ঢাকা, শুক্রবার,১৮ আগস্ট ২০১৭

পাঠক গ্যালারি

সব উৎসব হোক শিশুদের সাথে

১৯ জুন ২০১৭,সোমবার, ১৩:৩৮


প্রিন্ট

আমাদের দেশে উৎসবের উপলক্ষের অভাব নেই! যদি বছরের শুরু থেকে দেখি তাহলে ইংরেজি বর্ষ শুরু, ২১ শে ফেব্রুয়ারি, ২৬ মার্চ, ১৪ এপ্রিল (১ বৈশাখ), ১৬ ডিসেম্বর। এছাড়া বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক দিবস তো আছেই! মুসলমানদের সবচেয়ে বড় দুটি ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা। আর অন্যান্য ধর্মাবলম্বীদের নানা উৎসব তো আছেই। এর মধ্যে অনেক দিবসের সাথে যদিও বেদনার ইতিহাস জড়িত (যেমন : ২৬ মার্চ) কিন্তু তারপরও এ দিবসগুলোতে শিশুদের নিয়ে বিভিন্ন সংগঠন নানা আয়োজন করে থাকে।
নানা রঙের, রূপের ও আকর্ষণের এই উৎসবের দিনগুলোতে আমাদের শিশুরা কী করবে? বাসায় একাকী বসে থাকবে? একাকী থাকলে তারা নিঃসঙ্গ অনুভব করে। ফলে আজেবাজে চিন্তা বা কাজের সাথে জড়িয়ে যেতে পারে আবার এখন নিঃসঙ্গ থাকলে শিশুরা যে দু’টি বিষয় নিয়ে পড়ে থাকে তা হলো মোবাইল ও কম্পিউটার। আর এ দুটি কোনোভাবেই শিশুদের জন্য মঙ্গলজনক নয়। আর বাইরে একা একা বা বন্ধুদের সাথে ঘুরতে যাওয়া কি নিরাপদ? কতটুকু নিরাপদ?
বর্তমানে আমাদের দেশে ও বিশ্বে শিশুদের জন্য একটা বড় হুমকি হলো উপযুক্ত পরিবেশের অভাব। যেসব শিশুরা উপযুক্ত পরিবেশ পায় তাদের জীবনটা হয় সুন্দর ও মনোরম আর যারা সুন্দর পরিবেশ পায় না তাদের জীবনটা হয়ে ওঠে সংশয়াপূর্ণ। কঠোর পারিবারিক শাসনের মধ্যে বেড়ে ওঠা ‘নয়ন’ (ছদ্মনাম) নামের ছেলেটি একদিন পারিবারিক বন্ধন ছিঁড়ে এলাকার বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিতে যায়। আর সেখানে সে পেয়ে যায় আড্ডার মজা! এলাকায় তার এই বন্ধু ও ছেলেগুলো ভালো ছিল না। এক দিন-দু’দিন করে যেতে যেতে একসময় সে বন্ধুদের পাল্লায় পড়ে হয়ে ওঠে নেশাগ্রস্ত। আর তখন পরিবারের টনক নড়ে কিন্তু হয়ে যায় অনেক দেরি। তাকে তার এই বন্ধুদের থেকে আর আলাদা করা যায়নি। অবশেষে নেশাগ্রস্ত এই ছেলেকে দিয়ে আসতে হয় নিরাময় কেন্দ্রে। এ ধরনের আরো অনেক ঘটনা অহরহ ঘটছে আমাদের সমাজে। নয়নের বন্ধুরা ভালো হলে বা উপযুক্ত পরিবেশ পেলে তার এমন অবস্থা হতো না!
আমাদের আনন্দের মাত্রাও বেড়ে যাবে বহু গুণে। আমাদের শিশুরা থাকবে নিরাপদ, পাবে একটি সুন্দর পরিবেশ। আমরা উপভোগ করব নির্মল বিনোদন। তাই আসুন আমরা সব উৎসব উদযাপন করি শিশুদের সাথে।
মু. তৌহিদুল ইসলাম
শিশু সংগঠক

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫