ঢাকা, বুধবার,২৩ আগস্ট ২০১৭

মাহে রমজান

তারাবির হাদিয়া প্রসঙ্গ

মুফতি মো: আব্দুল্লাহ

২২ জুন ২০১৭,বৃহস্পতিবার, ১৭:০৩


প্রিন্ট

ধর্মের একজন খাঁটি সেবক ও নবী-প্রতিনিধি হিসেবে অপরাপর বিষয়াদির অনুরূপ মাহে রমজান এসে গেলে তা যেহেতু বিশেষভাবে ইবাদতের মাস এবং এ ইবাদতের পরিমাণ-প্রবৃদ্ধি যেন অস্বাভাবিক হারে বাড়তে পারে সে জন্যই ২০ রাকাত তারাবিহ অতিরিক্ত এবং তাতে ন্যূনতম (৩০ পারা) এক খতম কুরআন পাঠ ও শ্রবণ সুন্নাতে মুয়াক্কাদা হিসেবে স্থিরিকৃত হয়েছে। সে কারণে মাহে রমজানের এসব ছোট বড় আমল ও তার আনুষঙ্গিক সব কিছু যেন একমাত্র আল্লাহ্র উদ্দেশ্যে হয়, খুশি খুশি আয়োজন-ব্যবস্থাপনা ও তা সম্পাদিত হয়, জোড়াজুড়ি, চাপাচাপি যেন কোনোপর্যায়েই পরিলক্ষিত না হয়; তা অবশ্যই বিবেচ্য। তাই একজন আলেম হিসেবে এ মর্মে এটুকুই ওয়াজ-উপদেশ দান কাম্য যে, ‘আমরা বেশি বেশি আমল করব, পরস্পরকে নেকি ও কল্যাণ কাজে সহযোগিতা করব, আন্তরিকতার সঙ্গে করব; কমিটি বা ১০ জনের পরামর্শ মোতাবেক ইমাম বা মুয়াজ্জিন গংয়ের অনুরূপ তারাবির হাফেজদের ক্ষেত্রেও যা ফায়সালা হয় তা সুন্দর, সুষ্ঠু ও সম্মানজনক উপায়ে করবো। ইত্যাদি। ব্যাস!
যে ক্ষেত্রে ‘হাদিয়া-সম্মানী’ হিসেবে হাফেজকে সম্মানী দেয়া হয় সে ক্ষেত্রে তা যেহেতু বাধ্যতামূলক বা আইনি বিবেচনায় দেয়া হয় না, বরং নৈতিক বিবেচনায় দেয়া হয়। তাই মুসল্লি বা কমিটি বা সংশ্লিষ্ট হাফেজ সবাই কোনো প্রকার বাধ্যতামূলক দায়দায়িত্বের আওতায় গণ্য না হয়ে বরং একান্ত নৈতিক দায়িত্ব হিসেবে দেয়া, না-দেয়া, পাওয়া না-পাওয়া নির্ভর করে বিধায় তাতে চাপাচাপি করে উসুল করা বৈধ হয় না; কেউ না দিলেও কিছু করার নেই; কমবেশি হলেও কিছু বলার নেই।
চাঁদা যেহেতু কেবল বাধ্যতামূলক খাতের ব্যাপারেই সীমিত নয়। তাই উসুল বা প্রাপ্তির সুবিধার্থে ‘বেতন-শ্রম’ ও ‘সম্মানী’ উভয় খাতের ক্ষেত্রেই চাঁদার মাধ্যমে আদায় বা পরিশোধ করা যেতে পারে। অর্থাৎ তারাবিহ নামাজের হাফেজকে পারিশ্রমিক বা হাদিয়া যে আঙ্গিকেই দেয়া হোক না কেন তা চাঁদা ধার্য ও চাঁদা আদায়ের মাধ্যমে পরিশোধ করা যেতে পারে। তবে পার্থক্য শুধু এটুকু যে, (১) এক চাঁদা ঐচ্ছিক; (২) আরেক চাঁদা আবশ্যিক।
মসজিদ কমিটি বা তারাবির ইন্তেজামিয়া কমিটি যে ক্ষেত্রে ‘তারাবির হাফেজদের সম্মানী’ শিরোনামে নিজেরা চাঁদা দেবেন এবং অন্যদের থেকে তা সংগ্রহ করবেন, সে ক্ষেত্রে যতটুকু যা উসুল হয় তার সবটাকা শুধু হাফেজদেরই প্রদান করতে হবে; তা থেকে অন্যদের প্রদান করা বৈধ হবে না। আর যদি পূর্বেই সবাইকে জানিয়ে দেয়া হয় যে, আমরা কমিটির সিদ্ধান্ত মোতাবেক ‘ইমাম, মুয়াজ্জিন, খাদেম ও তারাবির হাফেজ’সহ সবার জন্য কিংবা ‘সব খরচাদির’ জন্যও একই সঙ্গে চাঁদা উঠিয়ে পরামর্শ মতে সবাইকে দেব এবং খরচও বহন করব। তাহলে সে ক্ষেত্রে সব খাতেই তা ব্যয় করা বৈধ হবে। মোট কথা, একজনের কথা বলে আরেকজনকে প্রদান করা যেমন বৈধ হয় না; তেমনি এক খাতের কথা বলে তা অন্য খাতে ব্যয় করা যায় না।
তারাবির হাফেজদের ‘বেতন-পারিশ্রমিক’ শিরোনামে হোক বা ‘সম্মানী’ শিরোনামে হোক; মসজিদ কমিটি তা মসজিদের সাধারণ ফান্ড থেকেও বহন করতে পারেন। তবে যে ফান্ড নির্মাণ বা উন্নয়ন ইত্যাদি বিশেষ কাজে গঠিত এবং দাতারা ওই নির্দিষ্ট কাজের জন্য তহবিলের জোগান দিয়েছেন সেই ফান্ড থেকে যেমন নিজ মসজিদের ইমাম বা মুয়াজ্জিনকে বেতন প্রদান বৈধ হয় না, তেমনি তা থেকে তারাবির হাফেজকেও ‘সম্মানী’ ইত্যাদি প্রদান বৈধ হয় না।
মোট কথা, আমাদের মসজিদ সরকারি হোক বা পাড়া-মহল্লার জনগণের দ্বারা প্রতিষ্ঠিত ও পরিচালিত হোক- উপরি উক্ত ব্যাখ্যার আলোকে আমরা সম্ভাব্য যেকোনো ফান্ড থেকেই মাহে রমজানের নিয়োগপ্রাপÍ হাফেজদের সম্মানী প্রদান করতে পারি। আর ‘হাদিয়া’ শিরোনামে এবং খুশি খুশি যা উসুল হয়, তা কালেকশন করে যাদের কথা বলে নেব, তাঁদেরই বণ্টন করে দেব। এটাই সর্বোত্তম কর্মপন্থা বলে গণ্য।

লেখক : মুফতি, ইসলামিক ফাউন্ডেশন

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫