ঢাকা, বুধবার,২৩ আগস্ট ২০১৭

গৃহস্থালি

বৃষ্টিমুখর বর্ষায়

ফাহমিদা জাবীন

১০ জুলাই ২০১৭,সোমবার, ১৫:১১


প্রিন্ট

কখনো কড়া রোদ, কখনো ঝুম বৃষ্টি- এই নিয়েই প্রকৃতিতে চলে বর্ষাকাল। বর্ষাকালের রয়েছে আলাদা বিশেষত্ব। এক দিকে বৃষ্টি উপভোগ করার আনন্দ, অন্য দিকে নানা সমস্যা। একটু সচেতন হয়ে উপভোগ করুন প্রকৃতির অপার সৌন্দর্যে ভরা এই ঋতু

ঋতু পরিবর্তনের ধারায় প্রকৃতিতে এখন বর্ষাকাল। আমাদের দেশে বর্ষাকালের প্রভাব আলাদা করেই অনুভব করা যায়। টানা বৃষ্টি, জলাবদ্ধতা, গরম স্যাঁতসেঁতে ভাব, কাদা- সব কিছুই প্রভাব ফেলে দৈনন্দিন জীবনযাত্রায়। সেই সাথে অবশ্যই মানুষের শরীরে। তবে বর্ষা শুধু বিড়ম্বনা নিয়ে আসে না, বর্ষার অনেক মজাও আছে। বৃষ্টির দিনে ইলিশের সাথে গরম খিচুড়ি, রিমঝিম বৃষ্টির মধ্যে ঝালমুড়ি বা পেঁয়াজু, আলুচপের সাথে গরম চায়ে চুমুক দিয়ে আয়েশ করার আনন্দও কম নয়। বর্ষাকালের আনন্দ নেয়ার সাথে সাথে নিজের ও পরিবারের কিছুটা যত্ন নিলে বৃষ্টিবাদলার এই মওসুমেও থাকবেন সতেজ ও স্নিগ্ধ।

ত্বকের যত্ন
বর্ষাকালে ত্বক সহজেই এর ঔজ্জ্বল্য হারায়। তাই এ সময় ত্বকের বিশেষ যত্ন নেয়া প্রয়োজন। সাবানের বদলে ক্লেনজার ব্যবহার করুন। এতে ত্বকে আর্দ্রতা বজায় থাকবে। ক্লেনজিংয়ের পর টোনার ব্যবহার করুন। গোলাপজলে তুলো ভিজিয়ে টোনার হিসেবে ব্যবহার করুন। এতে খুলে যাওয়া পোরগুলো সঙ্কুচিত হবে। মেঘলা দিনেও বাইরে বের হওয়ার আগে মুখে সান স্ক্রিন অবশ্যই লাগিয়ে নিতে হবে। বৃষ্টির দিনগুলোতে ওয়াটারপ্রুফ মেকআপ ব্যবহার করাই ভালো। তবে মেকআপ হালকা হওয়া প্রয়োজন। কারণ বৃষ্টি হলেও গরম বেশ থাকে।
বৃষ্টির এই সময়ে ব্লিচিং ও ফেসিয়াল যতটা সম্ভব কম করুন। কারণ এ সময়ে ব্লিচিং ত্বকের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। এ ছাড়া ফেসিয়াল ত্বককে রুক্ষ করে দিতে পারে। ত্বকের সাথে সাথে ঠোঁট, হাত-পায়েরও যত্ন নেয়া প্রয়োজন। রাতে ঘুমানোর আগে ঠোঁটে অল্প মিল্ক ক্রিম লাগান। ত্বকের ক্লেনজিংয়ের জন্য নারকেল তেলের সাথে অল্প পানি মিশিয়েও ব্যবহার করতে পারেন। ত্বকে আর্দ্রতা বজায় থাকবে ওয়াক্সিং, পেডিকিওর, মেনিকিওর নিয়মিত করুন সতেজ ও সুন্দর রাখার জন্য।
বৃষ্টিতে ভিজে গেলে বা কাদাপানির মধ্য দিয়ে এলে বাড়িতে ফিরে কুসুম গরম পানিতে হাত-পা ধুয়ে নিন। এতে আপনি সতেজ অনুভব করবেন। একই সাথে সুস্থ থাকবেন। ত্বকের ধরন অনুযায়ী ত্বকের পরিচর্যা করুন।

চুলের যত্ন
বৃষ্টির মওসুমে ত্বকের সাথে সাথে চুলেরও পরিচর্যা প্রয়োজন। কারণ এ সময় চুল নির্জীব হয়ে পড়ে এবং চুল পড়ার প্রবণতা বেড়ে যায়।
চুল বৃষ্টির পানিতে ভিজে গেলে সাথে সাথে ভালভাবে শুকিয়ে নিন। তবে বর্ষাকালে চুল সহজে শুকায় না, তাই চেষ্টা করুন চুল যতটা সম্ভব শুকনা রাখতে। শ্যাম্পু করার সময় হালকাভাবে চুলে শ্যাম্পু লাগান। চুল বেশি টানাটানি করবেন না। শ্যাম্পু করার পর চুলে অবশ্যই কন্ডিশনার লাগাবেন। সপ্তাহে অন্তত তিন দিন চুলের গোড়ায় কুসুম গরম তেল ম্যাসাজ করুন। এরপর চুল আঁচড়ে নিন। এতে তেল পুরো চুলে পৌঁছুবে। তেলের মধ্যে কয়েকটা কারিপাতা ফেলে গরম করেও চুলে লাগাতে পারেন। এতে চুল ঘন ও কালো হবে। বর্ষাকালে মাথার ত্বকে খুশকির উপদ্রব বেড়ে যায়। সেই সাথে মাথায় চুলকানিও হতে পারে। এসময় নিমতেল ব্যবহার করতে পারেন। কেমিক্যাল-সমৃদ্ধ বিউটি প্রোডাক্টের বদলে এসময় হার্বাল প্রোডাক্ট ব্যবহার করলে ত্বক ও চুলের স্বাভাবিক সৌন্দর্য বজায় রাখা সহজ হয়। যদি হেয়ার কালার করার পর চুল ধোয়া ও শুকাতে অনেক সময় লাগে তাহলে চুল কালার না করাই ভালো। যারা চুল শুকাতে হেয়ার ড্রায়ার ব্যবহার করেন তাদের অতিরিক্ত হেয়ার ড্রায়ার ব্যবহার এড়িয়ে যেতে হবে। বর্ষার এই স্যাঁতসেঁতে মওসুমে চুলের সাজে স্বাভাবিক সৌন্দর্য বজায় রাখুন। চুলের সাজ নিয়ে খুব বেশি কিছু না করে বরং স্বাভাবিকভাবে হেয়ার স্টাইল করার চেষ্টা করুন। এতে চুলের স্বাস্থ্য বজায় থাকবে চুল থাকবে সুন্দর, ঝলমলে।

বর্ষায় খাওয়াদাওয়া
ত্বক ও চুলের স্বাস্থ্যের সাথে যে বিষয়টি গভীরভাবে জড়িয়ে আছে সেটি হলো স্বাস্থ্য। স্বাস্থ্য ভালো থাকলে ত্বক ও চুলেও এর প্রভাব পড়ে। বর্ষাকালে পানিবাহিত রোগ, ভাইরাল ফিভার, ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ প্রভৃতি বেড়ে যায়। তাই এ সময় খাওয়াদাওয়ার দিকেও নজর দেয়া প্রয়োজন। প্রচুর পানি খান এতে আপনার শরীরে ময়েশ্চার বজায় থাকবে।
শাকসবজি ও ফলমূল রান্না ও খাওয়ার আগে কিছুক্ষণ লবণপানিতে ভিজিয়ে পরে ভালো করে ধুয়ে নিন। শরীরের তাপমাত্রা কমতে দেবেন না। তাহলে সহজে ভাইরাস আক্রমণ করতে পারবে না। এ সময় কাঁচা ফলমূল, সালাদ এড়িয়ে চলাই ভালো। কারণ বর্ষাকালে সহজেই কাঁচা খাবার সংক্রমণ ছড়াতে পারে। এর বদলে ভেজিট্যাবল স্যুপ খান। এতে এক দিকে যেমন শরীরে তাপমাত্রা বজায় থাকবে, অন্য দিকে ত্বক ও চুল পুষ্টি পাবে।
অ্যাজমা ও ডায়বেটিসের রোগীরা দেয়াল থেকে দূরে থাকুন। কারণ দেয়ালের ড্যাম্প তাদের অসুস্থতা বাড়িয়ে দিতে পারে।
দুগ্ধজাত খাবার, বাদাম ও সয়া খান। এতে শরীর ও চুল ভালো থাকবে। বাইরের খাবার এড়িয়ে চলুন।

বর্ষায় সাজ পোশাক
বর্ষার সময় সুতির বদলে জর্জেট, শিফন, মোটা সিল্ক- এজাতীয় পোশাক ব্যবহার করুন। এতে বৃষ্টিতে ভিজলেও পোশাক দ্রুত শুকিয়ে যাবে। বর্ষার রঙ হিসেবে নীল রঙ অনেকেই পছন্দ করেন। তবে এর সাথে সবুজ, হলুদ, লেমন, ফিরোজা এসব রঙের ব্যবহারও করে থাকেন ফ্যাশন ডিজাইনাররা। সাজের ক্ষেত্রে হালকা সাজই স্বাচ্ছন্দ্য দেবে এ সময়। এ সময় হালকা রঙের লিপস্টিক ভালো মানায়। সেই সাথে পায়ে পরুন রাবারের স্যান্ডেল বা জুতা। বর্ষার এই সময়টাতে নিজের ও পরিবারের যত্ন নিন আর উপভোগ করুন চমৎকার এই ঋতুকে।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫