ঢাকা, শনিবার,২৪ জুন ২০১৭

বিবিধ

ঢাকায় পল্টন মোড়েই বেশি শব্দদূষণ

নিজস্ব প্রতিবেদক

১৯ জুন ২০১৭,সোমবার, ১৮:৩৯


প্রিন্ট

ঢাকায় বেশি শব্দদূষণ পল্টন মোড়েই। আর তুলনামুলক কম হচ্ছে মিরপুর এলাকার ব্লক-সি ও সেকশন-১ এ।

আজ সোমবার এলজিইডি-আরডিইসি মিলনায়তনে পরিবেশ অধিদপ্তর, পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয় আয়োজিত শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত ও অংশীদারিত্বমূলক কর্মসূচির সমাপনী সভায় এ জরিপের ফলাফল তুলে ধরা হয়।

জরিপের ফলাফল অনুযায়ী ঢাকায় বেশি শব্দদূষণ হতে দেখা গেছে পল্টন মোড় এলাকায় সর্বোচ্চ ১৩২ এবং সর্বনিম্ন ৬০ দশমিক চার ডিসিবল এবং তুলনামূলক কম ব্লক-সি, সেকশন-১, মিরপুর এলাকায় সর্বোচ্চ ৯৯ দশমিক এক ডিসিবল এবং সর্বনিম্ন ৫১ ডিসিবল।

শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত ও অংশীদারিত্বমূলক কর্মসূচির পরিচালক ফরিদ আহমেদ বলেন, জনমত জরিপে অংশগ্রহণকারীগণ শব্দদূষণের জন্য কল-কারখানা, নির্মাণ কাজ, সামাজিক অনুষ্ঠান, জেনারেটর বিভিন্ন উৎসের কথা উল্লেখ করলেও মূলত যানবাহনের হর্নকেই প্রধানত দায়ী করেছেন।

তিনি জানান, কর্মসূচির আওতায় আটটি বিভাগীয় শহরে শব্দের মাত্রা পরিমাপ বিষয়ক জরিপ, শব্দ সচেতনতায় প্রচারণামূলক বিভিন্ন কার্যক্রম যেমন টেলিভিশন অনুষ্ঠান, টিভিসি নির্মাণ ও প্রচার, নীরব এলাকা চিহ্নিত সাইনপোস্ট বসানো, উপকরণ প্রকাশ ও বিতরণ, কর্মকর্তা-কর্মচারি, শিক্ষার্থী, চালক ও চালকদের প্রশিক্ষকদের মধ্যে শব্দ সচেতনতায় প্রশিক্ষণ দান এবং ২০০ সাউন্ড লেভেল মিটার সংগ্রহ ও বিতরণ করা হয়।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন ভিসি অধ্যাপক প্রাণ গোপাল দত্ত বলেন, জরিপের মাধ্যমে আমরা বিভাগীয় শহরের শব্দদূষণ পরিস্থিতি এবং শব্দদূষণ সৃষ্টির উৎসসমূহ সম্পর্কে জানায় কার্যকর ব্যবস্থা নিতে সুবিধা হবে।

তিনি বলেন, শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে এখন সুনিদ্দিষ্টভাবে কর্মপন্থা নির্ধারণ করে তার বাস্তবায়ন করতে হবে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব ইসতিয়াক আহমেদ বলেন, উন্নয়নের সাথে শব্দদূষণের সম্পর্ক রয়েছে। বিক্ষিপ্তভাবে ভূমির ব্যবহার, কল-কারখানা গড়ে ওঠাও এর জন্য দায়ী। সরকার ১০০টি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে। এরকম পরিকল্পিত উন্নয়নের মাধ্যমে শব্দদূষণের মত সমস্যা দূর করা যাবে। তবে পাশাপাশি পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয় থেকেও শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে কার্যক্রম অব্যাহত রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে অতিরিক্তি সচিব (উন্নয়ন) আবদুল্লাহ আল মোহসীন চৌধুরী বলেন, শব্দদূষণ যে একটি দূষণ এই কর্মসূচি বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে মানুষের মধ্যে সে সম্পর্কে ধারণা দেওয়া সম্ভব হয়েছে। তবে ব্যাপকভাবে কাজ করার জন্য একটি প্রকল্প নিয়ে ধারাবাহিকতা রাখতে হবে।

পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক রইছউল আলম মন্ডল বলেন, ২০০৬ সালের শব্দ দূষণ নিয়ন্ত্রণে বিধিমালা প্রণয়নের পর পরিবেশ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। পরবর্তীতে শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে দীর্ঘমেয়াদী কার্যক্রম পরিচালনার লক্ষ্যে শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত ও অংশীদারিত্বমূলক দুই বছরের কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়। কর্মসূচির অধীনে সব কাজ সময়ের মধ্যে শেষ করা হয়েছে। তবে এখানেই থেমে গেলে চলবে না। শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে ধারাবাহিকভাবে কাজ করা হবে। এজন্য সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা প্রযোজন।

এতে আরো উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ পরিশে আন্দোলনের (বাপা) সাবেক সাধারণ সম্পাদক মহিদুল হক খান, স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আহমেদ কামরুজ্জামান মজুমদার এবং সহকারী অধ্যাপক ডাঃ নাসিমা আক্তার, নাক, কান ও গলা বিভাগ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় প্রমুখ।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫