ঢাকা, রবিবার,২০ আগস্ট ২০১৭

খুলনা

শরণখোলায় সাজানো মামলায় কলেজ শিক্ষক জেল খাটার পর এবার দেশ ছাড়ার হুমকি

শরণখোলা (বাগেরহাট) সংবাদদাতা 

১৯ জুন ২০১৭,সোমবার, ১৫:৩২


প্রিন্ট

বাগেরহাটের শরণখোলায় এক কলেজ শিক্ষক সাজানো মামলায় ১৪ দিন জেল খাটার পর এবার তাকে বাড়ি ও দেশ ছাড়ার হুমকি দেয়া হয়েছে। এদিকে, পুলিশের গাফিলতির কারনে শরণখোলা ডিগ্রি কলেজের সহকারী অধ্যাপক মনোজ কুমার মন্ডল ১৪ দিন জেল খেটেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। হুমকি দেয়ার ঘটনায় মনোজ কুমার মন্ডল শরণখোলা থানায় একটি জিডি করেছেন। জিডি নং
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, মামলা ও পুলিশ সুত্রে জানা জানা যায়, ২০১৫ সালের ১৪ আগষ্ট শরণখোলা উপজেলার ধানসাগর গ্রামের প্রফুল্ল সমাদ্দারের ভোগদখলীয় জমি জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা চালায় পার্শ্ববর্তী মোড়েলগঞ্জ উপজেলার চিপা বারইখালী গ্রামের জনৈক মহিদুল ইসলামের নেতৃত্বে একটি সন্ত্রাসী বাহিনী। এসময় প্রফুল্ল সমাদ্দারের মেয়ে বরিশাল অমৃত লাল দে কলেজের ছাত্রী দেবী রানীকে ছুরিকাঘাত করে অপহরনের চেষ্টা চালানো হয়। এ ঘটনায় দেবী বাদী হয়ে মহিদুলকে প্রধান আসামী করে শরণখোলা থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা নং জিআর ১৬৪/১৫। মামলাটি বাগেরহাট আদালাতে বিচারাধীন রয়েছে। মামলার দায় থেকে রেহাই পেতে মহিদুল ইসলাম ঘটনার ৬দিন পর ২০ আগষ্ট একই ঘটনায় সুকৌশলে ঘটনাস্থল পাশ্ববর্তী মোড়েলগঞ্জ উপজেলায় দেখিয়ে দেবী রানীসহ দেবীর ভাই শরণখোলা ডিগ্রি কলেজের সহকারী অধ্যাপক মনোজ কুমার মন্ডলকে প্রধান আসামী করে মোড়েলগঞ্জ থানায় ২০ আগষ্ট ২০১৫ তারিখ একটি হয়রানীমুলক মামলা দায়ের করেন। তদন্ত শেষে ঘটনাস্থল শরণখোলা থানা এলাকা বিধায় ওই মামলাটি মোড়েলগঞ্জ থানা থেকে ফাইনাল রিপোর্ট দেয়া হয়। পরে মহিদুল মামলায় না রাজি দিলে মনোজ কুমার জজ আদালতে রিভিশন করেন এবং বিজ্ঞ জজ আদালত মামলার কার্যক্রম বন্ধ ঘোষনা করেন। কিন্তু অজ্ঞাত কারনে ম্যাজিস্ট্রেট আদালত রিভিশন উপেক্ষা করে মামলাটি নতুন করে এজাহার হিসেবে গন্য করার জন্য শরণখোলা থানাকে নির্দেশ দেন। থানা পুলিশ সবকিছু জেনে শুনেও না জানার ভান করে ২০ মার্চ ২০১৭ মামলাটি রেকর্ড করে তড়িঘড়ি করে মাত্র দু’সপ্তাহের মধ্যে ৫ এপ্রিল ২০১৭ মনোজ মন্ডল গংদের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশীট প্রেরন করেন। ওই মামলায় মনোজ গত ১৭ মে হাজির হলে আদালত তাকে জামিন না মঞ্জুর করে জেল হাজতে পাঠান। ১৪ দিন পর তিনি ৩০ মে হাজত থেকে জামিনে মুক্তি পান তিনি। ঘটনার শিকার অধ্যাপক মনোজ কুমার জানান, জজ আদালতের আদেশ থাকা সত্বেও তাকে অহেতুকভাবে হাজত খাটতে হয়েছে। এখন বাড়ি ও দেশ ছাড়ার হুমকি দেয়ায় তিনি নিরাপত্তার অভাব বোধ করছেন। পুলিশের গাফিলতির কারনে ১৪ দিন কারান্তরালে থাকায় তিনি সংশ্লিষ্ট সকলের বিচার দাবী করেন।
শরণখোলা থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ আব্দুল জলিল জানান, জজ আদালতের রিভিশনের বিষয়টি তার জানা ছিলনা। বিধায় যথানিয়মে মামলায় চার্জশীট দেয়া হয়েছিল।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫