ঢাকা, রবিবার,২০ আগস্ট ২০১৭

সিলেট

টানা বর্ষণে ওসমানীনগর ও বালাগঞ্জে বন্যা

মো: মুহিব হাসান,ওসমানীনগর (সিলেট)

১৯ জুন ২০১৭,সোমবার, ১৭:৫৪


প্রিন্ট

টানা তিন দিনের অবিরাম বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে ওসমানীনগর ও বালাগঞ্জ উপজেলায় কুশিয়ারা নদীর পানি প্রবেশ করে মারাত্মক বন্যা দেখা দিয়েছে। কুশিয়ারা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে বালাগঞ্জ উপজেলা সদরের রাধাকোনা করচার পাড় এবং পূর্ব পৈলনপুর ইউনিয়নের ফাজিলপুর, পৈলনপুর, ভাটপাড়াসহ ৪টি স্থানে কুশিয়ারা ডাইক ভেঙ্গে গিয়েছে এবং জালালপুর ও হামছাপুর নামক স্থানে ডাইক তলিয়ে গেছে। এতে বানের পানি প্রবেশ করে বালাগঞ্জ উপজেলা হেডকোয়ার্টার, বালাগঞ্জ বাজারসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। ওসমানীনগরের শেরপুরস্থ মধ্য তাজপুরের জব্বারের বাড়ির নিকটে পুরানো ভাঙ্গনকৃত কুশিয়ারা ডাইক দিয়ে বানের পানি ঢুকে তলিয়ে গেছে উপজেলার নিম্নাঞ্চলের বিভিন্ন গ্রাম। তাছাড়া ডাইকের অন্যান্য স্থান তলিয়ে বানের পানি ঢুকে বন্যায় ভেসে যাচ্ছে পুকুরের মাছ, তলিয়ে গেছে আউশ ধানসহ মৌসুমি সব্জি। তাই দুই উপজেলার তলিয়ে যাওয়া এসব গ্রামের লোকজনকে পোহাতে হচ্ছে সীমাহীন দুর্ভোগ। এতে দুই উপজেলায় হাজারও পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।
জানা যায়, গত তিন দিনের অবিরাম বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের পানিতে ওসমানীনগর উপজেলার সাদীপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ তাজপুর, মধ্য তাজপুর, লামা তাজপুর, পূর্ব তাজপুর, ইসলামপুর, সম্মানপুর, তাহিরপুর, লামাতাজপুর, নুরপুর, গাভুটিকি, মোবারকপুর, চাতলপার, কালনিচর, দক্ষিণ কালনীর চর,সুন্দিকলা,গোয়ালাবাজার ইউনিয়নের জহিরপুর, উমরপুর ইউনিয়নের মান্দারুকা, মিঠাবরাং, মাধবপুর, আব্দুল্লাপুর, চর সিকন্দরপুর, তাজপুর ইউনিয়নের চর ইসবপুর, নাগেরকোনা, বুরুঙ্গা ইউনিয়নের মুক্তারপুর, হাজীপুর, পশ্চিম পৈলনপুর ইউনিয়নের বল্লভপুর, মশাখলা, গলমুকাপন, হাজীপুর, কোনাপাড়া, ইশাগ্রাইসহ অধিকাংশ গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এতে পানিবন্দি রযেছে উপজেলার শত শত পরিবার।
এদিকে বালাগঞ্জ উপজেলার বালাগঞ্জ উপজেলা সদরের হেডকোয়ার্টার,বালাগঞ্জ বাজার, পূর্ব পৈলনপুর ইউনিয়নের পূর্ব ও পশ্চিম ফাজিলপুর, পৈলনপুর, ভাটপাড়া, জালালপুর, ঐয়া, কিত্তেজালালপুর, গালিমপুর, ছাদেকপুর, হামছাপুর, রশিদপুর, ভঙ্গপুরসহ ইউনিয়নসমূহের অধিকাংশ গ্রাম তলিয়ে গেছে। অন্যদিকে উপজেলার নিম্নাঞ্চলের ইউনিয়নগুলোর অধিকাংশ গ্রামে পানি উঠে পানি বন্ধি রয়েছে উপজেলার শত শত পরিবার।
এ ব্যপারে ওসমানীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান বলেন, গের সপ্তাহের প্রথম ধাপের বন্যায় সাদীপুর ইউনিয়নের মধ্যতাজপুরে ভাঙ্গনকৃত কুশিয়ারা ডাইক মেরামত করতে না করতে আবার বন্যা এসে গেছে। আগের বারের বন্যার সময় ৬ টন চাল বরাদ্ধ এসেছে। বর্তমানে ডাইক তলিয়ে আবার বন্যার আকার বৃদ্ধি পেয়েছে।
বালাগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা প্রদীপ কুমার সিংহ বলেন, উপজেলা সদরের করচার পাড় ও রাধাকোনা নামক স্থানে কুশিয়ারা ডাইকের ভাঙ্গনকৃত স্থান মেরামত করার মধ্যে আবার বন্যা শুরু হয়ে গেছে। লোকজন চলাচলের জন্য বাঁশের সাঁকো বসানো হয়েছে। পূর্বে বন্যার সময় পাঠানো চাহিদার আলোকে ৫ টন চাল বরাদ্দ এসেছিল। বর্তমানে বন্যা মারাত্মক আকার ধারণ করেছে।
গত সপ্তাহেও টানা তিন দিনের বর্ষণে বালাগঞ্জ ও ওসমানীনগরের কুশিয়ারা ডাইকের বিভিন্ন স্থান ভেঙ্গে ও তলিয়ে এলাকায় বন্যা সৃষ্টি হয়েছিল। বর্তমানে বন্যা মারাত্মক ধারণ করেছে।

অবিরাম বর্ষণে বালাগঞ্জ উপজেলা হেডকোয়ার্টার এলাকার অফিস পাড়া প্লাবিত হওয়ার একাংশ

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫