ঢাকা, শুক্রবার,১৮ আগস্ট ২০১৭

বিবিধ

ম্যান বুকার জয়ী ডেভিড গ্রসম্যান : তাঁর সাহিত্য

আহমদ মতিউর রহমান

২২ জুন ২০১৭,বৃহস্পতিবার, ১৪:৪৯


প্রিন্ট

তার পরিচয় দিতে গিয়ে বলা হয় বামপন্থী পিস অ্যাক্টিভিস্ট হিসেবে। ইসরাইলের
বহু নিবর্তনমূলক ব্যবস্থার তিনি বিরোধিতা করেছেন। তিনি ২০১০ সালে ফিলিস্তিনি এলাকায় ইসরাইলি বসতি স্থাপনের বিরুদ্ধে অবস্থান নেন। এর পরিবর্তে আলোচনার ভিত্তিতে সমাধান কাম্য ছিল তার। তিনি এ সময় বিক্ষোভে অংশ নিতে গিয়ে পুলিশের হাতে মারও খেয়েছেন

ব্যতিক্রমী একটি উপন্যাস লিখে এ বছরের ম্যান বুকার আন্তর্জাতিক পুরস্কার জিতে নিয়েছেন ইসরাইলের লেখক ও মানবাধিকার কর্মী ডেভিড গ্রসম্যান। শর্টলিস্টে তার সঙ্গে ছিলেন অপর ইসরাইলি লেখক অ্যামোস অজসহ আরো ৫ জন। বলতে গেলে সবাইকে টেক্কা দিয়ে তিনি জিতে নিলেন এ পুরস্কার। প্রথমবারের মতো ইসরাইলি কোনো লেখক এ পুরস্কারে ভূষিত হলেন। পোলিশ বাবা ও ইহুদি মায়ের সন্তান গ্রসম্যান লেখক সত্ত্বার পাশাপাশি একটি বামপন্থী পিস অ্যাক্টিভিস্ট হিসেবেও পরিচিত। তিনি বহুবার ইসরাইলি সরকারের গৃহীত নীতির সমালোচনা করে মাঠে নেমেছেন, পুলিশের হাতে নির্যাতিত হয়েছেন। এই পুরস্কার লাভ তাকে একটি নতুন পরিচিতি দেবে বলাই বাহুল্য।
এখন তার নাম যুক্ত হলো ২০০৫ সালে প্রথম ম্যান বুকার ইন্টারন্যাশনাল জয়ী আলবেনিয়ার ইসমাইল কাদারে, ২০০৭ সালের বিজয়ী নাইজেরিয়ার চিনুয়া আচেবে, ২০০৯ সালের বিজয়ী কানাডার এলিস মুনরো এবং ২০১৬ সালে বিজয়ী দক্ষিণ কোরিয়ার হান ক্যাং-এর সঙ্গে। যদেরকে পেছনে ফেলে তিনি পুরস্কার জিতলেন সেই শর্টলিস্টে ছিল রয় জ্যাকবসনের ‘দি আনসিন’, ভরোথি নরসের মিরর, শোল্ডার, সিগন্যাল, ম্যাথিয়াস এনার্ডের ‘কম্পাস’, অ্যামোস অজের জুডাস ও সামান্থা শোয়েবলিনের ‘ফিভার ড্রিম’। উল্লেখ ২০০৫ সাল থেকে বুকার ইন্টারন্যাশনাল পুরস্কার চালু হলেও ২০১৫ সাল পর্যন্ত এ পুরস্কার দেয়া হয় প্রতি দুই বছরে একবার। ২০১৬ সাল থেকে লন্ডনের মান গ্রুপ পিএলসির স্পন্সরে দেয়া ম্যান বুকার ইন্টারন্যাশনাল প্রাইজ প্রতি বছর দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়। ম্যান বুকারে অংশ নিতে পারেন কমনওয়েলথভুক্ত দেশ, আয়ারল্যান্ড ও জিম্বাবুয়ের লেখকরা। কিন্তু ম্যান বুকার ইন্টারন্যাশনাল সব দেশের জন্য উন্মুক্ত। এখন মূলত অনূদিত উপন্যাসের জন্যই এ পুরস্কার দেয়া হচ্ছে। পুরস্কারের অর্থমূল্য ৫০ হাজার পাউন্ড। মূল লেখক ও অনুবাদক ভাগ করে নেন। আর শর্টলিস্টভুক্তরাও পান এক হাজার পাউন্ড করে।
দুই.
ডেভিড গ্রসম্যানের জন্ম ১৯৫৪ সালে জেরুসালেমে। তার পিতা পোলিশ ও মা অধিকৃত ফিলিস্তিনের ইহুদি। বাবা এক সময় বাসচালক ও পরে লাইব্রেরিয়ান ছিলেন। সবার ধারণা এ থেকে ছেলে গ্রসম্যানের পাঠাভ্যাসের প্রেরণা এসে থাকতে পারে। লেখক হিসেবে তিনি বহু পুরস্কার পেয়েছেন। তবে ম্যান বুকার তাকে ভিনমাত্রা যোগ করবে বলে ধারণা।
তার পরিচয় দিতে গিয়ে বলা হয় বামপন্থী পিস অ্যাক্টিভিস্ট হিসেবে। ইসরাইলের বহু নিবর্তনমূলক ব্যবস্থার তিনি বিরোধিতা করেছেন। তিনি ২০১০ সালে ফিলিস্তিনি এলাকায় ইসরাইলি বসতি স্থাপনের বিরুদ্ধে অবস্থান নেন। এর পরিবর্তে আলোচনার ভিত্তিতে সমাধান কাম্য ছিল তার। তিনি এ সময় বিক্ষোভে অংশ নিতে গিয়ে পুলিশের হাতে মারও খেয়েছেন। ১৯৭০-এর দশকে লেখালেখি শুরু করেন গ্রুসম্যান। তার বহু বই জনপ্রিয়তা পেয়েছে আর বয়ে নিয়ে এসেছে পুরস্কার। তার বিখ্যাত অন্যান্য বইয়ের মধ্যে রয়েছে ডুয়েল, দি স্মাইল অব দি ল্যাম্ব, ফলিং আউট টাইম, টু দি অ্যান্ড অব দি ল্যান্ড ইত্যাদি।
তিন.
যে ব্যতিক্রমী উপন্যাসের জন্য গ্রসম্যান এবারের ম্যান বুকার ইন্টারন্যাশনাল পুরস্কার জিতেছেন তার কেন্দ্রীয় চরিত্রে একজন কমেডিয়ান। তার উপন্যাস ‘এ হর্স ওয়াকস ইন্টো এ বার’কে বলা হয়েছে কমিক নভেল। একে বলা হচ্ছে ‘আন ফর্গেটেবল’ অ্যান্ড ‘বোল্ড’। ইসরাইলের একটি শহর নেতানিয়া। সেই শহরের একটি ক্লাব ঘরে মাইক হাতে দাঁড়িয়ে গেল এক কমেডিয়ান। ব্যাড জোকস বলা শুরু করল। এই কমেডিয়ানের নাম দোভালেহ। সমালোচকদের মতে মূল্যবোধের গভীরে যাওয়ার আকাক্সক্ষা থেকে লেখা এ বই। এটা ইসরাইল বিষয়ক কোনো বই নয়, জনগণ ও সমাজ এর লক্ষ্যবস্তু। সমাজের অনাচার চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়ার চেষ্টা দেখা যায় কমেডির আড়ালে। বোধ করি ম্যান বুকারের বিচারক কমিটি এ কারণেই বইটিকে পুরস্কারের জন্য বেছে নিয়েছে?
চার.
লন্ডনে বিক্রি উপন্যাসের মধ্যে ৭ শতাংশ অনূদিত বই বলে এক পরিসংখ্যানে উঠে এসেছে। বলতে গেলে এর থেকে ম্যান বুকার ইন্টারন্যাশনাল পুরস্কার প্রতি বছর দেয়ার প্রেরণা আসতে পারে। গত বছর এই পুরস্কার জয়ী দক্ষিণ কোরিয়ার হ্যান কাংয়ের উপন্যাস ‘ভেজিটেরিয়ান’-এর ইউকে সংস্করণ ১ লাখ ৬০ হাজার কপি বিক্রি হয়েছে। এখন দেখার বিষয় ডেভিড গ্রস ম্যানের ভাগ্যে এমনটা ঘটে কি না। তাহলে অনুবাদের জয়জয়কারই নতুন করে ঘোষিত হবে। একই সাথে মহিমান্বিত হয়ে উঠবেন ডেভিড গ্রসম্যান ও তার মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম। মহিমান্বিত হয়ে উঠবেন তার গ্রন্থের অনুবাদিকা জেসিকা কোহেনও। সমালোচকরা বলেছেন, জেসিকা তার অনুবাদে মূলানুগ হতে পেরেছেন এবং ডেভিডের সরস বাক্য ও ভাষার গঠনশৈলী যথাযথ উপস্থাপনে সক্ষম হয়েছেন।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫