ঢাকা, সোমবার,২৬ জুন ২০১৭

পাঠক গ্যালারি

রহমত, বরকত, মাগফিরাতের মাস মাহে রমযান

মুহাম্মদ নিয়াজ মাখদুম শিবলী

০৮ জুন ২০১৭,বৃহস্পতিবার, ১৭:৩৮


প্রিন্ট

বছর ঘুরে আবার আমাদের মাঝে উপস্থিত হলো মাহে রমযান। মুসলমানদের জন্য সারা বছরের মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময় হচ্ছে রমযান মাস। রামযান মাস মুসলিম জাতির জন্য একটি ওয়ার্কশপ বা ট্রেনিংয়ের মাস। মানবজাতিকে সংযমী চরিত্রের অধিকারী করে গড়ে তোলার জন্য আল্লাহ তা’য়ালা যেসব মৌলিক ইবাদতের ব্যবস্থা করেছেন, মাহে রমযানের রোজা তার মধ্যে অন্যতম। রমযানের চাঁদ দেখা থেকে শুরু করে সাওয়ালের চাঁদ ওঠা পর্যন্ত আমরা মহান আল্লাহর নির্ধারিত একটি রুটিন অনুযায়ী আমাদের জীবন যাপন করে থাকি।

এই রমযান মাস কুরআন নাযিলের মাস। আর এই আল-কুরআন এর আদর্শ সমাজ জীবনে বাস্তবায়ন করার জন্য দরকার একদল ত্যাগী, উদ্যোগী মানুষ। আর এই মানুষ গড়ার জন্য আল্লাহপাক মাসব্যাপী এই কর্মসূচি গ্রহণ করেছেন। যেটি একটি অসাধারণ বিজ্ঞান সম্মত উপায় বা পন্থা। তাকওয়া ভিত্তিক চরিত্র গঠন ও কুরআনী হেদায়াত লাভ করাই এই রমযান মাসের আসল উদ্দেশ্য।

রমযান শব্দটি ‘রমজ’ থেকে উদগত। ‘রমজ’ অর্থ জ্বালিয়ে পুড়িয়ে ভষ্ম করে দেয়া। যেহেতু রমযানের রোজা গুনাহসমূহ, কুপ্রবৃত্তি, আত্মার সবরকম কলুষতা ও অপবিত্রতাকে জ্বালিয়ে ভষ্ম করে দেয়, সেহেতু এ মাসের নাম ‘রমযান’।
আবার অনেকে বলেছেন ‘রমজ’ অর্থ বসন্তকালীন বৃষ্টি। এ বৃষ্টি থেকে প্রকৃতির সবকিছুই যেমন উপকৃত হয়, তেমনি রমযান মাসের রহমত, বরকত ও মাগফিরাতের বৃষ্টি থেকেও কেউ বঞ্চিত হয় না।

অনেকের মতে, ‘রমযান’ আল্লাহপাকের একটি গুণবাচক নাম। এ ক্ষেত্রে ‘শাহরে রমযান’ অর্থ ‘আল্লাহর মাস’। এ মাসে রাত দিন মানুষ আল্লাহর ইবাদতে মশগুল থাকে বলে রমযানকে ‘আল্লাহর মাস’ নামে আক্ষায়িত করা হয়।

হিজরতের ১৮ মাস পরে, কিবলা পরিবর্তনের ১০ দিন পরে দ্বিতীয় হিজরীতে পবিত্র রমযানের রোজা ফরজ সম্বলিত আয়াত নাযিল হয়। আল্লাহপাক পবিত্র কুরআনের সূরা বাকারার ১৮৩নং আয়াতে বলেন:

‘হে ঈমানদারগণ তোমাদের উপর রোজা ফরজ করা হয়েছে যেমন তোমাদের পূর্ববর্তী নবীদের অনুসারীদের উপর ফরজ করা হয়েছিল। এ থেকে আশা করা যায়, তোমাদের মধ্যে তাকওয়ার গুণাবলী সৃষ্টি হয়ে যাবে’।

মহান আল্লাহপাক মানব জাতির উপর যেসব মৌলিক ইবাদত ফরজ করেছেন তার মধ্যে নামাজ এবং রোজা আবহমান কাল থেকে সব নবীর শরীয়তেই ফরজ করা হয়েছিল। অতীতের সব নবীর উম্মতগণই, শেষ নবী হযরত মুহাম্মদ (স:) এর উম্মতদের ন্যায় রোজা রাখতেন। অবশ্য রোজার হুকুম আহকাম, রোজার সংখ্যা এবং রোজার সময় বা মুদ্দতের ব্যাপারে বিভিন্ন নবীগণের শরীয়তে পার্থক্য পরিলক্ষিত হয়। আর রোজা ফরজ সম্বলিত আয়াতের দ্বারাও প্রমাণিত হয় যে, আল্লাহর তরফ থেকে যত শরীয়ত দুনিয়াতে নাযিল হয়েছে তার প্রত্যেকের শরীয়তেই রোজা রাখার নির্দেশ ও বিধি-ব্যাবস্থা ছিল।

শেষ নবী মুহাম্মদ (স:) হিজরতের আগে মাক্কি জীবনে এবং রোজার আয়াত অবতীর্ণ হওয়ার আগ পর্যন্ত প্রতিমাসে তিনটি রোজা রাখতেন। আর হযরত নূহ (আ:) এর যুগেও প্রতি মাসে তিনটি রোজা রাখার নির্দেশ ছিল যা হযরত মুহাম্মদ (সা:) এর উম্মতদের উপর পরিবর্তীত হয়।

হযরত হাসান বসরী (র) বলেন, পূর্ববর্তী উম্মতদের উপর পূর্ণ একমাস রোজা ফরজ ছিল। হযরত উমর (রা:) বলেন: পূর্ববর্তী উম্মত বলতে আহলে কিতাব উদ্দেশ্য, তাদের প্রতি নির্দেশ ছিল এশার নামাজ আদায় করার পর যখন তারা শুয়ে যেত তখন তাদের উপর পানাহার ও স্ত্রী সহবাস হারাম হয়ে যেত। আর তাদের উপরও রোজা রাখার অপারগতায় মিসকিনদের খাদ্য খাওয়ানোর বিধান ছিল।

পূর্ববর্তী নবীদের উপর নাযিলকৃত কিতাবে এবং অন্যান্য ধর্মেও রোজা রাখা বা উপবাস থাকার কথা উল্লেখ আছে।
হযরত মুসা (আ:) এর উপর নাযিলকৃত ‘তাওরাত’ গ্রন্থে রোজাকে ‘হাত্ব’ বলা হয়েছে।
হযরত ঈসা (আ:) এর উপর নাযিলকৃত ‘ইঞ্জিল’ গ্রন্থে রোজাকে ‘ত্বাব’ বলা হয়েছে।
হযরত দাউদ (আ:) এর উপর অবতীর্ণ ‘যাবুর’ গ্রন্থে রোজাকে ‘কোরবাত’ বলা হয়েছে।
হযরত মুহাম্মদ (সা:) এর উপর নাযিলকৃত ‘পবিত্র কুরআনে’ রোজাকে ‘সিয়াম’ বলা হয়েছে।
হযরত দাউদ (আ:) একদিন অন্তর অন্তর রোজা পালন করতেন।

বাইবেলের বর্ণনা মতে, যীশুখ্রীষ্ট রোজা পালন করতেন এবং তার অনুসারীদেরও তা পালনের নির্দেশ দিতেন। আর তাই খৃষ্টানগণ বছরে ৪০ দিন উপবাসব্রত পালন করে।

ইহুদীরা মূসা (আ:) এর সিনাই পর্বত থেকে অবতরণের স্মৃতি রক্ষার্থে বছরে ৪০ দিন উপবাস পালন করে।

প্রাচীন মিশরীয়দের ধর্মীয় আচার হিসেবে রোজা বা উপবাসব্রতের অস্তিত্ব লক্ষনীয়।

প্রাচীন গ্রীসে কেবল নারীদের জন্য উপবাসব্রতের বাধ্যবাধকতা ছিল।

পারস্য বা পারসিক ধর্মে উপবাসব্রতের বাধ্যবাধকতা ছিল কেবল ধর্মীয় পন্ডিতদের জন্য।

হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে জন্মাষ্টমি, শিবরাত্রী, আমাবস্যা, পূর্ণিমা, দুই একাদশি ইত্যাদি ক্ষেত্রে উপবাসব্রত পালনের বিধান লক্ষ্য করা যায়।

ব্রাহ্মণগণ প্রতিমাসের ১১ ও ১২ তারিখে অর্থাৎ বছরে ২৪ দিন উপবাসব্রত পালন করে।

তবে পূর্ববর্তী উম্মতদের উপর ফরজকৃত রোজার বিধান এবং আমাদের আদায়কৃত রোজার বিধানের মধ্যে তিনটি মৌলিক পার্থক্য রয়েছে। সেগুলো হচ্ছে :
১। রাসূল (স:) মদীনায় হিজরতের পরে প্রতিমাসে তিনটি রোজা (এ রোজা ফরজ ছিল না) এবং আশুরার রোজা রাখার নির্দেশ দেন। পরবর্তীতে যখন ‘তোমাদের উপর রোজা ফরজ করা হয়েছে’ আয়াত অবতীর্ণ হলো তখন পূর্বের নিয়ম রহিত হয়ে যায়।

২। প্রথম দিকে বিধান ছিল যে, যে চাইবে রোজা রাখবে, আর যে চাইবে না সে রোজার পরিবর্তে মিসকিনকে খাদ্য খাওয়াবে। কিন্তু যখন অবতীর্ণ হলো ‘যে ব্যাক্তি এ মাসের সাক্ষাত পাবে তার জন্য এই সম্পূর্ণ মাসটিতে রোজা রাখা অপরিহার্য’ (বাকারা-১৮৫) তখন পূর্ববর্তী বিধান রহিত বা বাতিল হয়ে গেল। অবশ্য এই বিধানটি রোজা ফরজ সংক্রান্ত আয়াত নাযিল হবার এক বছর পরে অবতীর্ণ হয়। কিন্তু রোগী, মুসাফির, গর্ভবর্তী মহিলা বা দুগ্ধপোষ্য শিশুর মাতা এবং রোজা রাখার ক্ষমতা নেই এমন সব বৃদ্ধের জন্য এ সুযোগটি আগের মত বহাল রাখা হয়।

৩। পূর্বে এশার নামাজ এবং রাতের খাবারের পরে ঘুমিয়ে যাবার সাথে সাথে রোজার বিধান অর্থাৎ খাবার খাওয়া ও সহবাস করার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা সম্বলিত কোনো সুস্পষ্ট নির্দেশ না থাকলেও লোকেরা এমনটি করা অবৈধ মনে করত। পরবর্তীতে রাসূল (স:) এর সময়ে হযরত সামরা (রা:) নামক একজন আনসারী সাহবীর মাধ্যমে রাতের বেলা খাবার খাওয়া এবং হযরত ওমর (রা:) এর মাধ্যমে সহবাসের বিধান রহিত হয়ে সুবহে সাদিকের আগ পর্যন্ত বর্ধিত করা হয়।
আল্লাহপাক বলেন: ‘রোজার সময় রাতের বেলায় স্ত্রীদের কাছে যাওয়া তোমাদের জন্য হালাল করে দেয়া হয়েছে...........। আর পানাহার করতে থাক যতক্ষণ না রাত্রির কালো রেখার বুক চিরে প্রভাতের সাদা রেখা সুস্পষ্ট ভাবে দৃষ্টি গোচর হয়। (বাকারা- ১৮৭)

মাহে রমযানে রোজা রাখার তাৎপর্য অপরিসীম। কেননা রাসূল (স:) বলেছেন: মানুষের প্রত্যেকটি কাজের ফল আল্লাহর দরবারে কিছু না কিছু বৃদ্ধি পায়; একটি নেক কাজের ফল দশগুণ হতে সাতশত গুণ পর্যন্ত বেশী হয়ে থাকে। কিন্তু আল্লাহ বলেন : রোজাকে এর মধ্যে গণ্য করা হবে না। কেননা রোজা খাছ করে কেবল আমারই জন্য রাখা হয়। আর আমিই এর প্রতিফল দেব।

এই হাদিসটি দ্বারা বুঝা গেল যে, নেক কাজের নিয়ত অনুসারে নেক কাজের ফল বৃদ্ধি করা হলেও এর একটি নির্দিষ্ট পরিসীমা আছে। কিন্তু রোজার ফল বৃদ্ধির কোনো শেষসীমা নির্দিষ্ট নেই। এর কারণ হচ্ছে- রোজা ছাড়া অন্য যেসব ইবাদত আছে, তা পালন করার জন্য কোনো না কোনো বাহ্যিক প্রকাশের আশ্রয় নিতে হয়। ঈমানের দাবি হলো অন্তরে বিশ্বাসের সাথে সাথে জনসম্মুখে ঘোষণা দিয়ে ঈমানের দাবিতে কর্মতৎপর হওয়া। নামায পড়ার সময় নামাযীকে উঠা-বসা ও রুকু সেজদা করতে হয় যা অন্য লোকেরা দেখতে পায়। হজ্ব করার জন্য দীর্ঘ পথ সফর করতে হয়, আর সেই সফরও করতে হয় হাজার হাজার মানুষের সাথে মিলে। যাকাত আদায়ের ব্যাপারেও অন্তত: পক্ষে দুজনকে জানতে হয়- একজন যাকাত দেয়, আর অন্যজন তা গ্রহণ করে। তাই এসব ইবাদতের কথা কারো কাছে গোপন রাখা যায় না। কিন্তু রোজা একমাত্র ইবাদত যার কথা আল্লাহ এবং রোজাদার ছাড়া অন্য কেউ জানতে পারে না। এক ব্যাক্তি যদি সবার সামনে সাহরি খায়, ইফতারে সময় সবার সাথে মিলে ইফতার করে আর দিনের বেলায় গোপনে কিছু খায় বা পান করে, তবে আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো পক্ষে জানা সম্ভব নয়।

রোজার এই দিকটি নিয়ে চিন্তা করলেই বুঝা যায়; রোজাদার একমাত্র আল্লাহকে ভয় করেই এমন কোনো কাজ করে না যাতে তার রোজা ভঙ্গ হয়ে যেতে পারে। রোজা পরকালের বিচারের প্রতি মানুষের আকীদা-বিশ্বাস দৃঢ় ও মজবুত করে। একমাস পর্যন্ত দৈনিক বারো-চৌদ্দ ঘণ্টা ধরে রোজা রেখে সম্পূর্ণ মাসে প্রত্যেক মুসলমানের ঈমানকে কমপক্ষে ৩৬০ ঘণ্টা সময়ে এক কঠিন পরীক্ষার সম্মুখিন হতে হয়। এই দীর্ঘ সময়ের মধ্যে পরকাল সম্পর্কে মানুষের মনে কখনো কোন ধরনের সন্দেহের সৃষ্টি হয় না।

এভাবে আল্লাহ তায়ালা প্রত্যেক বছর একমাস ধরে মুসলমানদের ঈমানের ধারাবাহিক পরীক্ষা নিয়ে থাকেন। এ পরীক্ষায় সে যখন পুরোপুরি উত্তির্ণ হয় তখন তার মধ্যে আল্লাহকে ভয় করে অন্যান্য গুনাহ থেকে ফিরে থাকার যোগ্যতা তৈরি হয়। রোজার আরেকটি বৈশিষ্ট্য হলো, রোজা মুসলামনদেরকে দীর্ঘকাল শরীয়তের হুকুম ধারাবাহিকভাবে পালন করার যোগ্য করে গড়ে তোলে।

মহান আল্লাহপাক রোজার এই হুকুম দেয়ার সাথে সাথে এর মূল উদ্দেশ্য সম্পর্কে বলেছেন: ‘সম্ভবত তোমরা মোত্তাকী বা পরহেজগার হতে পারবে’। এখানে আল্লাহপাক নিশ্চিতভাবে না বলে সম্ভবত বলেছেন; কারণ যে ব্যাক্তি রোজার উদ্দেশ্য জানবে না এবং তা অর্জনের জন্য চেষ্টা করবে না, রোজা দ্বারা তার কোনো উপকার হবারই আশা নেই।

রোজার মূল উদ্দেশ্য তাকওয়া ভিত্তিক জীবন যাপনে অভ্যস্ত হওয়া। আর তাকওয়া শব্দটির অর্থ বেঁচে থাকা, নিষ্কৃতি পাওয়া, মুক্তিলাভ করা প্রভৃতি। তাকওয়া অর্জন করার মূল অর্থ হচ্ছে জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিচরণ করতে গিয়ে মুমিন আল্লাহর অসন্তুষ্টি থেকে বাঁচার জন্য যে চেষ্টা-সাধনা করে এবং শাস্তিযোগ্য কার্যক্রম থেকে নিজেকে নিরাপদ দূরত্বে রাখে।
আর তার এই কার্যক্রমই তাকওয়া নামে অভিহিত হবার যোগ্য। এই তাকওয়ার অধিকারী বান্দার পরিচয় আল্লাহপাক পবিত্র কুরআনের সূরা বাকারার ২নং এবং ১৭৭নং আয়াতে দিতে গিয়ে বলেছেন: (১) তারা গায়েবের (যে বিষয় প্রত্যক্ষ জ্ঞান নেই, কিন্তু সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে) প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করে (২) সালাত কায়েম করে (৩) আল্লাহর দেয়া রিযিক থেকে খরচ করে (৪) শেষ নবী মুহাম্মদ (স) এবং তার পূর্ববর্তী নবী রাসূলদের উপর নাযিলকৃত কিতাবের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করে (৫) আখেরাতের প্রতি দৃঢ় বিশ্বাস স্থাপন করে (৬) ওয়াদা পূরণ করে (৭) ব্যাক্তিগত অসুবিধায়, বিপদ মুসিবতে এবং সত্যের সংগ্রামে বাতিলের সাথে প্রত্যেক সংঘাত মুহূর্তে সবর বা ধৈর্য্য অবলম্বন করে।

তাকওয়া ভিত্তিক জীবন যাপন করলে আল্লাহপাকের পক্ষ থেকে অফুরন্ত পুরস্কারের ঘোষণা দেয়া হয়েছে। পবিত্র কুরআনের অনেক আয়াতেই এই পুরস্কারের কথা বলা হয়েছে। আল্লাহপাক পবিত্র কুরআনের সূরা তালাকে ২ থেকে ৫নং আয়াতে বলেছেন। যারা আল্লাহকে ভয় করে জীবন যাপনের সিদ্ধান্ত নেবে-

১। দুনিয়ার বিপদ আপদ থেকে তাদের বাঁচানো হবে।
২। দুনিয়াতে এমন জায়গা থেকে রিযিকের ব্যবস্থা করে দেয় হবে যা তারা কল্পনাও করতে পারবে না।
৩। জীবনের সব কাজগুলোকে সহজ করে দেয়া হবে।
৪। জীবনের সকল গুনাহ গুলো থেকে নিস্কৃতি দেয়া হবে।
৫। কিয়ামতের কঠিন ময়দানে তাকে একটি বিরাট প্রতিদান বা উত্তম প্রতিদান দেয়া হবে।

সুতরাং আমাদের সবার কুরআন নাযিলের এই মহিমান্বিত মাস মাহে রমযানকে আত্মগঠন ও তাকওয়া অর্জনের মাস হিসেবে গ্রহণ করা উচিত। আর ইবাদতের বাইরের কাঠামো ও আনুষ্ঠানিকতাকেই আমরা অনেকে ইবাদত মনে করি; বরং প্রতিটি ইবাদতের আসল ভাবধারা ও মূল উদ্দেশ্যের দিকেই আমাদের বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। তবেই মুসলমানদের প্রতিটি কাজের মধ্যে স্বত:স্ফুর্তভাবে আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস ও আনুগত্য ফুটে উঠবে। আর এই রমযান মাসের রোজা আল্লাহপাকের পক্ষ থেকে এক অফুরন্ত নেয়ামত। আমরা যেন রমযান মাসের রোজাগুলো যথাযথ ভাবে আদায় করে মহান রবের নৈকট্য লাভ করতে পারি। আল্লাহপাক আমাদের সবাইকে সেই তাওফিক দান করুক। আ-মী-ন।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫