ঢাকা, শনিবার,২৪ জুন ২০১৭

বিবিধ

হিন্দু সম্প্রদায়ের রথযাত্রায় পুলিশের নিরাপত্তা ব্যবস্থা

নিজস্ব প্রতিবেদক

১৯ জুন ২০১৭,সোমবার, ১৯:৫৬


প্রিন্ট

সনাতন হিন্দু ধর্মালম্বীদের ধর্মীয় উৎসব শ্রী শ্রী জগন্নাথ দেবের রথযাত্রায় সর্বোচ্চ নিরাপত্তা প্রদান করবে পুলিশ। আগামী ২৫ জুন থেকে ৩ জুলাই পর্যন্ত নয় দিনব্যাপী রথযাত্রা অনুষ্ঠিত হবে।

পুলিশের আইজি এ কে এম শহীদুল হকের সভাপতিত্বে আজ সোমবার পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত রথযাত্রা উপলক্ষে আইন-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত সভায় এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।

সভাপতির বক্তব্যে আইজিপি বলেন, বাংলাদেশ ধর্মীয় সম্প্রীতির এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। এ দেশে বিভিন্ন ধর্মের মানুষের মধ্যে বিরাজমান ধর্মীয় সম্প্রীতি হাজার বছরের ঐতিহ্য। তিনি পুলিশসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার মধ্যে সমন্বয়ের মাধ্যমে রথযাত্রা উৎসবকে শান্তিপূর্ণ ও নির্বিঘ্ন করার জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানান।

আইজিপি বলেন, প্রতিটি মন্দিরের নিজস্ব স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগের মাধ্যমে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা বলয় গড়ে তুলতে হবে। প্রত্যেক নাগরিককে নিরাপত্তা সচেতন হতে হবে। নিজেদের মধ্যে নিরাপত্তা বোধ জাগিয়ে তুলতে হবে।

প্রধান রথযাত্রা আগামী ২৫ জুন বেলা ২টায় রাজধানীর স্বামীবাগ ইসকন মন্দির থেকে শুরু হয়ে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে ঢাকেশ্বরী মন্দিরে শেষ হবে। উল্টো রথযাত্রা আগামী ৩ জুলাই বেলা আড়াইটায় ঢাকেশ্বরী মন্দির থেকে শুরু হয়ে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে স্বামীবাগ ইসকন মন্দিরে এসে শেষ হবে। এছাড়া, ধামরাই, গাজীপুর, সিলেট, নওগাঁ, চট্টগ্রাম, দিনাজপুর, খুলনা, রাজশাহী, বরিশাল, মৌলভীবাজার, মানিকগঞ্জ ও ময়মনসিংহসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে রথযাত্রা অনুষ্ঠিত হবে।

সভায় সঠিক সময়ে রথযাত্রা শুরু করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। রথযাত্রায় আয়োজকদের সাথে সমন্বয় সাধন, যাত্রাপথে বিভিন্ন মোড়, জংশন, ফুটওভার ব্রিজে পর্যাপ্ত ফোর্স মোতায়েন, রথযাত্রা মিছিলের সামনে পেছনে এবং উভয় পাশে, যাত্রা পথে রুফটপে পর্যাপ্ত ফোর্স মোতায়েন, সিসিটিভি স্থাপন, হকার এবং সন্দেহভাজন লোকদেরকে প্রবেশ না করতে দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়। এছাড়া রথযাত্রায় ইউনিফর্ম পুলিশ ও সাদা পোশাকে ফোর্স মোতায়েন করা, রথযাত্রার প্রবেশস্থল ও আশেপাশে তল্লাশি চৌকি স্থাপন, সন্দেহভাজন গাড়ি তল্লাশি করার সিদ্ধান্ত হয়। সভায় রথযাত্রা পথে মাইক ব্যবহার না করা এবং রথ থেকে ফল, খাদ্য ছুঁড়ে না ফেলার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।

সভায় র‌্যাবের মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ, ডিএমপি কমিশনার মোঃ আছাদুজ্জামান মিয়া, ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি শফিকুল ইসলাম, ডিআইজি (অপারেশনস্) ব্যরিস্টার মাহবুবুর রহমান, ডিআইজি (প্রশাসন) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন, ডিআইজি, সিটি এসবি মল্লিক ফখরুল ইসলাম, অতিরিক্ত কমিশনার, সিটিটিসি মনিরুল ইসলাম, ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, মানিকগঞ্জ জেলার পুলিশ সুপারসহ অন্যান্য পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তা এবং ইসকন বাংলাদেশের সভাপতি সত্যরঞ্জন বাড়ৈ, সাধারণ সম্পাদক চারুচন্দ্র দাস ব্রহ্মচারী, কোষাধ্যক্ষ জ্যোতিশ্বর গৌরদাস ব্রহ্মচারী, বাংলাদেশ পূজা উদ্যাপন পরিষদের সভাপতি জয়ন্ত সেন, মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির সাধারণ সম্পাদক শ্যামল কুমার রায়, সাধারণ সম্পাদক স্বামীবাগ আশ্রম ইসকন মাধব মুরারী দাস, সভাপতি কালী মন্দির রবিন দাশ প্রমুখ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫