ঢাকা, বুধবার,২৩ আগস্ট ২০১৭

প্রবাসের খবর

ডিটেনশন ক্যাম্পে আটকদের নিয়ে দুশ্চিন্তায় স্বজনেরা

‘ফ্রি প্লাস ওয়ান’ পদ্ধতিতে দেশে ফেরার সুযোগ অবৈধ কর্মীদের

মনির হোসেন

০৪ জুলাই ২০১৭,মঙ্গলবার, ০৬:৩৯


প্রিন্ট

শুক্রবার মধ্যরাত থেকে দেশব্যাপী ধরপাকড় অভিযান শুরু হওয়ার পর গতকাল মালয়েশিয়া ইমিগ্রেশন বিভাগ অবৈধ বিদেশী শ্রমিকদের নিজ নিজ দেশে ফেরত যেতে নতুন একটি পদ্ধতি চালুর ঘোষণা দিয়েছে। এ পদ্ধতির নাম ‘ফ্রি প্লাস ওয়ান’। 
‘ফ্রি প্লাস ওয়ান’ পদ্ধতি হচ্ছে যেকোনো অবৈধ বিদেশী শ্রমিক ৪০০ রিংগিট জরিমানা এবং কুয়ালালামপুর-ঢাকা বিমানের টিকিট নিয়ে পুত্রাজায়ার ইমিগ্রেশনে গেলেই তাকে দেশে ফেরার জন্য সুযোগ দেয়া হবে। 
এই ঘটনার সত্যতা জানতে গত রাতে মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশের হাইকমিশনার মো: শহীদুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করা হলেও তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।
গতকাল মালয়েশিয়ার শীর্ষ টেলিভিশন চ্যানেল টিভি-৩-এ এক বুলেটিনে এমন তথ্য প্রচার করতে শুরু করে। 
গতকাল মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুর থেকে একাধিক বাংলাদেশী নয়া দিগন্তকে বলেন, অবৈধ শ্রমিক ধরপাকড় অভিযান গতকালও অব্যাহত ছিল, যে কারণে আতঙ্কিত শ্রমিকেরা এখন যে যেভাবে পারছেন, নিরাপদ অবস্থানে থাকার চেষ্টা করছেন। এর মধ্যেও শুক্রবার মধ্যরাত থেকে গতকাল সোমবার পর্যন্ত মোট এক হাজার ২০০ বিদেশী অবৈধ শ্রমিক বিভিন্ন স্পট থেকে ইমিগ্রেশন পুলিশের হাতে ধরা পড়েছে। এর মধ্যে ২০ জন নিয়োগকর্তা রয়েছে। 
মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন বিভাগের বরাত দিয়ে টিভি-৩ সম্প্রচারিত সংবাদে বলছে, অবৈধ শ্রমিকদের দেশত্যাগে সরকার ফ্রি প্লাস ওয়ান নামের একটি পদ্ধতি চালু করেছে। তবে ৩০ জুন শেষ হওয়া ই-কার্ডের মেয়াদ সরকার আর বাড়াবে না। 
ইতোমধ্যে মালয়েশিয়ার কোম্পানিগুলোর পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে তারা নাকি শ্রমিকদের ই-কার্ড করাতে তৎপর ছিলেন। নানা কারণে তারা ইমিগ্রেশনে যেতে পারেননি। তবে আবার যদি সুযোগ দেয়া হয় তাহলে তারা ই-কার্ড করার সুযোগ কাজে লাগাবেন। নতুবা তারা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। কিন্তু দেশটির ইমিগ্রেশন বিভাগের মহাপরিচালক স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন ই-কার্ডের মেয়াদ বাড়ানোর আর কোনো সুযোগ নেই। 
এ দিকে দালালের খপ্পরে পড়ে মালয়েশিয়ায় লাখ লাখ টাকা খরচ করে পাড়ি জমানো একাধিক যুবক নয়া দিগন্তকে বলেন, আমরা এত টাকা খরচ করে এসেছি। এখন আমরা কিভাবে পুলিশের হাতে ধরা দিয়ে দেশে ফিরে যাবো? কারো কারো মালয়েশিয়া আসতে ৪ লাখ টাকাও খরচ হয়েছে। তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, অনেকেই প্রফেশনাল ভিসায় এসে প্রতারিত হয়েছেন। অনেকে স্টুডেন্ট ভিজিট ভিসায় এসেছেন প্রতারিত হয়েছেন। এমন সংখ্যা এখন এ দেশে লাখ লাখ। 
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মালয়েশিয়ায় ইমিগ্রেশনের অভিযানে যারা ধরা পড়েছেন তাদের ওপর চলছে শারীরিক নির্যাতন। এমন সংবাদ শুনে তাদের সহকর্মী ও স্বজনেরা নানাভাবে মালয়েশিয়ার ডিটেনশন ক্যাম্পগুলোয় যোগাযোগের চেষ্টা করছেন। এ সুযোগে নতুন করে বাণিজ্য শুরু হওয়ার আশঙ্কা করছেন আটক শ্রমিকের স্বজন ও তাদের সহকর্মীরা। বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে বাংলাদেশ হাইকমিশনকে মনিটরিং করার জন্য ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা অনুরোধ জানিয়েছেন। 
এ দিকে মালয়েশিয়ায় অবৈধ শ্রমিকদের রিহায়ারিংয়ের মাধ্যমে বৈধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ হাইকমিশনের কাউন্সিলর (শ্রম) মো: সায়েদুল ইসলাম। ই-কার্ড নেয়ার সময়সীমা শেষ হলেও অবৈধ শ্রমিকদের বৈধ হওয়ার সময়সীমা শেষ হয়নি। যারা এখনো বৈধ হতে পারেননি তারা আগামী ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত নিবন্ধনের মাধ্যমে বৈধ হতে পারবেন বলে জানান তিনি। ইতোমধ্যে যেসব বাংলাদেশী ই-কার্ড পেয়েছেন অথবা রিহায়ারিং কর্মসূচিতে রেজিস্টার্ড হয়েছেন, তাদের মধ্যে যাদের পাসপোর্ট নেই, তাদের দ্রুততম সময়ের মধ্যে বাংলাদেশ হাইকমিশন থেকে পাসপোর্ট সংগ্রহ করে বৈধতা নেয়ার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫