রোজার ফজিলত

সৈয়দ মাহবুবুর রহমান

সহিহ বুখারী ও মুসলিম শরীফের হাদিসে হযরত আবু হুরায়রা রা: হতে বর্ণিত, প্রিয়নবী সা: এরশাদ করেছেন- ‘যে ব্যক্তি বিশ্বাস ও ভক্তিসহকারে এবং ছওয়াব পাওয়ার উদ্দেশ্যে রমজানের রোজা রাখে তার পূর্বকৃত গুনাহ মার্জনা করা হইবে। যে ব্যক্তি বিশ্বাসসহ এবং সুফল পাওয়ার আশায় রমজানে তারাবিহ আদায় করে, তাহার পূর্বেকার গুনাহ মাফ করা হইবে। যে ব্যক্তি ভক্তিসহ এবং সুফল পাওয়ার আশায় শবেকদরের রাত্রি জাগরণ করে, তাহার পূর্বকৃত গুনাহ মাফ করা হইবে। নাছায়ী ও আহমাদ নামক হাদিসে বর্ণিত আছে- নবীজী সা: এরশাদ করেছেন, ‘তোমাদের কাছে রমজান উপস্থিত হইয়াছে ইহা বরকতময় মাস, আল্লাহ্ তায়ালা তোমাদের ওপর উহার রোজা ফরজ করিয়াছেন উক্ত মাসে আকাশের দ্বার উদঘাটন করা হয় এবং উহাতে দোজখের দ্বার রুদ্ধ করা হয়, এবং উহাতে দুর্দান্ত শয়তানদেরকে শিকলবদ্ধ করা হয়। উক্ত মাসে আল্লাহ্ তায়ালার (নির্দেশিত) একটি রাত আছে যা সহস্র মাস অপেক্ষা শ্রেষ্ঠতর। যে ব্যক্তি উহার কল্যাণ লাভে অর্থাৎ উক্ত রাত্রির ইবাদাত করিতে অসমর্থ হয় সে ব্যক্তি আল্লাহর কল্যাণ লাভ থেকে বঞ্চিত রহিল। বায়হাকির হাদিসে বর্ণিত আছে, ‘আল্লাহ্ তায়ালা রমজানের রোজা ফরজ করিয়াছেন এবং উহার রাত্রি জাগরণ নফল করিয়াছেন। যে ব্যক্তি কোনো সৎ কাজের অনুষ্ঠান করিয়া আল্লাহ তায়ালার নৈকট্য লাভের চেষ্টা করে সেই ব্যক্তি ঐ ব্যক্তির তুল্য হইল যে অন্য মাসে একটি ফরয আদায় করিল। আর যেই ব্যক্তি উক্ত রমজান মাসে একটি ফরজ আদায় করিল সে ঐ ব্যক্তির তুল্য হইল যে অন্য মাসে ৭০টি ফরজ অদায় করিল। উহা ধৈর্য ধারণের মাস, ধৈর্য ধারণের ফল বেহেশত। উহা সহানুভূতির মাস এবং উহাতে ঈমানদারের জীবিকা (রুজি) বৃদ্ধি করা হয়।’
উক্ত হাদিস শরীফে আরো বর্ণিত আছে- ‘যে ব্যক্তি উক্ত মাসে কোনো রোজাদারকে ইফতার খাওয়াইবে তাহার গুনাহগুলি মাফ হইয়া যাইবে, দোজখের আগুন হইতে তাহার নিষ্কৃতি লাভ হইবে এবং তাহার পক্ষে সেই রোজাদারের তুল্য নেকি লাভ হইবে, কিন্তু ইহাতে সেই রোজাদারের নেকির কোনো তারতম্য হইবে না। যেই ব্যক্তি কোনো রোজাদারকে দুধের শরবত, খেজুর বা পানি দ্বারা ইফতার করাইবে আল্লাহ তায়ালা তাহাকে উক্ত সওয়াব প্রদান করিবেন আর যে ব্যক্তি কোন রোজাদারকে উদরপূর্ণ করে খাওয়াইবে আল্লাহ তায়ালা তাহাকে আমার হাউজ হইতে এরূপ শরবত পান করাইবেন যে, সে ব্যক্তি বেহেশতে প্রবেশ করা অবধি তৃষ্ণার্ত হইবে না। এই মাসের প্রথম অংশে রহমত নাজিল হয়, মধ্যমাংশে মানুষের গুনাহ মাফ করা হয় এবং শেষ অংশে দোজখ হইতে নিষ্কৃতি লাভ হয়। যেই ব্যক্তি উক্ত মাসে নিজ কৃত দাসের প্রতি সহজ ব্যবহার করে আল্লাহ তায়ালা তাহার গুনাহ মাফ করিয়া দেন এবং তাহাকে দোজখের আগুন থেকে মুক্তি দেন।’ বোখারী ও মুসলিম শরীফের হাদিসে বর্ণিত আছে আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘আছ্ছাওমুলি ওয়া আনা আজজিবিহি’ অর্থাৎ রোজা অমার জন্য (খাছ) এবং আমি নিজে (স্বয়ং) তাহার প্রতিদান দেবো।’ আরো বর্ণিত আছে রোজাদারের দুইটি মহা খুশি রহিয়াছে, একটি ইফতারের সময় অপরটি দিদারে এলাহি অর্থাৎ সরাসরি আল্লাহ তায়ালার দর্শন লাভ, যা অন্য কোনো এবাদাতের দ্বারা অর্জন সম্ভব নয়।
লেখক : জৈনপুর পীর সাহেব কেবলা

 

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.