ঢাকা, রবিবার,২০ আগস্ট ২০১৭

ইতিহাস-ঐতিহ্য

ঢাকাজুড়ে উৎসবের আমেজে সেহরি

ফয়েজ হিমেল

১৯ জুন ২০১৭,সোমবার, ১৪:৩৩ | আপডেট: ১৯ জুন ২০১৭,সোমবার, ১৭:২৯


প্রিন্ট

কয়েক বছর আগে দল বেঁধে পুরান ঢাকার বিভিন্ন রেস্তোরাঁয় সেহরি খেতে যাওয়া ছিল এক নতুন ‘ক্রেজ’। বর্তমানে শুধু পুরান ঢাকা নয়, রাজধানীজুড়ইে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে সেহরি পার্টি। ধর্ম পালনের পাশাপাশি এ ধরনের পার্টি নিয়ে বিরোধ থাকলেও অনেকের মতে যানজটে হাঁপিয়ে ওঠা ঢাকাবাসী মধ্যরাতকেই বেছে নিচ্ছেন একসঙ্গে সময় কাটানোর জন্য আদর্শ সময় হিসেবে।
রমজানে রাজধানীর মানুষের জীবনে যোগ হওয়া সেহরিকেন্দ্রিক আয়োজনের কারণে রাত গভীর হলেও রাজধানীর অনেক হোটেলই থাকে মানুষের আনাগোনায় সরগরম। এখন রাতে রাজধানীর অনেক রেস্টুরেন্টই খোলা থাকে। তবে সবার আগ্রহ থাকে পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী খাবারের দিকে। পোলাও, কাচ্চি বিরিয়ানি, চিকেন বিরিয়ানি, খাসির লেগ রোস্ট এবং রেজালার গন্ধে ভরে ওঠে পুরান ঢাকার অলিগলি। মাঝরাতেও পুরান ঢাকার হোটেলগুলোর সামনে প্রাইভেট কারের ভিড়ে রীতিমতো জ্যাম বেঁধে যায়।
রাত ১টার পর থেকে হোটেলগুলোতে মানুষের ভিড় বাড়তে থাকে। সোডিয়াম লাইটের আলোয় পথ মোহময়তা মাখানো। হোটেলের সামনে মানুষের ভিড়, দল বেঁধে গল্পে মশগুল সবাই। হোটেলের ভেতরে মানুষের হাঁক-ডাক। ওয়েটারদের ব্যস্ত ছোটাছুটি, ঘুম ঘুম চোখে সেহরি খাওয়া-হোটেলগুলোতে বেশ ধর্মীয় ভাব-গাম্ভীর্য ফুটিয়ে তোলে।
বনানী, গুলশান, উত্তরার অভিজাত এলাকার কিছু কিছু রেস্টুরেন্ট খোলা থাকে তবে মানুষের প্রধান আকর্ষণ থাকে পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী রেস্টুরেন্টগুলোর প্রতি। হোটেল আল রাজ্জাক ঠাঁটারীবাজার, ধানমণ্ডির স্টার হোটেল, বঙ্গবাজারের সুপার স্টার, রাজধানী হোটেল সেহরি পার্টির জন্য জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। এসব হোটেলেই মানুষের আনাগোনা বেশি। এছাড়া রাজধানীর অভিজাত এলাকা গুলশান, বনশ্রী, উত্তরার বিভিন্ন রেস্টুরেন্টেও রয়েছে সেহরির নানা আয়োজন। এ ছাড়াও নাজিম উদ্দিন রোড, নাজিরাবাজারেও রয়েছে ঐতিহ্যবাহী সব হোটেল। বেশকিছু কর্পোরেট হাউজ, মিডিয়া হাউজ সেহরি পার্টি আয়োজন করে বেশ সাড়া ফেলেছেন এ বছর। বন্ধুদের সঙ্গে সেহরি করতে এসেছেন মিরপুরের বাসিন্দা নাইমুল ইসলাম। তিনি জানান, এই গভীর রাতে ঢাকা শহরে কখনোই বের হইনি। আমরা সেহরি করার আগে প্রথমে পুরো ঢাকা শহর, ফ্লাইওভার ঘুরে এরপর এসেছি সেহরি করতে।
উত্তরা থেকে নওয়াবপুরের হোটেল আল রাজ্জাকে সেহরি করতে এসেছে ২০ থেকে ২৫ জনের একটি দল। এই দলের একজন বললেন, হুট করেই চলে এসেছি আমরা। কোন পূর্ব প্রস্তুতি ছিল না। ফোনে ফোনে যোগাযোগ। ভালোই লাগে এভাবে বন্ধুদের নিয়ে আড্ডা দিতে আর সেহরি খেতে। দুপুর ১২টার পর থেকেই আনাগোনা বাড়তে থাকে হোটেলগুলোতে। তবে আসল চাপটা আসে রাত একটা থেকে আড়াইটার মধ্যে- বলছিলেন রাজ্জাক হোটেলের ব্যবস্থাপক। তিনি বললেন, মূলত দশ রোজার পরে চাপ বাড়ে। চলে চাঁদ রাত পর্যন্ত। সেহরি পার্টির খাবার তালিকায় সাদা ভাতের সঙ্গে মুরগি-মাসালা, ঝালফ্রাই, খাসির গ্লাসি, খাশির রোস্ট, বিভিন্ন ছোট-বড় মাছ থাকে। এ ছাড়া কাচ্চি, মোরগ পোলাও তো রয়েছেই। খাবারের পর থাকে মিষ্টি জাতীয় নানা খাবার। ফল, জুস, লাচ্চি কিংবা শরবত জাতীয় পানীয় প্রভৃতি।
শুধু আনন্দ করার জন্যই নয়, মানুষকে প্রয়োজনেও বাইরে সেহরি করতে হয়, তাই শহর এলাকার অনেক হোটেলই খোলা থাকে রমজানে। এদিকে, এসব আনন্দ উদযাপনের সময় যাতে ধর্মীয় ভাব-গাম্ভীর্য বজায় থাকে সেদিকে লক্ষ রেখে সেহরি করার পরামর্শ দিয়েছেন ধর্মপ্রাণ মুসলমানেরা। তারা বলেন, বন্ধুরা মিলে সেহরি খেতে কোনো বাধা নেই। কিন্তু ধর্মীয় ভাব যেন ক্ষুণœ না হয় সেই বিষয়টির দিকে লক্ষ রাখা উচিত। যারা সেহরি করতে আসছেন তাদের নিরাপত্তার দিকে নজর রাখার পরামর্শ দিয়েছেন ডিএমপি কর্তৃপক্ষ। সেহরির সময় ডিউটিরত পুলিশরাও সেহরি করেন, সেই সুযোগটা নেয় দুর্বৃত্তরা।

 

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫