ঢাকা, সোমবার,২৬ জুন ২০১৭

ক্রিকেট

পাকিস্তানের কাছে হারের পর প্রবল অন্তর্দ্বন্দ্বে ভারতীয় ক্রিকেট

নয়া দিগন্ত অনলাইন

১৯ জুন ২০১৭,সোমবার, ২০:২২


প্রিন্ট
সংবাদ সম্মেলনে বিরাট কোহলি ও অনিল কুম্বলে

সংবাদ সম্মেলনে বিরাট কোহলি ও অনিল কুম্বলে

সদ্য সমাপ্ত চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি শেষ হওয়ার আগেই ভারতীয় ক্রিকেট দলের অধিনায়ক বিরাট কোহলি ও কোচ অনিল কুম্বলের মধ্যে সম্পর্ক একেবারে তলানিতে ঠেকেছে বলে জানা যাচ্ছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম আজ রিপোর্ট করেছে, ফাইনালের ঠিক আগেই কোহলি ভারতের ক্রিকেট উপদেষ্টা কমিটি ও বোর্ড কর্মকর্তাদের স্পষ্ট জানিয়ে দেন, কুম্বলের ব্যাপারে তার তীব্র আপত্তি আছে এবং তার সঙ্গে কাজ চালানো একেবারেই সম্ভব নয়।
এই পরিস্থিতিতে আসন্ন ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে আদৌ কোচ কুম্বলেকে পাঠানো হবে কি না, তা নিয়ে ভারতীয় বোর্ড এক নজিরবিহীন সংকটে পড়েছে।
ঠিক এক বছর আগে অনিল কুম্বলেকে যখন ভারতের প্রধান কোচ হিসেবে নিযুক্ত করা হয় - তারপর থেকে তার রেকর্ড প্রায় নিখুঁত বলা চলে। তার কোচিংয়ে চারটি হোম সিরিজ ভারত অনায়াসে জিতেছে, উঠেছে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ফাইনালে।
কিন্তু এই টুর্নামেন্ট শুরুর আগে থেকেই ক্যাপ্টেন কোহলির সঙ্গে তার মতবিরোধ প্রকাশ্যে চলে আসে, যদিও মুখে অন্তত কোহলি তা অস্বীকার করে গেছেন।
চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির সময় ভারতীয় অধিনায়ক বলেন, "ড্রেসিংরুমের ভেতরের খবর না জেনেই লোকে নানা উল্টোপাল্টা লেখে বা গুজব ছড়ায়। আমাদের ভেতরে সব ঠিকঠাক আছে, যারা গুজব ছড়াতে চায় তাদের ছড়াতে দিন।"
কিন্তু আগাগোড়া এই টুর্নামেন্ট কভার করা সাংবাদিক গৌতম ভট্টাচার্য বলছিলেন, কুম্বলে সম্পর্কে ক্যাপ্টেন আসলে কী ধারণা পোষণ করছেন সেটা প্রেস কনফারেন্সগুলোতেও গোপন থাকেনি।
"গোটা টুর্নামেন্টে একবারও কুম্বলে মিডিয়ার সামনে আসেননি, ক্যাপ্টেনও জিজ্ঞেস না করা হলে কুম্বলের নাম উচ্চারণ করেননি। অন্য দুজন কোচের কথা বলেছেন, কিন্তু নেহাত সৌজন্যের খাতিরে কিংবা বিতর্ক থামানোর জন্যও তিনি হেড কোচের নাম নেননি!"
"চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির সময় কোহলির প্রেস কনফারেন্স শুনলে যে কেউ ভাবতো ভারতীয় দলের নেটে রঘু বলে যে ছেলেটি বল ছোঁড়ে, তার ভূমিকাও বোধহয় কুম্বলের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ!" -বলছিলেন মি: ভট্টাচার্য।
ভারতের এমন শোচনীয় পরাজয়ের কারণ কী?

ফাইনালে পাকিস্তানের কাছে ধরাশায়ী হওয়ার আগে কুম্বলে সম্পর্কে সেই ক্ষোভই তিনি উগরে দিয়েছেন ভারতের ক্রিকেট উপদেষ্টা কমিটির তিন সদস্য - শচিন টেন্ডুলকার, সৌরভ গাঙ্গুলি আর ভিভিএস লক্ষ্মণের কাছে।
এরা তিনজনেই কুম্বলের সতীর্থ ক্রিকেটার এবং তাদের ভোট কিন্তু এখনো কুম্বলের দিকেই।
গৌতম ভট্টাচার্যের কথায়, "ক্রিকেট কমিটি মনে করছে কুম্বলেকে সরানো হবে কোন যুক্তিতে? শুধু ক্যাপ্টেনের পছন্দ নয় বলেই? আসলে ভারতীয় ক্রিকেটে ক্যাপ্টেনের ছড়ি ঘোরানোর এই প্রবণতার শুরু এম এস ধোনির সময় থেকেই- যখন তিনি ডানকান ফ্লেচারকে কোচ বানানোর জন্য জেদ ধরেছিলেন!"
"ডানকান ফ্লেচার প্রায় দুবছর ভারতের কোচ ছিলেন, কোনোদিন মুখ খোলেননি। এই ধরনের প্রচারবিমুখ লোক ক্রিকেটারদেরও খুব পছন্দের হয়। শেন ওয়ার্ন একবার বলেছিলেন কোচ হলো সেই লোকটা যে রোজ টিম বাসে করে টিমের সঙ্গে মাঠে আসবে আর দিনের শেষে বাসে করে টিম হোটেলে ফিরে যাবে। ক্রিকেটাররা কোচকে আসলে এই পর্যায়ে দেখতেই ভালোবাসে।"
আর অনিল কুম্বলে হলেন এই ডানকান ফ্লেচার বা জন রাইট ঘরানার ঠিক উল্টো ধাঁচের কোচ - সমস্যাটা সেখানেই।
ভট্টাচার্য বলছিলেন, "কুম্বলের সঙ্গে আমার কথা হয়েছে, আর তার বক্তব্য খুব সহজ। কুম্বলে বলছেন, আমাকে তো চাকরিটা দেয়া হয়েছে ভারতীয় ক্রিকেটে নতুন দিশা আনার দায়িত্ব দিয়ে, আর বিজ্ঞাপনেও তাই বলা ছিল।"
"প্রেজেন্টেশনেও আমি সেটাই বলেছি, আর সেটা পছন্দ হওয়াতেই বোর্ড আমাকে চাকরিটা দিয়েছে। এখন ক্যাপ্টেন আমার চাকরি নিয়ে কথা বলার কে, আমাকে নিযুক্ত করেছে যে বোর্ড আমি তো তাদের কথাই শুনব!'
কিন্তু কুম্বলে-কোহলি সংঘাতে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডও দ্বিধাবিভক্ত, তাদের মধ্যেও এ ব্যাপারে দুরকম মত আছে।
"বোর্ডের সুপ্রিম কোর্ট নিযুক্ত প্রশাসকরা কুম্বলেকে রাখারই পক্ষপাতী। কিন্তু বোর্ডের দৈনন্দিন কাজকর্ম যারা চালান, যেমন ভারপ্রাপ্ত সচিব অনিরুদ্ধ চৌধুরী বা সিইও রাহুল জোহরি - এরা আবার কুম্বলেকে সরাতে চান।"
"কুম্বলের বিরুদ্ধে তাদের রাগের একটা বড় কারণ এরা মনে করেন জাস্টিস লোধার কাছে গিয়ে কুম্বলে বোর্ড কর্মকর্তাদের নামে অনেক অভিযোগ করে এসেছিলেন, যাতে তাদের ফরেন এক্সচেঞ্জ অ্যালাউন্স-সহ বহু সুযোগ-সুবিধা কমে গেছে" -জানাচ্ছেন গৌতম ভট্টাচার্য।
বোর্ড কর্মকর্তাদের এই মানসিকতার পাশাপাশি যেহেতু কোহলির নেতৃত্বে ক্রিকেটাররাও এখন অনিল কুম্বলেকে 'হেড কোচে'র বদলে 'হেডমাস্টারে'র ভূমিকাতেই দেখছেন - সে কারণে অসাধারণ পারফরম্যান্সের পরও নড়বড়ে হয়ে উঠেছে তার চাকরি।
সূত্র : বিবিসি

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫