুবিধা। অথচ তারা সরকারের শিক্ষাব্যবস্থায় পাঠদানের ৯০ শতাংশ অবদান রেখে চলেছেন। শিক্ষামন্ত্রণালয়, শিক্ষা অধিদফতরসহ জেলা-উপজেলাপর্যায়ে শিক্ষা অফিসে কর্মরত সব কর্মকর্তা-কর্মচারী সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা পেয়ে থাকেন কেবল বঞ্চনার শিকার এমপিওযুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা।
এমপিওযুক্ত শিক্ষকদের অনেকেই রয়েছেন যারা এমফিল, পিএইচডি গবেষণায় রয়েছেন এবং কেউ কেউ গবেষণাকার্যক্রম সম্পন্ন করেছেন। এসব শিক্ষকদের মধ্যে বেশির ভাগ সরকারের অনুদান ছাড়াই নিজেদের খরচে গবেষণা করছেন এবং কেউ প্রজেক্ট সম্পন্ন করে এমফিল, পিএইচডির অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন। অ্যাওয়ার্ড পাওয়া এসব শিক্ষক তাদের পদ-পদবিতে অর্জিত অ্যাওয়ার্ডের কারণে ন্যূনতম সুবিধাটুকুও যুক্ত করতে পারছেন না। অথচ এই একই অ্যাওয়ার্ড পাওয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা তাদের পদন্নোতিতে, বেতন-ভাতা বাড়াতে এমফিল, পিএইচডির সনদ কাজে লাগাতে পারেন। বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়াও বাংলাদেশের অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা এমফিল, পিএইচডির সনদের বদৌলতে তাদের পদন্নোতি, পদমর্যাদা এবং আর্থিক সুবিধাসহ সবই বাড়াতে পারেন। এমপিওযুক্ত শিক্ষকদের মর্যাদা বা গুরুত্ব সরকারের কাছে না থাকলেও এমফিল, পিএইচডি ডিগ্রির প্রতি একটি ন্যূনতম গুরুত্ব তো সরকারের থাকতে পারত! কিন্তু তাতেও সরকার বেখেয়ালে সময় পার করছে। কেনো সরকারের এই বেখেয়ালি নীতি, তারও কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায় না। একই সনদ কারো জন্য সৌভাগ্যের কারণ, আবার কারো জন্য হতাশার কারণ হয়ে যাওয়া স্বাভাবিক গতি নয়।
এই সরকারের আগের সরকার তাদের আমলে এমপিওযুক্ত এমফিল, পিএইচডি ডিগ্রি পাওয়া শিক্ষকদের একটি সুবিধা দেয়ার ব্যবস্থা করেছিল। সে সময় এমফিল, পিএইচডি করা বেসরকারি শিক্ষকদের জন্য সরকারি কলেজে অধ্যাপনা করার সুযোগ দিতে ১০ শতাংশ কোটা বরাদ্দ ছিল। যদি কোনো এমপিওযুক্ত শিক্ষকের শিক্ষকতা করার পাঁচ-সাত বছরের অভিজ্ঞতা থাকে, সেই সাথে এমফিল, পিএইচডি ডিগ্রির যেকোনো একটি সে অর্জন করতে পারে, তবে সেই শিক্ষক পিএসসির (পাবলিক সার্ভিস কমিশন) মাধ্যমে ১০ শতাংশ প্রেসিডেন্ট কোটায় পরীক্ষা দিয়ে সরকারি কলেজে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পেতেন। এই সরকার সে সুযোগটুকুও বন্ধ করে দিয়েছে।
কেন সে কোটা বন্ধ করে দেয়া হয়েছে তা জানি না, তবে শুনেছি, বেসরকারি শিক্ষকদের জন্য এ কোটাটির প্রবর্তন করেছিলেন প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান। সে কারণে কোটাটি বন্ধ করা হয়েছে বলে গুজব রয়েছে। বন্ধ করা কোটার পরিবর্তে যদি শিক্ষকদের নিজ নিজ কর্মপদে পদন্নোতি কিংবা ইনক্রিমেন্ট প্রবর্তনের মাধ্যমে অর্জিত ডিগ্রির মর্যাদা অক্ষুণ্ন রাখার ব্যবস্থা করা হতো, তবুও এসব শিক্ষকেরা একটা সান্ত্বনা খুঁজে পাওয়ার চেষ্টা করত। কিন্তু হতভাগ্য শিক্ষকদের কপালে কোনোটাই জোটেনি। তাহলে বাংলাদেশে কি গবেষণার কোনোই মূল্য নেই? কী অপরাধ এসব শিক্ষকদের, যে কারণে তারা নিজের টাকা গবেষণার পেছনে ব্যয় করে ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হবেন, আর শিক্ষামন্ত্রণালয় এসব বিষয়ে যুগের পর যুগ উদাসীন থাকবে? কতজন আর এমফিল, পিএইচডি ডিগ্রি পাওয়া শিক্ষক রয়েছেন? তাদের জন্য কি কিছু করা যায় না? তাদের বেতনের সাথে ডিগ্রির সম্মানে অতিরিক্ত ৫০টি (পঞ্চাশ) টাকা যোগ করা হলে সরকারের কোষাগার খালি হয়ে যাবে না বরং এসব শিক্ষকের বিষয়েও সরকারের কিছু করা হবে এবং ডিগ্রি পাওয়াদেরও অন্তত একটা গ্রহণযোগ্যতা সবার কাছে থাকবে। সেই সাথে শিক্ষা ও গবেষণা কাজেও মানুষ আগ্রহী হয়ে উঠতে পারে। 

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫