সেমিনারে বক্তারা

ব্লু-ইকোনমি থেকে অর্থনৈতিক সুবিধা অর্জনে আঞ্চলিক সমন্বয় জোরদার করতে হবে

নিজস্ব প্রতিবেদক

ব্লু-ইকোনমি থেকে অর্থনৈতিক সুবিধা অর্জনে বিমসটেক সদস্য দেশগুলোর মধ্যে আঞ্চলিক সমন্বয় জোরদার করতে হবে।
সিরডাপ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠিতব্য ‘ব্লু-ইকোনমি : বাংলাদেশ এবং বে-অব-বেঙ্গল রিজিওনাল কো-অপারেশন’ শীর্ষক সেমিনারে অংশ নেয়া রাজনৈতিক নেতা ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা এ অভিমত ব্যক্ত করেন।
বঙ্গোপসাগর কেন্দ্রিক তথা ব্লু-ইকোনমি বাস্তবায়ন এবং সেখান থেকে অর্থনৈতিক সুবিধা অর্জন করতে হলে বাংলাদেশসহ এবং বঙ্গোপসাগর কেন্দ্রিক সব সদস্য দেশকে মধ্যে আঞ্চলিক যোগাযোগ, অর্থনীতি এবং সাংস্কৃতিক বিষয়গুলো পূর্বীয়করণ (ঊংঃবৎহরুধঃরড়হ) করার আহ্বান জানানো হয়। তারা আরো বলেন, বঙ্গোপসাগর অঞ্চলের অর্থনীতি এবং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও ইতিহাস বহু বছরের পুরনো, যা বিমসটেক সদস্য দেশগুলো আঞ্চলিক সহযোগিতা এবং যোগাযোগ বৃদ্ধিতে উদ্বুদ্ধ করে এবং ব্লু-ইকোনমি বাস্তবায়নের মাধ্যমে এ অঞ্চলের জনগণের জন্য টেকসই অর্থনৈতিক সুবিধা নিশ্চিত করতে পারে।
আমেরিকান সেন্টারের সহযোগিতায় এবং কোস্ট ট্রাস্টের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত সেমিনারটি সঞ্চালনা করেন কোস্ট ট্রস্টের নির্বহিী পরিচালক রেজাউল করিম চৌধুরী। সেমিনারে সভাপতি ছিলেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়বিষয়ক সংসদীয় কমিটির সভাপতি ডা: দীপু মনি এমপি। প্রধান অতিথি ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নারায়ণ চন্দ্র চন্দ। বিশেষ অতিথি ছিলেন বিমসটেকের মহাসচিব রাষ্ট্রদূত সুমিত নাখান্দালা এবং রয়েল ভুটান অ্যাম্বাসির ফাস্ট সেক্রেটারি দোমাং, শ্রিলঙ্কান হাইকমিশনার ইয়াসুজা গুনাসেকারা, আমেরিকান সেন্টারর কূটনৈতিক কর্মকর্তা রেক্স মোজের, বাংলাদেশ নৌবাহিনীর ব্লু-ইকোনমি সেলের প্রধান কমডোর এ এ মামুন চৌধুরী, কোস্ট গার্ডের ক্যাপ্টেন মামুনুর রশীদ। এ ছাড়াও বক্তব্য দেনÑ খুলনা বিশ্ববদ্যালয়ের অধ্যাপক আফরোজা খাতুন, সিপিআরডির প্রধান সামসুদ্দোহা, দ্বীপ উন্নয়ন সংস্থার নির্বাহী পরিচালক রফিকুল ইসলামসহ নাগরিক সমাজের প্রতনিধিরা। সমিনারে ব্লু-ইকোনমি বিষয়ের ওপর মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের অধ্যাপক লইলুফার ইয়াসমিন এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মেরিন সায়েন্সের অধ্যাপক শাহাদাৎ হোসান। এর পাশাপাশি ব্লু-ইকোনমি বিষয়ে বিমসটেক সদস্য দেশগুলোর বিভিন্ন লেখকদের লেখার ওপর একটি সারাংশ উপস্থাপন করেন কোস্ট ট্রাস্টের পরিচালক সনৎ কুমার ভৌমিক।
প্রবন্ধ উপস্থাপনে অধ্যাপক শাহাদাৎ বলেন, ভবিষ্যৎ অর্থনীতির চালিকা শক্তি হতে পারে ব্লু-ইকোনমি। যদিও পাশের দেশগুলো চেয়ে বাংলাদেশের এ ক্ষেত্রে সক্ষমতার ঘাটতি রয়েছে। অধ্যাপক লইলুফার বলেন, একবিংশ শতাব্দী হচ্ছে আঞ্চলিক যোগাযোগ প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্র এবং আমাদের জ্ঞান ও অর্থনীতি পূর্বীয়করণের বিষয়। বিমসটেক হচ্ছে আমাদের জন্য এ ক্ষেত্রে একটি অপূর্ব সুযোগ।
আমেরিকার অ্যাম্বাসির রেক্স মেজার বলেন, বিমসটেক অঞ্চলে জনগণের মধ্যে যোগযোগ বৃদ্ধির ক্ষেত্রে আমেরিকান অ্যালামুনিদের এ উদ্যোগটি প্রশংসনীয়। ভুটান অ্যাম্বাসির দোমাং বলেন, আঞ্চলিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে বিসমটেক এবং বে অফ বেঙ্গল সদস্য দেশগুলোর মধ্যে উজ্জ্বল সম্ভাবনা রয়েছে। শ্রীলঙ্কান হাইকমিশনার বলেন, তার সরকারের অগ্রাধিকার বিষয় হচ্ছে ব্লু-ইকোনমি এবং সে ক্ষেত্রে আঞ্চলিক সহযোগিতার ক্ষেত্রগুলো খুঁজে দেখা হচ্ছে।
সেমিনারের সভাপতি ডা: দীপু মনি বলেন, সঠিক রাজনীতি এবং সঠিক নেতৃত্বের কারণেই আমরা বঙ্গোপসাগরের ওপর কর্তৃত্ব লাভ করতে পেরেছি। বিমসটেক সচিবালয় ঢাকায় স্থাপন করতে পেরেছি। একই সাথে এ রাজনীতির ধারা অব্যাহত থাকা উচিত। অন্য দিকে বিমসটেক মহাসচিব জনসুমতি নাখান্দালা বলেন, বে অফ বেঙ্গল দেশগুলোর মধ্যে আঞ্চলিক সহযোগিতার বিষয়টি নতুন নয়। এ অঞ্চলের ক্ষেত্রে ১৪টি সহযোগিতার বিষয় নির্ধারণ করা হয়েছে। ভারতের গোয়ায় অনুষ্ঠিত সম্মেলনে বিসমটেক নেতারা ব্লু-ইকোনমি এবং মাউন্টেন ইকোনমির ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। প্রতিমন্ত্রী নারায়ণ চন্দ্র চন্দ বলেন, সাগর কেন্দ্রিক টেকসই অর্থনীতির বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে আমদের সরকার অত্যন্ত সচেতন।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.