ঢাকা, শনিবার,২০ জুলাই ২০১৯

উপসম্পাদকীয়

কাতার ক্রাইসিস ঘুরে গেছে : জনগোষ্ঠী মজলুমের পক্ষে দাঁড়াবে

গৌতম দাস

১১ জুন ২০১৭,রবিবার, ১৭:৫৬


গৌতম দাস

গৌতম দাস

প্রিন্ট

সৌদি আরব আবার প্রধান খবরের শিরোনাম। খবরটা হলো, মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় ছয় রাষ্ট্র-জোট জিসিসি বা গালফ কো-অর্ডিনেশন কাউন্সিল। কাতার, সৌদি আরব, ইউএই, ওমান, কুয়েত, বাহরাইন এই ছয় রাষ্ট্রকে নিয়ে জিসিসি গঠিত। হঠাৎ করে গত ৫ জুনের খবর হলো, জিসিসির সৌদি আরব, ইউএই, বাহরাইন আর বাইরের মিসর, এই চার রাষ্ট্র কাতারের সাথে সব ধরনের কূটনৈতিক সম্পর্কছেদ এবং নৌআকাশ ও সড়ক সীমান্ত বন্ধ করে সব বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে। কাতারি কূটনীতিকদের ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তাদের রাষ্ট্র ত্যাগ করতে বলা হয়েছে। প্রথম কয়েক ঘণ্টা আমরা শুনলাম যে, সরকারি ‘কাতার নিউজ এজেন্সি হ্যাক হয়ে যাওয়ায় সৌদি বাদশাহকে নিন্দা করে কিছু খবর প্রচার করা হয়েছিল। সেটা গত ২৩ মের ঘটনা। কয়েক ঘণ্টার মধ্যে আমরা আলজাজিরার মাধ্যমে শুনলাম ‘কাতার নিউজ এজেন্সির ওয়েবসাইট হ্যাকের ঘটনা জানানো হলো, আমেরিকায় দুবাইয়ের রাষ্ট্রদূতের ই-মেল অ্যাকাউন্ট থেকে এই হ্যাকিংয়ের সাথে তার সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ মিলেছে। কিন্তু আরো কয়েক ঘণ্টার মধ্যে কাতারের বিরুদ্ধে ওই চার রাষ্ট্রের সরব অভিযোগ; মেল হ্যাকিং, নিউজ এজেন্সি, নিন্দা করা ইত্যাদি বাদ দিয়ে এবার মূল অভিযোগ হিসাবে হাজির হয়- কাতার ‘সন্ত্রাসী রাষ্ট্র’, কারণ সে সন্ত্রাসবাদকে আশ্রয় প্রশ্রয় দেয়। বিবিসি সৌদি সরকারি এজেন্সিকে উদ্ধৃত করে জানিয়েছিল, ‘সন্ত্রাসবাদ ও চরমপন্থার বিপদ থেকে সৌদি জাতীয় নিরাপত্তা স্বার্থসংরক্ষণ ও নিরাপদ করতে তারা কাতারের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করেছে।’ আবুধাবিও প্রায় একই রকম মন্তব্যে জানিয়েছিল, ‘তারা মনে করে কাতারের দোহা সরকার, যারা সন্ত্রাসবাদ ও চরমপন্থা নিয়ে চলে, সমর্থন ও অর্থ দিয়ে তাদের সাথে সম্পৃক্ত হয়ে পড়েছে।’ অর্থাৎ স্পষ্ট হয়েছে আর হ্যাকিং থেকে কে কী প্রচার করেছে সেটা না, কাতারের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদকে সমর্থন, অর্থ ও প্রশ্রয় দেয়া ও সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ হচ্ছে আসল ইস্যু। কাতার ‘সন্ত্রাসবাদী’, এটা আবার কোন সন্ত্রাসবাদ? কাছাকাছি সময়ের ঘটনায় ‘এই সন্ত্রাসবাদের’ স্পষ্ট হদিস পাওয়া যায় গত ২০-২১ মে ট্রাম্পের সৌদি আরব সফরকালে। ‘ইরান সন্ত্রাস করে’ বলে এর বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছিলেন তিনি। ফিলিস্তিনের হামাস, লেবাননের হিজবুল্লাহ ও মিসরের ব্রাদারহুড তৎপরতাকে সৌদি আরব ‘বাড়তি সন্ত্রাসবাদ’ মনে করে, আর আমেরিকা এতে তাল দিয়ে নিজের পুরনো অবস্থানকে দুর্বল-হাতে আমল করে। অপর দিকে জিসিসির সদস্য হয়েও কাতার এসব প্রতিরোধ আন্দোলন তৎপরতাকে সহমর্মিতা দেখায়, সমর্থন দেয়, আশ্রয় দেয়, সহযোগিতা করে। এই সূত্রে কাতারের বিরুদ্ধে ‘সন্ত্রাসবাদের’ অভিযোগ। আমেরিকার দৃষ্টিতে, সন্ত্রাসবাদের এ এক আলাদা সংজ্ঞা।
পুরা ঘটনায় আসলে মূল বিষয়টা কী? বিষয়টা রাজতন্ত্রের আয়ুর সমস্যা। এখানে রাষ্ট্রীয় ভূখণ্ড হিসেবে সৌদি আরবের আয়ুর কথা বলা হচ্ছে না। রাষ্ট্র পরিচালনের সিস্টেম হিসেবে ‘রাজতন্ত্র’-এর ভবিষ্যতের কথা বলা হয়েছে।
সৌদি আরব মনে করে, তার রাজতন্ত্রের জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি ইরান, ১৯৭৯ সালের বিপ্লবের পরের ইরান। দুনিয়ায় ছড়িয়ে থাকা ইসলামি জনগোষ্ঠীর মধ্যে ইসলামের নানা বিভক্তি বা ভিন্নতা থাকা সত্ত্বেও ওইসব জনগোষ্ঠীর স্ব স্ব রাজনৈতিক লড়াইয়ে প্রথম আর অভিন্ন অবস্থান হলো, সিস্টেম হিসেবে তারা রাজতন্ত্রকে গ্রহণ না করা। ইরান সুন্নি নয়, তা সত্ত্বেও হামাস, হিজবুল্লাহ ও ব্রাদারহুডের মতো লড়াই সংগ্রামের প্রতি ইরানের সক্রিয় সমর্থন ও অবস্থান তাৎপর্যপূর্ণ। কারো ইরানের ব্যাপারে রিজার্ভেশন থাকলেও ইরানের এই ভূমিকাকে ইতিবাচক মনে করা হবে।
এই কারণে কয়েকটি আরব রাষ্ট্রের দ্ব্যর্থহীন অবস্থান হলো, এক : যে কেউ শিয়া বা সুন্নি যাই হোক, ইরানের সাথে যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রাখে সে শত্রু। তাকে কোনো ধরনের সহানুভূতি বা সমর্থন, অনুমোদন কিছুই দেয়া যাবে না। শুধু তা-ই নয়, তাকে উচ্ছেদ করে দেয়াই হবে সমীচীন।
দুই : উপসাগরীয় রাজতন্ত্রের ফাস্ট লাইন অব ডিফেন্স স্বভাবতই নিজ সেনাবাহিনী। এর পরের বলয় হলো জিসিসি, যা কেবল রাজনৈতিক জোট নয়, সবার সামরিক সক্ষমতাগুলোকে এক করে অভিন্নভাবে পরস্পরকে রক্ষায় তা ব্যবহার করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এজন্য জিসিসির স্টিয়ারিং হাতেÑ সৌদি প্রভাবে, ইয়েমেনে হুতিদের দমনে ইচ্ছা না থাকলেও কাতার বা অন্য কোনো সদস্য দেশ নিজের যুদ্ধবিমান নিয়ে যোগ দিতে বাধ্য। জিসিসির পরে লাইন অব ডিফেন্স হলো, এক দিকে মুসলিম জনসংখ্যা-প্রধান রাষ্ট্র আর অন্য দিকে আমেরিকার নেতৃত্বে পাশ্চাত্য ও সারা দুনিয়া।
তিন : বিশেষত সৌদি আরবের জন্য নিরাপত্তাহীন অস্বস্তিকর অনুভূতি এনে দিয়েছিলেন ওবামা, ২০১৪ সালে। ইরান-আমেরিকা নিউক্লিয়ার চুক্তি (পি+৫) করা হয়েছির সে সময়ে। গত ১৯৭৯ সালে ইরান বিপ্লবের পরও সৌদি আরব এমন উদ্বেগ বোধ করেনি। অথচ এই চুক্তির কারণে, ইরানের সাথে আমেরিকার নীতি অবস্থান স্বার্থবিরোধ কিছুই মেটেনি। কেবল একসাথে কাজের উপযোগী অবস্থান তৈরি হয়েছে। এটা আবার স্থায়ী নয়, প্রতি বছর মনিটরিং মূল্যায়নের ব্যাপার আছে। তবু এটা সহ্য করাও ইরানের প্রতি বৈরী রাষ্ট্রের কাছে অসম্ভব।
আমেরিকাভিত্তিক ‘সৌদি-আমেরিকান পাবলিক রিলেশন অ্যাফেয়ার্স কমিটি’ একটা লবিস্ট ফার্ম। এর সভাপতি সালমান আল-আনসারি। তিনি তার ক্লায়েন্ট সৌদি আরবের পক্ষে ক্ষুব্ধ মন্তব্য করে বলেছেন, ‘কাতারের আমির, সন্ত্রাসবাদী ইরান সরকারের পক্ষে তোমার অবস্থান আর কাস্টডিয়ান অব টু হলি মস্ক যিনি, তাকে অপমান করেছ। আমি তোমাকে মনে করিয়ে দিতে চাইÑ মিসরের মুরসি ঠিক একই কাজ করেছিল। সে খতম হয়ে গেছে, জেলে পচছে।’ এ কথাগুলো খুবই প্রতীকী, যা সৌদি অবস্থানের আসল প্রতিফলন বলে মনে করা যায়। এভাবে বলা কথাটা ‘সহি কিনা’ সেটা এখানে একেবারেই বিচার্য নয়।
চার : সৌদি আরব যা বলতে চাইছে এর সারকথা হলো, কাতারের বিদেশনীতি তার চেয়ে ভিন্ন হতে পারবে না। কাতারের সাথে শুধু কূটনৈতিক সম্পর্কছেদ নয়, খাদ্য-পণ্যেও অবরোধ করা হচ্ছে। মনোভাব যেন এ রকম, কোনো ব্যবসায় করতেও দেব না। আমার কথা না শুনলে এমনকি তোমাকে সরিয়ে তোমার কোনো জ্ঞাতি ভাইকেও ক্ষমতার আনার চেষ্টা করব।
সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী জুবেইর প্যারিস সফরে ছিলেন। সেখান থেকে রয়টারের খবর পরের দিন ৬ জুন ছাপা হয়। তিনি স্পষ্ট করে সৌদি আরবের মনের অনেক কথা বলে দিয়েছেন। তার সোজা কথা, আরব রাষ্ট্রগুলোর সাথে সম্পর্ক রাখতে গেলে কাতারকে অবশ্যই হামাস এবং ব্রাদারহুডের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করাসহ আরো অনেক পদক্ষেপ নিতে হবে। ‘সন্ত্রাসবাদী চরমপন্থা (এটা বলতে হামাস, ব্রাদারহুড বুঝতে হবে) দমন, বৈরী মিডিয়াকে সোজা করা (আলজাজিরা পড়তে হবে) আর ভিন্ন দেশে হস্তক্ষেপ (এটা বলতে বাহরাইনের আন্দোলনকারীদের প্রতি সহানুভূতি বুঝতে হবে) বন্ধ করাবে’Ñ বিগত কয়েক বছরে আমরা এগুলো নিয়ে প্রশ্ন তুলছি আর কাতার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। কাতার এগুলো বাস্তবায়ন করেছে, এটাই আমরা দেখতে চাই।’ জুবেইরের ফরমাল মন্তব্যের সবচেয়ে মজার অংশ হলো, তিনি বলছেন কাতার ‘প্যালেসটাইন অথরিটি আর মিসর সরকারকে অবমূল্যায়ন’ করেছে। আসলে তিনি বলতে চাইছেন, আমাদের ব্রাদারহুডের বিরুদ্ধে অবস্থানের পরে, মিসরের সিসি এখন নিশ্চিন্তে ক্ষমতায় আছে। আর আমরা সেই সুবিধা তৈরি করে দেয়ার বিনিময়ে সিসির পুরো সমর্থন আমাদের পক্ষে পেয়েছি।’ তিনি স্পষ্ট করেই বলছেন, হামাসের নেতা মিশাল অথবা ব্রাদারহুডের কোনো নেতাকর্মীকে না আশ্রয় কিছু দেয়া যাবে। চাপে পড়ে, কাতারের আমির সবাইকে অনেক আগেই বের করে দিতে হয়েছে। সম্ভবত এখন কেবল ইসলামি স্কলার কারজাভিকে আশ্রয় দিয়ে রেখেছে। কিন্তু তাতেও সৌদি আরব নিরাপদ বোধ করতে পারছে না। কাতারের আমির থানির মেহমানেরা বাইরের চাপে আশ্রয়দাতার দুরবস্থা দেখে, আমির তাদের কিছুই না বললেও নিজের করণীয় হিসেবে কাতার ত্যাগ করে চলে গিয়েছেন। এর পরেও সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওই বক্তব্য শেষে বলছেন, “সঠিক পথ নিতে কাতারের ‘কমন সেন্স ও লজিক’ জাগবে। আর তা যদি না হয় তবে আমার মনে হয় না কাতারিরা এর মূল্য পরিশোধ করতে পারবে।”
পাঁচ : ট্রাম্পের আমেরিকা; অনেকেই বিভ্রান্ত যে, আমেরিকার অবস্থান ঠিক কোথায়? ট্রাম্প আমলে নিজ অবস্থানের সবচেয়ে ওপরের পর্দায় বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে রেখেছেন। আমেরিকার প্রেসিডেন্টরা আমেরিকান রাজনীতিতে ‘লবি ব্যবসার’ স্বার্থের ভেতরেই কাজ করে থাকেন। কিন্তু ট্রাম্পের আমলে সেটা খুবই বাড়াবাড়ি পর্যায়ে চলে গেছে। বিভিন্ন রাষ্ট্রের থেকে লবির ফি নিয়েছে (আমেরিকার আইনে এটা আইন বিভাগের রক্ষিত খাতায় বলে দিতে হয় এবং এ কারণে অবৈধ না। ইতোমধ্যে ১৪০ মিলিয়ন ডলারের কাহিনী আমরা টাইমসে দেখেছি।) এমন দোস্ত-বেরাদরেরা ট্রাম্পের একদম চার পাশে ও কোলের মধ্যে বসে আছে। এমনকি ট্রাম্প তার মন্ত্রী-উপদেষ্টাদেরকেও বলে দিয়েছেন, অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের অবস্থান বা বক্তব্যেরও বাইরে আমি ভান করে কখনো কখনো দূরে সরে যাব, লিপ-সার্ভিস দেব- আমার দোস্ত বেরাদররা যে ফি নিয়েছে তা কাভার দিতে করতে হবে। কিন্তু তোমরা অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের অবস্থানেরই মধ্যেই থেকে কাজ করে যাবে। এতদিন আমেরিকান রাজনীতির ভোকাবুলারিতে ‘অ্যাডমিনিস্ট্রেশন’ বলতে নির্বাহী রাষ্ট্রপতির ফরমাল নীতি-অবস্থান বুঝাত। যেমন ওবামা প্রশাসনের মানে ওবামার কথা আর তার আমলা, নীতি-নির্ধারকদেরসহ সবারই ফরমাল অবস্থান। এই ফরমাল অবস্থানের নিচে ‘আন্ডারকারেন্ট’ হিসাবে স্টেট ডিপার্টমেন্ট আর পেন্টাগণের ঝগড়ায় ‘খুচরা’ নানা অবস্থান ভিন্নতাও থাকত। কিন্তু এখন ট্রাম্পের আমলে এসে আমরা দেখছি, ট্রাম্পের বক্তব্য (লিপ সার্ভিস) আর ট্রাম্প প্রশাসনের অবস্থান ও বক্তব্য- এই দুটি এক নাও হতে পারে।
সৌদি আরবেরও সেটা অজানা নয়। তাঁরা ট্রাম্পের লিপ-সার্ভিস জেনেশুনেই কিনতে চান। সেটাই তাদের কাছে নাকি অনেক। গত মাসে ট্রাম্প সৌদি সফরে এসে ‘ইরান সন্ত্রাসবাদী’- এই বাড়তি বা এক্সটেনডেড সংজ্ঞা আউড়িয়ে গিয়েছিলেন। অথচ এটা আমেরিকা প্রশাসনের অবস্থান নয়। যেমন, ট্রাম্প প্রশাসন ইতোমধ্যেই ওবামা আমলের শেষে ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইরানের সাথে করা নিউক্লিয়ার ডিল- এটা সঠিকভাবেই ও শর্ত মোতাবেক কোনো ব্যত্যয় না ঘটিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে বলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী লিখিত রিপোর্ট কংগ্রেসকে জানানো হয়েছে। অর্থাৎ ট্রাম্পের ইরানবিরোধী চাপাবাজি নির্বাচনের আগের অবস্থান যাই হোক, তিনি এখন ওবামার ইরানি ‘নিউক্লিয়ার ডিল’ সহি বলে অনুমোদন দিয়েছেন। এটা ১৮ মে’র খবর। কিন্তু ২০ মে সৌদি আরবে গিয়ে ‘ইরান সন্ত্রাসবাদী’ বলাকে ধরে নিতে হয়, ওটা আসলে লিপ সার্ভিস ছিল।
ট্রাম্পের এবারের চাপাবাজি : টুইট করতে আমোদ পাওয়া ট্রাম্প এক টুইট করেছেন, ‘তার সৌদি সফর ফল দেয়া শুরু করেছে। কাতারের দিকে আঙুল তুলে টেরোরিস্ট ফান্ডিংয়ের বিরুদ্ধে তারা শক্ত অবস্থান নিয়েছেন, অচিরেই টেরোরিজমের ভীতিকর দিন শেষ হবে।’
কিন্তু রয়টার্স লিখছে, ট্রাম্প যখন কাতার ইস্যুতে এভাবে আরবদের পিঠ চাপড়াচ্ছিলেন, পেন্টাগন ঠিক তখন কাতারের সাথে ফোনে প্রশংসা করছিল যে, ‘কাতার সরকার আঞ্চলিক নিরাপত্তার প্রতি নিজের প্রতিশ্রুতি রক্ষার্থে কাতারে আমেরিকান সামরিক ঘাঁটির হোস্ট হিসাবে নিরলস খেদমত করে যাচ্ছে, আমরা এর প্রশংসা করি।’ এভাবেই আমেরিকার প্রেসিডেন্টের প্রতিরক্ষামন্ত্রী কাতারি প্রতিরক্ষামন্ত্রীর সাথে ফোনে কথা বলেছেন বলে মার্কিন মুখপাত্র নিশ্চিত করেছেন।
রয়টার্স আমেরিকান এক কূটনীতিকের বরাতে জানাচ্ছে, ‘ট্রাম্পের টুইট একটু অস্বস্তিকর হলেও আমেরিকা নীরবে সৌদি আর কাতারের উত্তেজনা ঠাণ্ডা করার পক্ষে কাজ করছে। কারণ কাতার আমাদের কাছে সামরিক ও কূটনৈতিক স্বার্থের দিক থেকে খুবই গুরুত্বপূর্ণ।’
তবু কাতার সরকারকে উচ্ছেদ করা হতে পারে বলে যে সম্ভাবনা ছিল, তা নস্যাৎ করে দিয়েছেন তুরস্কের এরদোগান। প্রথম দিন তিনি এক বিবৃতি দিয়ে নিজের পক্ষে পরিস্থিতি ঘুরিয়ে দেন। এটাকে বলা যায়, কে দুনিয়ায় মুসলিম কমিউনিটির প্রধান নেতা হবেন- এই প্রশ্নে এরদোগানের এক রকম জিত হয়েছে। তিনি বলেছেন, কাতারের আমির সন্ত্রাসবাদী, এটা তিনি বিশ্বাস করেন না। আর পরের দিন তুরস্ক ২০১৪ সালের এক চুক্তি মোতাবেক কাতারে সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করেছে। এটাই সম্ভাব্য যেকোনো কাতার বিরোধী পরিকল্পনার বিরুদ্ধে এক বিরাট ডিটারেন্ট, পাল্টা অবস্থান এক কথায় বলা যায় পরিস্থিতি এখন স্থবির। সম্ভবত সংলাপ হবে বিবদমান সবপক্ষের জন্য এটাই একমাত্র খোলা পথ। জার্মানির পররাষ্ট্রমন্ত্রী এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্পকে কাতার পরিস্থিতির জন্য এক হাত নিয়েছেন। তিনি অস্ত্র প্রতিযোগিতা শুরু করাসহ ট্রাম্পের এই নীতির কঠোর সমালোচনা করেছেন। এটাও কম তাৎপর্যপূর্ণ নয়।
খুব সম্ভবত কাতারের প্রতিপক্ষে হার এখন ক্রমেই স্পষ্ট হতে থাকবে। রাশিয়া সফররত কাতারি পররাষ্ট্রমন্ত্রী যখন মিডিয়া সাক্ষাতে বলেন, ‘হামাস রাজনৈতিকভাবে এক বৈধ প্রতিরোধ আন্দোলন’-এর তাৎপর্য অনেক মজলুমের পক্ষে দুনিয়াব্যাপী মুসলমান জনগোষ্ঠী এই বয়ানের পক্ষে দাঁড়িয়ে গেছে ও যাবে।
লেখক : রাজনৈতিক বিশ্লেষক
[email protected]

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫