ঢাকা, রবিবার,২০ আগস্ট ২০১৭

ইতিহাস-ঐতিহ্য

ঈদে মিরপুরের বেনারসি

১৯ জুন ২০১৭,সোমবার, ১৪:৪২ | আপডেট: ১৯ জুন ২০১৭,সোমবার, ১৭:৩০


প্রিন্ট

ঈদে মিরপুরের বেনারসিঈদে ঐতিহ্যবাহী বেনারসি শাড়ির প্রতি সহজাত একটা টান থাকে অনেক নারীর। সিল্ক সুতার শাড়িতে রূপালি ব্রোকেড আর সোনালি জরির জমাট কাজ। শাড়িতে আলোর রোশনাই মোহময়ী করে তোলে বেনারসি শাড়ি জড়িয়ে থাকা নারীকে। নারীদের কাছে বেনারসি তাই সবসময় পছন্দের শীর্ষে। এবারের ঈদেও কারিগরদের কাজে নতুন নতুন আয়োজনের কোনো কমতি নেই। আর নতুন নতুন সেসব ডিজাইনের টানে ভিড় জমেছে ঢাকার মিরপুর বেনারসি পল্লীতে। লিখেছেন সুমনা শারমিন
দেশ-বিভাগের পর ভারতের বেনারসের কয়েকশ’ মুসলিম তাঁতি পরিবার তৎকালীন পূর্ব পাকিস্থানে আসে। এদের বড় অংশটি ছিল প্রায় ২০০ পরিবারের, যারা ঢাকার মিরপুরে বসতি স্থাপন করে। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পরে স্থানীয়রা এ পেশায় ব্যাপকভাবে জড়িত হওয়ার পরই ঢাকায় বেনারসি শিল্পের প্রসার বাড়তে থাকে। বর্তমানে মিরপুর ১০ ও ১১ নম্বরের বিশাল একটা অংশজুড়ে বেনারসি পল্লী গড়ে উঠেছে। পুরো এলাকায় ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে শত শত কাতান আর বেনারসি শাড়ির দোকান। প্রায় প্রতিটি দোকানেরই রয়েছে নিজস্ব কারখানা। নিজেদের দক্ষতা, ঐতিহ্যবাহী নকশা আর রুচির সমন্বয়ে তৈরি হয় কাতান-বেনারসি। কাতানের দাম নির্ভর করে নকশা, উপকরণ আর জরির কাজের ওপর। এসব দোকানে সাধারণত ১৫০০-২০০০ টাকায়ই ভালো মানের শাড়ি পাওয়া যাচ্ছে। ভালো মানের কাতান শাড়ির দাম ৩ হাজার টাকা থেকে ১৬ হাজার পর্যন্ত হয়ে থাকে।বেনারসি শাড়ির মূল ডিজাইনের ধারা সৃষ্টি হয়েছে মোগল ঘরানা থেকে। ফুল ও আল্পনার মোটিফ, কালগা ও বেলপাতার নকশা। সেসব নকশায় শাড়ির রঙের সাথে মিলিয়ে বা রুপালি সোনালি সুতার জমাট কাজ। বেনারসি শাড়িতে রয়েছে আভিজাত্যের ছাপ। এসব শাড়ির অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো পাকা রঙ আর ওজনে হালকা। দামও নাগালের মধ্যেই। তাই সবার কাছেই এ শাড়ির কদর রয়েছে। শাড়ির নামগুলোও মনকাড়া। ফুলকলি কাতান, দুলহান কাতান, মিরপুরি রেশমি কাতান, মিলেনিয়াম কাতান, বেনারসি কসমস, অরগ্যান্ডি কাতান, ব্রোকেট কাতান, রেশমি কাতান, প্রিন্স কাতান, রিমঝিম কাতান, টিস্যু কাতান, মিরপুরি গিনি গোল্ড কাতান, জর্জেট গিনি গোল্ড কাতান, চুনরি কাতান ইত্যাদি। বেনারসির কারিগর লোকমান বলেন, বেনারসির সুতা আসে বিদেশ থেকে। সে সুতা প্রথমে রঙ করা হয়। এরপর সাবান ও গরম পানিতে ধুয়ে রোদে শুকিয়ে কয়েকটা সুতাকে একসঙ্গে করার জন্য কারখানায় পাঠানো হয়। পরবর্তী সময়ে গ্রাফ মাস্টারদের দেয়া ডিজাইন অনুযায়ী সে সুতা দিয়ে তাঁত শ্রমিকরা বোনে বেনারসি শাড়ি। বেনারসি কাতানের মধ্যে যে শাড়ির ওজন যত কম, তার দাম তত বেশি। যারা শাড়ি পরেন না, তাদের জন্য মিলবে পসলাই ছাড়া থ্রিপিস ২৪০০-৩৯০০ টাকার মধ্যে। ঈদের আগে পছন্দমাফিক ফরমায়েশ দিয়ে বানিয়ে নিতে পারেন সালোয়ার-কামিজ। ছবি: আশিক মাসুদ

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫