ঢাকা, বুধবার,২৩ আগস্ট ২০১৭

প্রাণি ও উদ্ভিদ

গোখরার এখন প্রজনন মওসুম : যা করণীয়

সৈয়দ মাহবুব মোর্শেদ

১১ জুলাই ২০১৭,মঙ্গলবার, ০৫:৫৩


প্রিন্ট

রাজশাহীর তানোর পৌর এলাকার ভদ্রখণ্ড মহল্লার কৃষক আক্কাছ আলীর বাড়ির রান্নাঘরে গোখরা তিন মাস আগ থেকে আস্তানা গেড়েছিল, দিয়েছিল ডিম আর তাতে তা দেয় দুই মাস ধরে। তবে গোখরা সেখানে আস্তানা পাতে শুধু ইঁদুরের লোভেই নয়, বর্ষায় কীট-পতঙ্গের লার্ভার উপযুক্ত প্রজনন মওসুম। এসব কীট-পতঙ্গের লার্ভা গোখরার বাচ্চাদের জন্মের পরই দরকার। স্ত্রী গোখরা ডিম পাড়ার আগে এসব খাদ্যের পর্যাপ্ত প্রাপ্তি আন্দাজ করেই বাসা বাঁধে। তবে গোখরা বাচ্চারা জন্মের পর পরই মারাত্মক বিষ নিয়ে জন্মায়। আর প্রায়ই মানববসতির আশপাশে থাকেÑ যা নিয়ে নানান কল্পকাহিনী আছে। 
পরিবেশ ও বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের প্রফেসর ও সাবেক চেয়ারম্যান ড. নুরজাহান সরকার নয়া দিগন্তের প্রতিবেদককে এ কথা বলেন। তিনি বলেন, এখনই গোখরার প্রজনন মওসুম। এ মওসুমে ডিমে তা দেয়া থেকে বাচ্চা ফুটে। তবে মা গোখরা নিজের জন্যই কেবল বাসা খুঁজে না, বাচ্চারা জন্মাবার পরপরই যেমন নরম মজাদার খাবার পায় সেদিকেও নজর থাকে। যেহেতু এখন বিভিন্ন কীটপতঙ্গেরও প্রজনন মওসুম। তাই এগুলো যেখানে বেশি মেলে সেখানে গোখরা আবাস গাড়ে। তিনি সতর্ক করে দেন গোলা ঘরে মশারি না খাটিয়ে যেন কেউ না ঘুমান। কারণ গোখরার গোলা ঘর পছন্দ বেশি। তাই এখানে কেউ অসতর্ক অবস্থায় ঘুমালে গোখরার ছোবলে পড়তে পারে। 
এ দিকে বেশ কয়েকজন সর্প গবেষক জানান, গোখরা সাপ গ্রামে দালান-কোটায়ও ঢুকে যেতে পারে। লেপ তোষকের নিচে এরা আশ্রয়ও নিয়ে নেয়। বর্ষা মওসুমে গ্রামে-হাটবাজারে আধাপাকা বাড়িতে দেদার ঢুকে যেতে পারে গোখরা একটু উষ্ণতার আশায়। এ সময় ধানক্ষেত থেকে ইঁদুর আশ্রয় নেয় বিভিন্ন বসতবাড়িতে। আবার গ্রামে ধানক্ষেত, জলাশয়ে পানি থাকায় গোখরা সেখান থেকে ইঁদুর বা ছোটপাখির ছানা বা লার্ভা পায় না। এগুলো খেতে মানুষের বসতবাড়ির কাছেই বাসা বাঁধে গোখরা। 
রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজের অধ্যাপক আবু শাহিন জানান, রাজশাহীতে এমনিতেই সাপ আছে। তানোরের ওই কৃষকের বাড়ির আশপাশে বনজঙ্গল আছে। তবে তার বাড়িটা অনেকটা পোড়ো বাড়ির মতো, যা গোখরার উপযুক্ত স্থান। 
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, স্ত্রী গোখরা শীতকাল ছাড়া সব সময়ই ডিম দেয়। তবে রাজশাহীর তানোর পৌর এলাকার ভদ্রখণ্ড মহল্লার কৃষক আক্কাছ আলীর বাড়ির রান্নাঘরে গোখরা এপ্রিলের শেষে ডিম দেয়। গোখরা সর্বভুক প্রাণী। তবে মূলত ইঁদুর, ব্যাঙ, ছোট পাখি, ডিম, টিকটিকি খেয়ে থাকে। এরা জোড়ায় জোড়ায় থাকে। বংশ বিস্তার করে জোড়ায় জোড়ায় থেকে। 
জানা গেছে, কৃষক আক্কাছ আলীর বাড়ির আশপাশে জলাশয় নেই। কোনো পকুর বা নদী নেই। তাই বিশেষজ্ঞদের মতে, গোখরা অনেক দূরে চলে আসতে পারে খাবারের খোঁজে যা অনেক সময় বিপজ্জনক হতে পারে। স্বর্প বিশেষজ্ঞ শাহারিয়ার নয়া দিগন্তের এ প্রতিবেদককে জানান, রাজশাহীর তানোর পৌর এলাকার ভদ্রখণ্ড মহল্লার কৃষক আক্কাছ আলীর বাড়ির রান্না ঘরে গোখরা পাওয়ার ঘটনা একেবারে স্বাভাবিক ঘটনা। গ্রামেগঞ্জে এভাবে আগেও সাপ পাওয়া যেত। এখন প্রচার মাধ্যমের বদৌলতে একটু হইচই হচ্ছে। তিনি বলেন, এটা গোখরার প্রজনন মওসুম। তাই এরা একটু নিরাপদ স্থান বেছে ডিম দেয়।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫