ঢাকা, সোমবার,২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৭

ভ্রমণ

ভোগান্তির আরেক নাম সদরঘাট

মারিয়া নূর

১৭ জুলাই ২০১৭,সোমবার, ১৮:১২ | আপডেট: ১৭ জুলাই ২০১৭,সোমবার, ১৮:১৭


প্রিন্ট

সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল মানে ভোগান্তি, এ যেন একই সূত্রে গাঁথা। এক দিকে প্রয়োজনের তুলনায় পন্টুন আছে অর্ধেকেরও কম। আর যাও আছে, তার বেশির ভাগই দখল করে আছে মালবাহী ভ্যানগাড়ি ও অবৈধ হকার। এতে প্রতিদিন অর্ধ লাখেরও বেশি যাত্রী নানা ঝক্কিঝামেলার মধ্য দিয়ে লঞ্চে ওঠানামা করছে। দুই পাশে সারি সারি ফল ও বিভিন্ন বাহারি খাবারের দোকান। মাঝখান দিয়ে অবাধে যাওয়া-আসা করছে লোড-আনলোড হওয়া মালবাহী ভ্যানগাড়ি। উপর থেকে দেখে মনে হতে পারে, এটি হয়তো কোনো বাজারের ছবি। এই হলো নদীপথে দেশের সবচেয়ে বড় লঞ্চ টার্মিনাল সদরঘাটের চিত্র। যেখানে ভোগান্তিই যাত্রীদের একমাত্র সঙ্গী। অথচ নিয়ম অনুযায়ী পুরো টার্মিনালই যাত্রীদের লঞ্চে ওঠানামার জন্য বরাদ্দ থাকার কথা। 

লঞ্চ মালিক ও যাত্রীদের দাবি, প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম পন্টুন থাকা ও নানা ভোগান্তির কারণে দিন দিন ভয়াবহ ঝুঁঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে সদরঘাট টার্মিনাল। বর্ষা মওসুমে অশান্ত নৌপথে ঝুঁঁকি, বিড়ম্বনা ও ভোগান্তি মাথায় নিয়েই ঘরমুখো হয় যাত্রীরা।

দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের প্রধান অবলম্বন সদরঘাটে বর্ষা মওসুমে একটু বৃষ্টি হলেই সদরঘাট টার্মিনালের সামনের রাস্তাটিতে নর্দমার পানি ওঠে সৃষ্টি হয় জলাবদ্ধতা। নিষ্কাশন না করায় লেডিস মার্কেটের সামনের ড্রেনটিতে পানি আটকে যায়।

বুড়িগঙ্গার তীরে গড়ে ওঠা এই সদরঘাটকে ঘিরে উনিশ শতকে ঢাকা ব্যবসায়ীক জনপদ গড়ে উঠেছে। এই নদীর পাড়েই পুস্তক প্রকাশনার ঘাঁটি বাংলাবাজার, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, বলধা গার্ডেন, আহসান মঞ্জিল, মাছ ও ফলের সুবিশাল সব আড়ত।

এই নদীবন্দর থেকে বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের পটুয়াখালী, বরগুনা, ভোলা, ঝালকাঠি, মাদারীপুর, চাঁদপুর, খুলনা, হাতিয়া, বাগেরহাটসহ মোট ৪৫টি পথে লঞ্চ ও স্টিমার ছেড়ে যায়। মালামাল বহনকারী বার্জগুলোও সদরঘাটকে মাল ওঠানো-নামানোর কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করে। পাশাপাশি সরদঘাট ফলমূল, শাকসবজি ও বিবিধ সামগ্রীর একটি বৃহৎ দৈনিক বাজারে পরিণত হয়েছে। স্টিমার-লঞ্চ ছাড়াও ডিঙি নৌকাগুলো সব সময় ব্যস্ত যাত্রী নিয়ে এপার-ওপার খেয়া বাইতে। সব সময় লেগে থাকে কুলিদের শোরগোল। সব মিলিয়ে কয়েক শ’ বছর ধরেই ভোগান্তির আরেক নাম হয়ে উঠেছে সদরঘাট।

ছবি : মোহাম্মদ পনির হোসাইন

 

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
সকল সংবাদ

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫